আজকের মধ্যে না সরালে তিন গুণ জরিমানা! পুজোর বিজ্ঞাপন নিয়ে বড় নির্দেশ কলকাতা পুরসভার

পুজোর বিজ্ঞাপন সরাতে আজই শেষ দিন, নির্দেশ অমান্য করলে তিন গুণ জরিমানার মুখে কলকাতার বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলি

Oct 28, 2026 - 14:54
আজকের মধ্যে না সরালে তিন গুণ জরিমানা! পুজোর বিজ্ঞাপন নিয়ে বড় নির্দেশ কলকাতা পুরসভার

কলকাতা | ২৮ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপুজো শেষ হলেও শহরের রাস্তা থেকে এখনও সরেনি বহু বিজ্ঞাপনের ব্যানার, ফ্লেক্স ও হোর্ডিং। কোথাও কোথাও বিজ্ঞাপন লাগানোর বাঁশের কাঠামোও রয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কড়া পদক্ষেপ করল কলকাতা পুরসভা। বুধবার, ২৮ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত অস্থায়ী পুজোর বিজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট কাঠামো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশ না মানলে বিজ্ঞাপনের নির্ধারিত হারের তিন গুণ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি পুরসভা নিজে বিজ্ঞাপন সরালে সেই খরচও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আদায় করা হবে।

পুরসভার এই নির্দেশের ফলে পুজো উদ্যোক্তা ও বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলির উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা, ফুটপাত ও রাস্তা চলাচলের উপযোগী করা এবং অস্থায়ী কাঠামো থেকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।

কেন এমন কড়া নির্দেশ কলকাতা পুরসভার?

প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সময় কলকাতার বিভিন্ন রাস্তা, মোড় ও পুজোমণ্ডপের আশপাশে প্রচুর বিজ্ঞাপনের ব্যানার, ফ্লেক্স এবং হোর্ডিং লাগানো হয়। পুজো শেষ হওয়ার পরেও সেগুলির অনেকগুলি দীর্ঘদিন থেকে যায়। ফলে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচল ও যানবাহনের গতিতেও সমস্যা তৈরি হয়।

বিশেষ করে রাস্তার ধারে পড়ে থাকা বাঁশের কাঠামো ঝড়-বৃষ্টি বা প্রবল হাওয়ায় ভেঙে পড়লে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এই সমস্যা এড়াতেই এ বার বিজ্ঞাপন সরানোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে পুরসভা।

কোন কোন বিজ্ঞাপন সরাতে হবে?

পুরসভার নির্দেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে—

  • পুজোর জন্য লাগানো অস্থায়ী বিজ্ঞাপনের ব্যানার ও ফ্লেক্স।

  • রাস্তার পাশে থাকা বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং।

  • বিজ্ঞাপন ঝোলানোর জন্য তৈরি বাঁশের কাঠামো ও অস্থায়ী ফ্রেম।

  • বিজ্ঞাপনের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য অস্থায়ী কাঠামো।

এই দায়িত্ব মূলত সংশ্লিষ্ট পুজো উদ্যোক্তা ও বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলির। সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ না হলে পুরসভা নিজেই বিজ্ঞাপন সরানোর উদ্যোগ নিতে পারে।

কোথায় এখনও রয়ে গিয়েছে বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং?

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, মানিকতলা, খান্না, শ্যামবাজার, মৌলালি, ইএম বাইপাসের কয়েকটি অংশ, পাটুলি ও গড়িয়ার কিছু এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞাপন সরানো হয়েছে।

তবে গোলপার্ক, ঢাকুরিয়া, টালিগঞ্জ, যাদবপুর ও বেহালার বিভিন্ন জায়গায় এখনও কিছু হোর্ডিং রয়ে গিয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি বিজ্ঞাপন সরানোই এখন পুরসভার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞাপন সরানো না হলে কী শাস্তি?

পুরসভার নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন সংস্থা বা পুজো উদ্যোক্তাদের আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। বিজ্ঞাপনের নির্ধারিত হারের তিন গুণ পর্যন্ত জরিমানা করার কথা জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি পুরসভার কর্মীরা বিজ্ঞাপন ও কাঠামো সরালে সেই কাজের খরচও সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছ থেকে আদায় করা হতে পারে।

এ বছর পুজোর বিজ্ঞাপন লাগানোর জন্য পুরসভার কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি নেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছিল। কোথায় কোন পুজো কমিটি বিজ্ঞাপন লাগানোর অনুমতি নিয়েছে, সেই তথ্য পুরসভার কাছে থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে চিহ্নিত করা সহজ হতে পারে।

শহর পরিষ্কার রাখতেই এই উদ্যোগ

কলকাতার রাস্তা ও ফুটপাতকে চলাচলের উপযোগী রাখা পুরসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পুজোর সময় সাময়িকভাবে তৈরি হওয়া বিজ্ঞাপনের কাঠামো উৎসব শেষ হওয়ার পর দ্রুত সরানো গেলে নাগরিকদের অসুবিধা কমবে।

পুরসভার এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিজ্ঞাপন সরানো এবং নিয়ম না মানলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার উপর। শহরের পরিচ্ছন্নতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজ্ঞাপন সংস্থা এবং পুজো উদ্যোক্তাদের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0