নিট আন্দোলন: দিল্লিতে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে আর কোনও আইনি পদক্ষেপ নয়, জানাল পুলিশ
তথ্য অনুযায়ী, ২৯ জুলাই ৬টা পর্যন্ত নিট (UG) পরীক্ষাকে ঘিরে প্রতিবাদ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত মোট ১৩টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল। সব দিক খতিয়ে দেখে দিল্লি সরকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথমত, নিট আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের কোনও কর্তৃপক্ষ আর কোনও আইনগত ব্যবস্থা নেবে না।
নিট আন্দোলনে (NEET UG Paper Leak) যে সব ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছিল, সব এফআইআর তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের নির্দেশ মেনে যাঁদের বিরুদ্ধে আগের কোনও ক্রিমিনাল কেস (Jantar Mantar Protest) রয়েছে তেমন কারও মামলা তোলা হবে না। বৃহস্পতিবার বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিল দিল্লি পুলিশ।
তথ্য অনুযায়ী, ২৯ জুলাই ৬টা পর্যন্ত নিট (UG) পরীক্ষাকে ঘিরে প্রতিবাদ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত মোট ১৩টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল। সব দিক খতিয়ে দেখে দিল্লি সরকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথমত, নিট আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের কোনও কর্তৃপক্ষ আর কোনও আইনগত ব্যবস্থা নেবে না। তবে এই সুরক্ষা তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অতীত বা ক্রিমিনাল কেস রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারেই এই ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, এই মামলাগুলিতে যাঁদের ইতিমধ্যেই গ্রেফতার বা আটক করা হয়েছে, তাঁদের গ্রেফতারির বিষয়টি দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা হবে। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গ্রেফতার ব্যক্তিদের যত দ্রুত সম্ভব মুক্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। তৃতীয়ত, নিট আন্দোলনে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আর কোনও অতিরিক্ত প্রতিকূল ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা নেই দিল্লি সরকারের। সরকার জানিয়েছে, এই বিষয়টিকে ভবিষ্যতে আর কোনও আইনি কার্যক্রম ছাড়াই নিষ্পত্তি করা হবে এবং এই সংক্রান্ত বিষয়টি বন্ধ বলে বিবেচিত হবে।
দিল্লিতে নিট কাণ্ডের প্রতিবাদে অনেক দাগী আসামি সামিল হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। প্রযুক্তিকে অস্ত্র করে গত কয়েকদিনে কেবল যন্তর মন্তর এলাকা থেকেই অন্তত আড়াই হাজারেরও বেশি অপরাধীকে (criminals Jantar Mantar) চিহ্নিত করে পুলিশ। সূত্রের খবর, গত ২০ জুলাই বিরোধী দলগুলির সমর্থনে ডাকা আন্দোলনে ব্যাপক হিংসা ছড়ায়। এরপরই আন্দোলনস্থলে নজরদারি বহু গুণ বাড়াতে বসানো হয় অত্যাধুনিক ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম’ (FRS)। ২১ জুলাই থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে এই এফআরএস (FRS)-এর ফেস ট্র্যাকিং প্রযুক্তির সাহায্যেই ধরা পড়ে যে, বিক্ষোভকারীদের ভিড়ের মাঝে অন্তত ২৮০০ জন এমন ব্যক্তি লুকিয়ে রয়েছে যাদের দীর্ঘ অপরাধমূলক ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে টানা ২৬ দিন আমরণ অনশনে বসেছিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শুক্রবার ভোরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি অনশন প্রত্যাহার করে নেন। তবে জল ঘোলা হওয়া থামেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দ্রুত বিচারের লক্ষ্যে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করার কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যে লোকসভায় পাশ হয়েছে অ্যান্টি পেপার লিক বিল (সংশোধনী)ও।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)