ইএমআই বাকি থাকলেও মাঝরাতে আর ফোনে ধমক নয়! রিকভারি এজেন্টদের লাগাম পরাল RBI, মিলবে ক্ষতিপূরণও
ইএমআই বাকি থাকলেও রাত ৭টার পর আর ফোন বা হুমকি নয়। রিকভারি এজেন্টদের জন্য কড়া নতুন নির্দেশিকা জারি করল RBI। নিয়ম ভাঙলে ব্যাঙ্ককেও দিতে হবে ক্ষতিপূরণ।
ঋণের কিস্তি (EMI) দিতে দেরি হলেই মাঝরাতে ফোনে অশালীন হুমকি, পরিচয় গোপন রেখে ভয় দেখানো বা অফিসে ও আত্মীয়দের কাছে গিয়ে অপমান করার ঘটনা দেশে নতুন নয়। এবার এই সমস্ত গুণ্ডামি ও মানসিক হয়রানি বন্ধে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ঋণ আদায়ের নামে কোনো গ্রাহকের সম্মান বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় আঘাত হানা চলবে না।
নিয়ম ভাঙলে শুধু রিকভারি এজেন্টদের ব্ল্যাকলিস্ট করাই নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও চড়া খেসারত ও ক্ষতিপূরণ গুনতে হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই নতুন কড়া নির্দেশিকা কার্যকর হতে চলেছে।
যেসব কাজ সম্পূর্ণ নিষেধ করল RBI
নতুন নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনও রিকভারি এজেন্ট বা ব্যাঙ্ককর্মী—হুমকি, অশালীন ভাষা প্রয়োগ বা মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারবেন না। অচেনা বা লুকোনো নম্বর থেকে গ্রাহককে ভয় দেখাতে পারবেন না। আত্মীয়, প্রতিবেশী বা অফিসের সহকর্মীদের ফোন করে কিংবা তাঁদের মাধ্যমে চাপ তৈরি করতে পারবেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রাহকের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে সম্মানহানি করতে পারবেন না। মিথ্যা আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেফতারের কাল্পনিক ভয় দেখানো সম্পূর্ণ বেআইনি।
কখন ও কীভাবে যোগাযোগ করা যাবে?
কাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ছাড়া গ্রাহকের সঙ্গে কোনওভাবেই যোগাযোগ করা যাবে না। একমাত্র গ্রাহক নিজে সম্মতি দিলে এই সময়ের বাইরে কথা বলা সম্ভব।
কোনও এজেন্টকে প্রথমবার বাড়িতে পাঠানোর অন্তত ১ দিন আগে ব্যাঙ্ককে মেসেজ বা ইমেলের মাধ্যমে গ্রাহককে জানাতে হবে।
পরিচয়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের অনুমোদনপত্র ছাড়া কোনও রিকভারি এজেন্ট গ্রাহকের বাড়ির চৌকাঠে পা রাখতে পারবেন না।
ঋণ সংক্রান্ত সমস্ত যোগাযোগের কল রেকর্ড ব্যাঙ্ককে কমপক্ষে ৬ মাস সংরক্ষণ করতে হবে।
সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হল—কোনও রিকভারি এজেন্ট ব্যাঙ্কের নীতি বা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশিকা অমান্য করে গ্রাহককে মানসিক বা সামাজিক হয়রানি করলে, সংশ্লিষ্ট গ্রাহক বা জামিনদারকে (Guarantor) উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ (Compensation) দিতে বাধ্য থাকবে ব্যাঙ্ক। প্রতিটি ব্যাঙ্ককে এর জন্য নিজস্ব বিশেষ বোর্ড-অনুমোদিত নীতি ও অভিযোগ নিষ্পত্তি পোর্টালে (Grievance Redressal Mechanism) আধিকারিকের বিবরণ দিতে হবে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বার্তা স্পষ্ট—ব্যাঙ্কের টাকা ফেরতের অধিকার থাকলেও, তা আদায়ের নামে কোনো নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার ক্ষুণ্ণ করা বরদাস্ত করা হবে না।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)