নেপালের হড়পা বানে নিখোঁজ কলকাতার ৩০ পর্যটক ও ট্রাভেল ক্লাবের ম্যানেজার, ছিলেন ভোটে কোশীর কাছেই
নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে নিখোঁজ ১০৫ জন ভারতীয়ের মধ্যে ৭১ জনই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। কলকাতার ‘চলো যাই’ ট্রাভেল ক্লাবের ৩০ জন পর্যটক-সহ আটকে বহু বাঙালি। নবান্নে খোলা হল বিশেষ হেল্পলাইন।
নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Flash Flood) উদ্বেগ বাড়ছে বাংলায়। নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়ের মধ্যে ৭১ জনই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তাঁদের মধ্যে কলকাতার একটি ট্রাভেল ক্লাবের সঙ্গে কৈলাস-মানসরোবর যাত্রায় (Kailash Mansarovar yatra) যাওয়া ৩০ পর্যটক রয়েছেন। খোঁজ নেই ওই দলের দুই ম্যানেজারেরও। তাঁদের সঙ্গে শেষ বার যোগাযোগ হয়েছিল বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ।
‘চলো যাই’ নামে কলকাতার ওই ট্রাভেল ক্লাবের তরফে জানা গিয়েছে, ৩০ জনের দলে এক আমেরিকা-প্রবাসী ভারতীয়ও রয়েছেন। দলে আছেন কলকাতার কসবার কয়েক জন বাসিন্দা। এছাড়া, চন্দননগর এবং বারাসতের কয়েক জন পর্যটকও নেপালে আটকে পড়েছেন বলে খবর। তবে তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও মেলেনি।
পর্যটকদের দলটি ২১ অগস্ট কলকাতা থেকে রওনা হয়েছিল। ২২ অগস্ট পৌঁছয় নেপালে। মঙ্গলবার কাঠমান্ডুতে থাকার পর বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্ত পেরিয়ে মানসরোবরের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। সকাল পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। কয়েক জন পর্যটক সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ও বিভিন্ন ভিডিও-ও পোস্ট করেছিলেন। তার পর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
দলের দুই ম্যানেজার জয়ন্ত সান্যাল ও নৃপেন সরকারের ফোনে রোমিং পরিষেবা ছিল। তবু তাঁদের ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ হড়পা বানের জেরে নেপালের ভোটে কোশী (Bhote Koshi River) নদীর জল হঠাৎ বেড়ে যায়। সেকেন্ডের মধ্যে ধুলিস্যাৎ হয় একাধিক গ্রাম। যে এলাকায় বিপর্যয় ঘটেছে গতকাল, পর্যটকদের রুটও সেই অঞ্চলের মধ্যেই পড়ে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পর্যটকদের খোঁজে নেপালের সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল সংস্থার তরফে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি। বিপর্যয়ের পরে ওই এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও কার্যত অচল। ফলে পর্যটকেরা কোথাও নিরাপদ জায়গায় আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, হুগলির আরামবাগ থেকে যাওয়া আরও ৬৫ জন পর্যটক নেপালের চেতনপার্ক এলাকায় আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে অবশ্য যোগাযোগ রয়েছে। নেপালে ছবির শুটিং করতে গিয়ে আটকে পড়েছেন অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রীও। তাঁদের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করা যায়নি। ছেলে তমোঘ্ন জানিয়েছেন, তাঁরা বিপর্যস্ত এলাকার কাছাকাছি নেই। মূল সমস্যা যোগাযোগ এবং বিমান পরিষেবায়। তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে আপাতত আশঙ্কার কারণ নেই।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নেপালে আটকে থাকা রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। ভবানী ভবনের নম্বর ০৩৩-২৪৭৯৩৩১১ এবং ৯১৪৭৮৯০১৮১। কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাসের ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর হল +৯৭৭৯৮৫১৩১৬৮০৭ এবং +৯৭৭৯৭০৯১০৭৫০০।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)