টানা ৩ দিন ব্যাংক ধর্মঘটের ডাক! মাসের শেষে স্তব্ধ হবে পরিষেবা! জরুরি বৈঠকে অর্থ মন্ত্রক
সপ্তাহে পাঁচদিন কাজের দাবিতে ফের তিনদিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিল ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন। এর ফলে টানা পাঁচদিন বন্ধ থাকতে পারে পরিষেবা। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সোমবার জরুরি বৈঠক ডাকল অর্থ মন্ত্রক। বিস্তারিত জানুন।
পুজোর মুখে দেশজুড়ে ফের ব্যাহত হতে পারে ব্যাঙ্ক পরিষেবা (Bank Service)। সপ্তাহের দু'দিন ছুটির দাবিতে এবার টানা তিনদিনের ব্যাংক ধর্মঘটের (Bank Strike) ডাক দিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্মী ইউনিয়নগুলির যৌথ মঞ্চ 'ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস'। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের বড়সড় ভোগান্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে (Bank services disruption)। তবে ধর্মঘটের জেরে পরিষেবা যাতে স্তব্ধ না হয়ে যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক।
বর্তমানে মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকে। কিন্তু ইউনিয়নের মূল দাবি হল, সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্মচারীদের জন্য সপ্তাহে মাত্র পাঁচদিন কাজ চালু করতে হবে, অর্থাৎ প্রতি শনি ও রবিবার ছুটির ব্যবস্থা করতে হবে। কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি না মানায় ক্ষোভ বাড়ছে কর্মীদের মধ্যে। এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর একদিনের দেশব্যাপী ধর্মঘট পালন করেছিলেন ব্যাঙ্ককর্মীরা। কিন্তু তাতেও সরকারের সাড়া না মেলায় এবার আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা তিনদিন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ধর্মঘটের দিনগুলির ঠিক আগেই রয়েছে ২৬ সেপ্টেম্বর (চতুর্থ শনিবার) এবং ২৭ সেপ্টেম্বর (রবিবার)। ফলে এই সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে ধর্মঘট যুক্ত হয়ে পর পর মোট পাঁচদিন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকতে চলেছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়বে আমজনতার দৈনন্দিন লেনদেনে।
এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি রুখতে এবং ব্যাঙ্ক পরিষেবা সচল রাখার উপায় খুঁজতে তৎপর হয়েছে অর্থ মন্ত্রকের অধীনে থাকা ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট। আগামী সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকে সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কের প্রধানদের পাশাপাশি 'ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন' (IBA) ও 'নাবার্ড'-এর প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। বৈঠকে ধর্মঘটজনিত সমস্যা মেটানো এবং বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
ব্যাঙ্কের শাখা বা কাউন্টারের কাজ বন্ধ থাকলেও গ্রাহকদের দুশ্চিন্তা কিছুটা কমাবে এটিএম (ATM) পরিষেবা। ধর্মঘট চলাকালীন ডিজিটাল ও অনলাইন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে বলে জানানো হয়েছে। তবে নগদ টাকা তোলার ক্ষেত্রে এটিএমগুলিতে টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার একটা আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে, তাই আগেভাগেই প্রয়োজনীয় টাকার ব্যবস্থা করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)