বিমানের টিকিট বাতিল করে ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন, Freedom Beyond Midnight-এ পা মেলালেন জয়া
বালিগঞ্জ শিক্ষা সদনের সামনে থেকে শুরু হয় এই বিশেষ পদযাত্রা। গড়িয়াহাট ফ্লাইওভার হয়ে গোলপার্ক ঘুরে ফের বালিগঞ্জ শিক্ষা সদনের সামনে এসে শেষ হয় ওয়াকাথন। প্রায় ৫ হাজার মহিলা রাতের কলকাতার রাজপথে একসঙ্গে পা মেলান।
ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাতের কলকাতার রাজপথ হাঁটলেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। ১৪ আগস্ট রাতে দ্য ওয়াল-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘Freedom Beyond Midnight’ পদযাত্রায় অংশ নিলেন তিনি। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের একটি ফোনেই নিজের বিমানের টিকিট বাতিল করেন অভিনেত্রী। এদিনই তাঁর দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মহিলাদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং সমমর্যাদার বার্তা দেওয়া এই উদ্যোগের ডাক ফেরাতে পারেননি জয়া।
বালিগঞ্জ শিক্ষা সদনের সামনে থেকে শুরু হয় এই বিশেষ পদযাত্রা। গড়িয়াহাট ফ্লাইওভার হয়ে গোলপার্ক ঘুরে ফের বালিগঞ্জ শিক্ষা সদনের সামনে এসে শেষ হয় ওয়াকাথন। প্রায় ৫ হাজার মহিলা রাতের কলকাতার রাজপথে একসঙ্গে পা মেলান। তাঁদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়—‘My City, My Right/ Freedom Beyond Midnight’। বার্তা একটাই—স্বাধীনতা কোনও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়, স্বাধীনতা সর্বক্ষণের।
এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন টলিপাড়ার একাধিক তারকা। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, চৈতি ঘোষাল, ইন্দ্রাণী হালদার, ইমন চক্রবর্তী, পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়, লাজবন্তী রায়, ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়, মৌবনী সরকার, মুমতাজ সরকার, রিচা শর্মা, সায়ন্তনী গুহঠাকুরতা, দেবাদৃতা বসু, স্বর্ণালী কাঞ্জিলাল, সুচন্দ্রা ভানিয়া সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব পা মেলান।
‘Freedom Beyond Midnight’-এর ফ্ল্যাগ অফ করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শুরু থেকেই এই উদ্যোগের প্রতি তাঁর উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। শুধু ফ্ল্যাগ অফ করেই থেমে থাকেননি তিনি, গোটা পথ মহিলাদের সঙ্গে হেঁটেছেন।
The Wall এবং অগ্নিমিত্রা পালের আমন্ত্রণেই এদিন এই পদযাত্রায় যোগ দেন জয়া আহসান। রাতের কলকাতায় একঝাঁক তারকার মাঝে তাঁকেও কখনও গানে গলা মেলাতে, আবার কখনও অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ দিতে দেখা যায়।
এই অভিনব উদ্যোগে সামিল হয়ে উচ্ছ্বসিত জয়া বলেন, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের আগে এমন একটি আয়োজনে অংশ নিয়ে তিনি অনুপ্রাণিত। তাঁর মতে, এত মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন, সেটাই প্রমাণ করে ‘My City, My Right, Freedom Beyond Midnight’ বার্তার সঙ্গে সকলে কতটা একাত্ম হয়ে গিয়েছেন।
পাশাপাশি দ্য ওয়াল এবং অগ্নিমিত্রা পালের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান জয়া। তাঁর উপস্থিতিতে ১৪ আগস্টের রাতের এই পদযাত্রা যেন দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনেরও এক বিশেষ মুহূর্ত হয়ে উঠল।
এই আয়োজনের উদ্যক্তা ‘দ্য ওয়াল’-এর এডিটর-ইন-চিফ শঙ্খদীপ দাস বলেন, এই ওয়াকথনের উদ্দেশ্য একটাই—মহিলাদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং সমমর্যাদার অধিকারকে আরও একবার সামনে নিয়ে আসা। তিনি বলেন, একজন মহিলা কী পরবেন, কী খাবেন, নিজের মত কীভাবে প্রকাশ করবেন, কখন বাড়ি থেকে বেরোবেন কিংবা কখন রাস্তায় হাঁটবেন—এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়ার স্বাধীনতা তাঁর নিজের। সংবিধান বহু আগেই সেই অধিকার দিয়েছে। এখন সমাজের দায়িত্ব সেই অধিকারকে সুরক্ষিত রাখা।
শঙ্খদীপ দাসের কথায়, এই লড়াইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হল ‘মর্যাদা’। ঘরে হোক বা বাইরে, একজন মহিলা যেন সমান মর্যাদা পান। তাঁর অধিকার যেন অন্য কেউ নির্ধারণ করে না দেন। তাঁর স্বাধীনতা যেন সময়, স্থান কিংবা পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল না হয়। সেই অঙ্গীকার থেকেই ‘Freedom Beyond Midnight’-এর আয়োজন।
আর সেই বার্তাই ১৪ আগস্টের রাতে কলকাতার রাজপথে তুলে ধরল ‘Freedom Beyond Midnight’। হাজার হাজার মহিলার পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটা শুধু একটি ওয়াকথন ছিল না। ছিল একটি সামাজিক অঙ্গীকার—কলকাতার রাত মহিলাদেরও, কলকাতার রাস্তা মহিলাদেরও, আর স্বাধীনতার অধিকারও তাঁদেরই।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)