স্কুলে এআই ব্যবহার না করলে সার্চ ইঞ্জিনের সুবিধাও নয়! নতুন নিয়ম ঘিরে বিতর্কে গুগল
স্কুলে এআই নিষিদ্ধ করলেই পড়ুয়াদের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে গুগ্ল সার্চও! কড়া বার্তা দিল টেক জায়ান্ট গুগ্ল। বিশ্বজুড়ে শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের ক্ষোভ তুঙ্গে।
ক্লাসরুমে এআই নিয়ে বাড়তি কড়াকড়ি করলে বড়সড় বিপাকে পড়তে পারে স্কুলগুলি। স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি এআই টুল (AI Tools) ব্যবহারের অনুমতি না দেয়, তা হলে পড়ুয়াদের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে সার্চ ইঞ্জিনও, সম্প্রতি এই ঘোষণা করেছে টেক সংস্থা গুগল (Google)। একই সঙ্গে স্কুলের ক্লাসরুমে এআই ব্যবহারের জন্য একাধিক নতুন পরিষেবা আনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে (Schools Google Search Ban)। শিক্ষাবিদ, অভিভাবক এবং শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলির একাংশের অভিযোগ, এআই ব্যবহারে স্কুলগুলিকে কার্যত বাধ্য করতে চাইছে গুগল।
গুগলের তরফে জানানো হয়েছে, এত দিন স্কুল কর্তৃপক্ষের জন্য এআই পরিষেবা চালু রাখাই ছিল সাধারণ নিয়ম। চাইলে তারা সেই পরিষেবা বন্ধ করতে পারত। গুগলের শিক্ষা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস ফিলিপস একটি ব্লগ পোস্টে জানিয়েছেন, শিক্ষক, গবেষক ও নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার পর তাঁরা জেমিনাই (Gemini), জেমিনাই নোটবুক এবং গুগ্ল সার্চের নিয়মে বদল আনছেন। প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (K-12) পর্যন্ত পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে এই ফিচারগুলি আগে থেকেই বন্ধ থাকবে। স্কুলের প্রশাসনিক কর্তারা ম্যানুয়ালি সম্মতি দিলে বা ‘অন’ করলেই কেবল পড়ুয়ারা তা ব্যবহার করতে পারবে।
কিন্তু বিতর্ক তৈরি হয়েছে গুগলের অন্য একটি শর্তকে ঘিরে। ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিলিপস স্পষ্ট জানান, এআই ছাড়া গুগল সার্চের কোনও পৃথক অস্তিত্ব নেই। সার্চ ইঞ্জিন ও এআই এখন একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। ফলে কোনও স্কুল যদি এআই-এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে, তবে পড়ুয়ারা আর গুগল সার্চও ব্যবহার করতে পারবে না। সার্চ করতে গেলে স্ক্রিনে ভেসে উঠবে যে পরিষেবাটি স্কুলের তরফে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি স্কুলে এআই ব্যবহারের বিরোধিতা জোরালো হয়েছে। গত অগস্টে গুগল ঘোষণা করেছিল, গুগল ক্লাসরুম ব্যবহার করা বহু স্কুলপড়ুয়ার জন্য জেমিনি চ্যাটবট চালু করা হয়েছে। তারপর থেকেই অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, একচেটিয়া বাজার দখলের সুযোগ নিয়ে স্কুলগুলির উপর কার্যত জোর খাটাচ্ছে টেক জায়ান্টটি। মহলের একাংশের অভিযোগ, শিশুদের শিক্ষার চেয়ে ভবিষ্যতের গ্রাহক তৈরি ও ব্র্যান্ড আনুগত্য বাড়ানোই গুগলের আসল উদ্দেশ্য। তিনি স্কুলগুলিকে অবিলম্বে এআই বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিও গুগলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, শিক্ষাঙ্গনে এআই-এর প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রযুক্তি সংস্থা ও স্কুল কর্তৃপক্ষের সংঘাত এখন চরমে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0