১৫টি নথি কাজে এল না, নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ! অসমের বাসিন্দাকে শেষে ‘বিদেশি’ই বলল আদালত
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায়ের পর সাংবাদিক বৈঠকেই বাবার মৃত্যুসংবাদ পেলেন ডিআর কঙ্গোর কোচ সেবাস্তিয়াঁ দেসাব্র। শোকস্তব্ধ ফুটবলবিশ্ব।
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বকাপের স্বপ্ন নিভে যায় মাঠে। কিছুক্ষণ বাদে নেমে আসে আরও বড় ধাক্কা। ইংল্যান্ডের কাছে হেরে সাংবাদিক বৈঠকে বসেছিলেন কঙ্গোর কোচ সেবাস্তিয়াঁ দেসাব্র (DR Congo Coach Father Death)। সেখানেই জানতে পারেন, তাঁর বাবা প্রয়াত হয়েছেন! দলের প্রেস অফিসারই তাঁকে সেই খবর দেন। কয়েক মুহূর্ত নিশ্চুপ, স্তব্ধ দেসাব্র। মুখের অভিব্যক্তিতেই ধরা পড়ে আকস্মিক আঘাত ও শোকের গভীরতা (England vs DR Congo)। তবু নিজেকে সামলে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সাংবাদিক বৈঠক শেষ করেন তিনি।
বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে ডিআর কঙ্গো দীর্ঘ সময় ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল (FIFA World Cup 2026)। ৭৫ মিনিটে হ্যারি কেন সমতা ফেরান। ৮৬ মিনিটে তাঁর দ্বিতীয় গোলেই ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোয় ওঠে ইংল্যান্ড (World Cup Knockout Stage)। আর সেখানেই শেষ হয় কঙ্গোর স্বপ্নের অভিযান।
সাংবাদিক বৈঠকেই এল মৃত্যুসংবাদ
খেলা শেষ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন সেবাস্তিয়াঁ দেসাব্র (Sebastien Desabre Press Conference)। মাঠের পাট চুকলেও তখনও তিনি জানতেন না, ব্যক্তিগত জীবনে আরও বড় দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে। বৈঠক চলাকালীন দলের প্রেস অফিসার হঠাৎ করে তাঁকে তাঁর বাবার মৃত্যুর খবর জানান। যা শোনার পর দেসাব্র চুপ মেরে যান। তাঁর মুখের অভিব্যক্তিই সবটুকু বুঝিয়ে দেয় (DR Congo Football Team)। যদিও এতটুকু শোক কিংবা অন্য আবেগ প্রকাশ না করে তিনি নিজেকে সংযত রাখেন। সবশেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে শান্তভাবে ইতি টানেন বৈঠকে।
হারলেও ইতিহাস লিখল কঙ্গো
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও দেসাব্রের নেতৃত্বে ডিআর কঙ্গো একাধিক নতুন ইতিহাস লিখেছে। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে খেলল আফ্রিকার দেশটি। শুধু অংশগ্রহণই নয়। প্রথম গোল, প্রথম জয় এবং প্রথমবার নকআউট পর্বে ওঠার কৃতিত্ব এল তাঁর কোচিংয়েই। ইংল্যান্ড ম্যাচেও কঙ্গো দীর্ঘ সময় লড়াই চালায়। ৭৫ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার কাছে তাদের পরাস্ত হতে হয়য়। পরের ধাপে না গেলেও টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের হার-না-মানা পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে।
গোলরক্ষক এমপাসির লড়াইও আলোচনায়
বিশেষ ভাবে বলতে হয় কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির কথা। ম্যাচে একের পর এক সেভ করে ইংল্যান্ডকে চাপে রাখেন। কখনও ডান হাতে, কখনও বাঁ-হাতে, আবার কখনও শরীর ছুড়ে দিয়ে একাধিক নিশ্চিত গোল বাঁচান তিনি। এক পর্যায়ে তো পারফরম্যান্সে মুগ্ধ জুড বেলিংহ্যাম এগিয়ে গিয়ে এমপাসিকে জড়িয়েও ধরেন।
তবে শেষ পর্যন্ত হ্যারি কেনকে আটকানো যায়নি। জোড়া গোলে খেলার উপসংহারটুকু তিনিই টানেন। ম্যাচ শেষে এমপাসির বক্তব্য, ‘আমি আমার পুরো শরীরটাই বিজ্ঞানের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা জানতাম, হ্যারি কেন অসাধারণ স্ট্রাইকার। ওকে আটকে রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য। দুর্ভাগ্য, দু'বার আমরা ওর দিকে একটু কম নজর দিই, আর শেষমেশ তারই মূল্য দিতে হয়!’
শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড শেষ ষোলোয় উঠল ঠিকই। কিন্তু ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপ অভিযান এবং কোচ সেবাস্তিয়াঁ দেসাব্রের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি—দুটি ঘটনা একই দিনে বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে রইল।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)