'ইনফ্লুয়েন্সার হন, প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছাড়ুন', মোদীকে কটাক্ষ 'আরশোলা' দিপকের
কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে একাধিক প্রসঙ্গে নানা অভিযোগ তুলেছেন দিপকে। দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর ছররা গুলি ও বলপ্রয়োগের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন তিনি।
নিট (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক এবং দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র কটাক্ষ করলেন 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। প্রধানমন্ত্রীকে 'ইনফ্লুয়েন্সার' হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি পদত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর মহারাষ্ট্রে নিজের বাড়ি ফিরেছেন দিপকে। আর তারপরই তিনি একহাত নেন প্রধানমন্ত্রীকে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট করা ভিডিও বার্তা প্রসঙ্গে সিজেপির অন্যতম নেতা বলেন, "আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রী মোদীর এখন ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে যাওয়া উচিত। তিনি সত্যিই খুব ভাল কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ওঁর এবার সরে দাঁড়ানো উচিত, যাতে অন্য কোনও যোগ্য নেতা দেশ চালানোর কাজটা সঠিকভাবে সামলাতে পারেন।" এদিকে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হলেও বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ আন্দোলনকারী ছাত্রদের বাড়ি গিয়ে হেনস্থা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দিপকে। তিনি সাফ জানান, সরকার যেন আন্দোলন স্থগিত হওয়াকে ক্ষোভের সমাপ্তি বলে মনে না করে।
এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে একাধিক প্রসঙ্গে নানা অভিযোগ তুলেছেন দিপকে। দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর ছররা গুলি ও বলপ্রয়োগের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, "প্রতিশ্রুতির ৩ দিনের মধ্যে আদালতের প্রথম শুনানিতেই সিবিআই-এর আইনজীবী অনুপস্থিত ছিলেন, যার ফলে মামলা পিছিয়ে গেল। এটাই কি প্রতিশ্রুতি রক্ষার নমুনা?"
এই পরিপ্রেক্ষিতেই আগামী দিনে আরও বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন দিপকে। তাঁর সাফ কথা, "ছাত্ররা কোনও জঙ্গি নয়, এরা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে যেভাবে ইস্তফা দিতে হয়েছে, সরকার যদি এখনও সঠিক পথে না হাঁটে, তবে আগামীতে আমরা সরকার বদল করার জায়গায় চলে যাব। প্রয়োজনে আরও অনেক বড় মাপে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।"
এদিকে পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়া আটকানোই এখন দিল্লি পুলিশের মূল লক্ষ্য। যন্তর মন্তরে ইতিমধ্যে বিশাল সংখ্যক পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা যাতে নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যেতে না পারে, তার জন্য রাস্তার দু'পাশের বিশাল সব ধাতব ব্যারিকেডগুলো একে অপরের সঙ্গে লোহা দিয়ে ওয়েল্ডিং করে জোড়া হচ্ছে।
আইনি লড়াইয়ের জন্য তৈরি হচ্ছে সিজেপি-ও। যারা মিথ্যা মামলায় ফেঁসেছেন, তাদের সাহায্য করতে 'SAAKSHI' নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও দেশব্যাপী লিগ্যাল এইড সেল চালু করা হয়েছে। এই আইনি লড়াইয়ের কাজে সহায়তার জন্য রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল ১ কোটি টাকার বিশেষ ফান্ড দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)