‘ওটা সর্বভারতীয় নেই, এখন কালীঘাট তৃণমূল’! বিধানসভায় শুনতে হল শোভনদেবকে, রাখলেন না বক্তব্য
বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস পরিস্থিতি শান্ত করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে তাঁর নির্ধারিত বক্তব্য শুরু করার জন্য অনুরোধ জানান। কিন্তু শাসক দলের ‘কালীঘাট তৃণমূল’ কটাক্ষে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই পরিস্থিতিতে তিনি আর কোনও বক্তব্য রাখবেন না।
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে (West Bengal Budget Session 2026) তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের কোন্দলকে কেন্দ্র করে ফের একবার পারদ চড়ল। সোমবার পেশ হওয়া গুন্ডাদমন বিলের (Anti Social Activities Bill 2026) ওপর আলোচনার সময় কালীঘাটপন্থী তৃণমূল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের পারস্পরিক বিরোধ ফের একবার প্রকাশ্যে চলে আসায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শাসক দলের বিধায়কদের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মুখে পড়তে হয় প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে (Sovandeb Chattopadhyay), যার জেরে তিনি নিজের বক্তব্য রাখতেই অস্বীকার করেন।
বিধানসভা অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট বিলটি নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধী শিবিরের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করা হয়েছিল। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোন কোন বিধায়ক বক্তব্য রাখবেন, তার একটি তালিকা বিরোধী দলের মুখ্য সচেতকের সচিবালয় থেকে বিধানসভার অধ্যক্ষের দফতরে জমা দেওয়া হয়। ঋতব্রত শিবিরের মুখ্য সচেতকের জমা দেওয়া সেই বক্তার তালিকায় কালীঘাটপন্থী শিবিরের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম রাখা হয়েছিল।
সূচি অনুযায়ী বিলের আলোচনায় নিজের বক্তব্য রাখার জন্য যখন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ওঠেন, তখনই নাটকের সূত্রপাত হয়। তিনি নিজের মূল বক্তব্য শুরু করার আগেই স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়, আমি বিলের বিষয়ে বলার আগে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘পয়েন্ট অফ অর্ডার’ (Point of Order) তুলতে চাই।” এর পরেই নিজের দলের পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি যোগ করেন, “আমরা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের...” ঠিক এই কথাটি উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গেই শাসকদলের বিধায়কদের আসন থেকে তীব্র হইহট্টগোল ও চূড়ান্ত কটাক্ষ শুরু হয়ে যায়।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, খোদ রাজ্যের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীকে প্রকাশ্যেই ব্যঙ্গ করে বলতে শোনা যায়, “নিজেদের ঘরের ঝামেলা আগে নিজেদের ঘরে গিয়ে মেটান, বিধানসভার সময় নষ্ট করবেন না!” একই সুর মিলিয়ে শাসক শিবিরের অন্য বেশ কয়েকজন বিধায়ক চেঁচিয়ে বলতে থাকেন, “ওটা আর সর্বভারতীয় দল নেই, ওটার নাম এখন ‘কালীঘাট তৃণমূল’!”
শাসক ও বিরোধীদের এই নজিরবিহীন তরজার মাঝেই পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ। তিনি প্রবীণ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি এই সদনের দীর্ঘদিনের এবং প্রবীণ সদস্য। বিধানসভার সমস্ত নিয়মকানুন আপনার নখদর্পণে। আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে, বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক (আখরুজ্জামান) যে তালিকা জমা দেন, সেই অনুযায়ীই স্পিকারের দফতর থেকে বক্তাদের নাম ঘোষণা করা হয়। এখানে শাসকদলের বা সরকারের কিছু করার বা হস্তক্ষেপ করার এক্তিয়ার নেই। আপনার যদি দলের নাম বা তালিকা নিয়ে কোনও আপত্তি থাকে, তবে আপনি বরং এই বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলের মুখ্য সচেতকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন।”
পরিষদীয় মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস পরিস্থিতি শান্ত করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পুনরায় তাঁর নির্ধারিত বক্তব্য শুরু করার জন্য অনুরোধ জানান। কিন্তু শাসক দলের ‘কালীঘাট তৃণমূল’ কটাক্ষে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই পরিস্থিতিতে তিনি আর কোনও বক্তব্য রাখবেন না। সেই সময় একই বেঞ্চে থাকা কালীঘাট শিবিরের কুণাল ঘোষকে তড়িঘড়ি শোভনদেবের আসনের কাছে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। কুণাল তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং দলের পক্ষে বক্তব্য রাখার জন্য বারবার অনুরোধ করতে থাকেন। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে বক্তব্য রাখতে অস্বীকার করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অধ্যক্ষ আর সময় নষ্ট না করে বিলের আলোচনার পরবর্তী বক্তা হিসেবে শাসকদলের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালকে তাঁর বক্তব্য পেশ করার জন্য আহ্বান জানান।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)