কেতনকে খুন করেছে কে, প্রমাণ নেই! সিয়ার লাই-ডিটেক্টর টেস্টের আবেদন জানিয়ে কোর্টের দ্বারস্থ পুলিশ

আদালতের কাছে পুলিশ এও জানিয়েছে, কেতনের হবু স্ত্রী তথা অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল এবং এই খুনের মামলার সহ-অভিযুক্ত তথা সিয়ার প্রেমিক চেতন চৌধুরীর বয়ান ইতিমধ্যেই রেকর্ড করা হয়েছে। কিন্তু তদন্তকে সঠিক দিশায় এগিয়ে নিয়ে যেতে সিয়াকে লাই-ডিটেক্টর মেশিনের মুখোমুখি বসানো অত্যন্ত জরুরি। তাঁদের দাবি, এই পরীক্ষার মাধ্যমে এমন কিছু নতুন সূত্র মিলতে পারে যা এই রহস্যের অন্ধকার দিকগুলি আলোয় আনতে সাহায্য করবে।

Jul 02, 2026 - 13:21
0 0
কেতনকে খুন করেছে কে, প্রমাণ নেই! সিয়ার লাই-ডিটেক্টর টেস্টের আবেদন জানিয়ে কোর্টের দ্বারস্থ পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুণের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল খুনের মামলার (Ketan murder case Pune) জট কাটাতে মূল অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলের পলিগ্রাফ (লাই-ডিটেক্টর) টেস্টের (Siya Goyal polygraph test) অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হল পুণে পুলিশ। বৃহস্পতিবার আদালতে তদন্তকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাহাড় থেকে কেতনকে ঠিক কে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিল, তার কোনও সাক্ষী বা সিসিটিভি ফুটেজ এই মুহূর্তে পুলিশের হাতে নেই। অভিযুক্তদের বয়ানের ভরসায় না থেকে ঘটনার নতুন সূত্র খুঁজতে আদালতের কাছে এই বিশেষ আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

আদালতের কাছে পুলিশ এও জানিয়েছে, কেতনের হবু স্ত্রী তথা অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল এবং এই খুনের মামলার সহ-অভিযুক্ত তথা সিয়ার প্রেমিক চেতন চৌধুরীর বয়ান ইতিমধ্যেই রেকর্ড করা হয়েছে। কিন্তু তদন্তকে সঠিক দিশায় এগিয়ে নিয়ে যেতে সিয়াকে লাই-ডিটেক্টর মেশিনের মুখোমুখি বসানো অত্যন্ত জরুরি। তাঁদের দাবি, এই পরীক্ষার মাধ্যমে এমন কিছু নতুন সূত্র মিলতে পারে যা এই রহস্যের অন্ধকার দিকগুলি আলোয় আনতে সাহায্য করবে।

পুলিশের এই পদক্ষেপের পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সিয়া গোয়েলের আইনজীবী বিপুল দুশিং। তিনি বলেন, “তদন্তকারী সংস্থা পলিগ্রাফ টেস্টের অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এই ধরনের পরীক্ষা করার আগে বেশ কিছু আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযুক্তের নিজস্ব সম্মতি (Consent) ছাড়া তাঁর ওপর জোরপূর্বক কোনও লাই-ডিটেক্টর বা পলিগ্রাফ টেস্ট চালানো যায় না। ফলে সিয়া এই টেস্টে রাজি না হলে পুলিশের আবেদন খারিজও হয়ে যেতে পারে।

সাধারণত যে সমস্ত মামলায় প্রাথমিক বা পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ অত্যন্ত দুর্বল বা সীমিত থাকে, সেখানেই তদন্তের স্বার্থে পলিগ্রাফ টেস্টের সাহায্য নেওয়া হয়। তবে এই পরীক্ষার ফলাফলকে আদালতে মূল অপরাধ প্রমাণের জন্য সরাসরি ব্যবহার করা যায় না, এটি কেবল তদন্তকারীদের নতুন সূত্রের সন্ধান দিতে সাহায্য করে।

পুণে তথা গোটা মহারাষ্ট্রে এই মামলাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। গত ১৮ জুন লোনাভালার লোহাগড় দুর্গে পাহাড় থেকে নীচে ফেলে খুন করা হয়েছিল পুণের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে। আগামী নভেম্বর মাসেই সিয়া গোয়েলের সঙ্গে তাঁর ধুমধাম করে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের এনগেজমেন্ট হয়। কিন্তু অভিযোগ, চেতন চৌধুরীর সঙ্গে সিয়ার সম্পর্ক ছিল। তাই কেতনকে রাস্তা থেকে সরাতেই সিয়া ও চেতন মিলে এই খুনের চক্রান্ত ফাঁদে। দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত তাঁরা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।

এরই মধ্যে বুধবার পুণে পুলিশ আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, মৃত্যুর পর কেতন আগরওয়ালের মোবাইল ফোন থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা চ্যাট ডিলিট করা হয়েছে কি না। কারণ, কেতনের মৃত্যুর পর বেশ কিছু সময় ধরে তাঁর ফোনটি সিয়া গোয়েলের হেফাজতেই ছিল। পরে সিয়া সেটি কেতনের পরিবারের হাতে ফেরত দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, মোবাইলটি ইতিমধ্যেই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সিয়ার কাছে থাকার সময় ফোনের কোনও চ্যাট, কল লগ বা লোকেশন হিস্ট্রি নিপুণভাবে মুছে ফেলা হয়েছিল কি না, তা ল্যাবরেটরির রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে।

তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১ জুলাই সহ-অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে লোহাগড় দুর্গে অপরাধস্থলের পুনর্নির্মাণ করেছিল পুলিশ। তার আগে গত রবিবার সিয়া গোয়েলকে নিয়েও একই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি করা হয়, যেখানে একটি মানুষের ওজনের ডামি বা পুতুল ব্যবহার করে পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার দৃশ্যটি খতিয়ে দেখেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু প্রমাণের অভাবে এখন পুণে পুলিশের কাছে সিয়ার মোবাইল ফরেনসিক রিপোর্ট এবং পলিগ্রাফ টেস্টের অনুমতির উপর নির্ভর করছে এই মামলা পরবর্তীতে কোন দিকে এগোয়।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User