'খয়রাতির খেতাব চাই না', 'ট্রফিগুলো ডাস্টবিনে যাক!' ম্যান সিটির মেগা জোচ্চুরিতে রাগে ফুঁসছেন রুনি-কিন
ম্যান সিটির জালিয়াতি প্রমাণিত হতেই ক্ষোভে ফুঁসছেন রয় কিন ও রুনি। সিটির খেলোয়াড় হলে পদক ডাস্টবিনে ফেলতেন, দাবি কিনের। আর রুনির নিদান, ওদের সোজা লিগ টুতে নামিয়ে দেওয়া হোক।
খাতায়-কলমে কোটি কোটি টাকার গালভরা স্পনসরশিপ। বাস্তবে পুরোটাই মালিকের পকেট থেকে আসা চোরাই টাকা!
ম্যানচেস্টার সিটির (Manchester City) ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডের জালিয়াতি ফাঁস হতেই তোলপাড় ফুটবলবিশ্ব। সিটির শাস্তি হলে কি পুরনো ট্রফিগুলো রানার্স দলগুলোর হাতে উঠবে? ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রিও ফার্ডিনান্ড বা ডেভিড দে গিয়াদের অনেকেই আশায় বুক বাঁধছেন। কিন্তু ওয়েন রুনি বা রয় কিনের মতো কিংবদন্তিরা হাঁটলেন সম্পূর্ণ উল্টো পথে। শ্লেষ আর ক্ষোভে রীতিমতো ফুঁসে উঠলেন দু'জনেই।
ডাস্টবিনে যাক চুরির পদক!
ম্যান সিটির জালিয়াতি নিয়ে প্রাক্তন ইউনাইটেড অধিনায়ক রয় কিনের মন্তব্য বরাবরের মতোই চাঁছাছোলা। আইটিভি স্পোর্টসকে তিনি সাফ জানিয়েছেন, সিটির ফুটবলারদের জায়গায় থাকলে তিনি ঠিক কী করতেন। কিনের কথায়, 'আমি ফুটবলার হলে একশো শতাংশ নিশ্চিত, ওই পদকগুলো সোজা ডাস্টবিনে ফেলে দিতাম। অবশ্যই দিতাম, কারণ এটা স্রেফ জোচ্চুরি।' তাঁর মতে, খেলোয়াড়দের যাবতীয় সাফল্য অর্থহীন। কিনের তোপ, 'মাঠে ওরা জিতেছে, কারণ মাঠের বাইরে দিনের পর দিন এই জোচ্চুরিটা চলছিল।'
খয়রাতির পদক চানা না রুনি
২০১১-১২ মরশুমে সিটির কাছেই লিগ খেতাব খুইয়েছিল ইউনাইটেড। সিটি নির্বাসিত হলে সেই পদক পাওয়ার সুযোগ রয়েছে রুনির সামনে। কিন্তু তিনি এই 'খয়রাতির' পদক নিতে নারাজ। পডকাস্টে রুনি স্পষ্ট বলেন, 'সত্যি বলতে, অন্য কারও জেতা প্রিমিয়র লিগ পদক নিতে আমার বিন্দুমাত্র স্বস্তি হবে না। কারণ আমরা ওই সিজনে লিগ জেতার মতো কিছুই করিনি।' রুনির মতে, মাঠের লড়াইয়ে না জিতে ১৫ বছর পর অন্যের চুরির দায়ে পাওয়া পদক নেওয়ার কোনও মানে দাঁড়ায় না।
শাস্তি হোক কড়া, নামুক লিগ টু-তে
পদক না চাইলেও সিটির কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন রুনি। তাঁর নিদান, ব্লু ম্যানচেস্টারকে সরাসরি অবনমিত করা হোক (Premier League Charges)। রুনির কথায়, 'আমি চাই সবচেয়ে নিচু লিগে নামিয়ে দেওয়া হোক। এমনকী ওদের খরচের উপরও কড়া নিষেধাজ্ঞা চাপানো উচিত। সোজা চ্যাম্পিয়নশিপে নামালে ওরা ঠিক ফিরে আসবে। তাই লিগ টু-তে নামিয়ে পরের তিন বছর ২০ পয়েন্ট করে কেটে নেওয়া দরকার। তাহলে কোনও খেলোয়াড় আর ওই ক্লাবে থাকতে চাইবে না।'
নেপথ্যের জালিয়াতি
উল্লেখ্য, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রায় এক দশক ধরে ভুয়ো চুক্তির মাধ্যমে ক্লাবে বিপুল বেআইনি অর্থ ঢেলেছে সিটির আবু ধাবির মালিকপক্ষ। প্রিমিয়র লিগ ও উয়েফার ফিনান্সিয়াল ফেয়ার প্লে (Financial Fair Play) নিয়ম বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বোনা হয় বিশাল জালিয়াতির জাল। স্বাধীন কমিশনের তদন্তে সেই জোচ্চুরিই এখন দিনের আলোয়। জালিয়াতির অঙ্ক নেহাত কম নয়। প্রায় ৮৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের স্পনসরশিপ ফান্ডের আড়ালে পুরোটাই ছিল ছদ্মবেশী লগ্নি। যার জেরে এখন চূড়ান্ত শাস্তির খাঁড়া ঝুলছে ম্যান সিটির মাথায় (Football News)।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)