'জ্ঞানেশ চোর কুমার কোথায়?' সিইসি-র বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হতেই বিস্ফোরক মহুয়া মৈত্র
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে আক্রমণ করে এক্স হ্যান্ডেলে বিস্ফোরক পোস্ট তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের; সিইসি-র পদত্যাগ ও জবাবদিহির দাবি। দুই সহকারী কমিশনারের আপত্তি সত্ত্বেও একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগে সিইসি জ্ঞানেশ কুমার ও কমিশনের শীর্ষ অফিসারদের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা। বিতর্কের জেরেই মিরাট ও বারাণসীতে জেন-জি (Gen-Z) ভোটারদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
দুই সহকারী নির্বাচন কমিশনারকে অন্ধকারে রেখে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগে এখন আইনি টানাপোড়েনের মুখে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার। সেই বিতর্কের আবহে এবার এক্স হ্যান্ডেলে বিস্ফোরক পোস্ট করে চরম আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
এক্স হ্যান্ডেলে মহুয়া মৈত্র লিখেছেন, "গ্যানেশ চোর কুমার কোথায়? ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা ও 'হলফনামা' দাবি করে তিনি কেন সাংবাদিক বৈঠক করছেন না? করদাতা হিসেবে আমরা এই অপরাধীর বেতন ও সুযোগ-সুবিধার জন্য অর্থ জোগাচ্ছি। এবার এটা থামানো দরকার।"
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এ সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিগত ১০ মাসে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার, বিবেক জোশী এবং সুখবীর সিং সান্ধুর লিখিত আপত্তি ও ভিন্নমতকে সম্পূর্ণ তোয়াক্কা না করেই একের পর এক নির্দেশিকা জারি করেছেন সিইসি।
এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এবং নির্বাচন কমিশনের একাধিক সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত খারিজের দাবি তুলে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার শীর্ষ আদালতে মামলাটি বিশেষভাবে উত্থাপন করেন আইনজীবী শৈলেন্দ্র মনি ত্রিপাঠী। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া আর্জিতে বলা হয়েছে, অন্য দুই কমিশনারকে উপেক্ষা করে জ্ঞানেশ কুমার এককভাবে যে সমস্ত গাইডলাইন ও আইটি সফটওয়্যারে পরিবর্তন এনেছেন, সেগুলিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
মামলায় শুধু সিইসি জ্ঞানেশ কুমারই নন, চরম গাফিলতির অভিযোগে সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গ এবং ডিজি (আইটি) সীমা খান্নাকেও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের (RPA) ৩২ নম্বর ধারার অধীনে তদন্ত ও বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানানো হয়েছে। মামলাকারীর যুক্তি, যৌথ সংস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠের মত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই আইনি নিয়ম; এককভাবে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার সিইসি-র নেই।
আইনি জটিলতা ও মহুয়া মৈত্র-সহ বিরোধীদের রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়ে আচমকাই নিজের সফরসূচি স্থগিত করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। উত্তরপ্রদেশের মিরাট এবং বারাণসীতে 'জেনারেশন-জি' (Gen-Z) ও তরুণ ভোটারদের সঙ্গে ‘ইলেক্টোরাল লিটারেসি ক্লাব’ (ELC)-এর আঞ্চলিক সম্মেলনে তাঁর প্রধান বক্তা হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক নোটিস জারি করে মিরাটের শুক্রবারের বৈঠক ও ২৮ সেপ্টেম্বরের বারাণসীর কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)