পড়াশোনা সামলেই মূর্তি গড়েন, জাপানের পথে কৃষ্ণনগরের তরুণ শিল্পী অগ্নিভ পালের দুর্গাপ্রতিমা
অগ্নিভ পালের হাত ধরে কৃষ্ণনগরের সেই শিল্পঐতিহ্যই এবার নতুন রূপে পৌঁছে যাচ্ছে জাপানের মাটিতে। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
কৃষ্ণনগরের মাটির দুর্গাপ্রতিমার খ্যাতি বহুদিন ধরেই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও পৌঁছেছে। সেই ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ফের জাপানের পথে কৃষ্ণনগরের তরুণ শিল্পী অগ্নিভ পালের তৈরি দুর্গাপ্রতিমা।
প্রায় চার ফুট উচ্চতার ফাইবার গ্লাসের এই দুর্গা প্রতিমাটি জাপানে বসবাসকারী এক পরিচিত ব্যক্তির পুজোর জন্য তৈরি করেছেন অগ্নিভ। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির কাজ চালিয়ে যাওয়াই তাঁর নেশা। শিল্পের ঘরানাতেই বড় হয়েছেন অগ্নিভ। তাঁর বাবা অলোক পাল নিজেও একজন প্রতিমাশিল্পী এবং তিনিই ছেলের প্রথম শিক্ষক। বাবার কাছ থেকে প্রতিমা তৈরির খুঁটিনাটি শেখার পাশাপাশি নিজের সৃজনশীল ভাবনা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে নিজস্ব শিল্পশৈলী গড়ে তুলছেন অগ্নিভ।
এর আগেও তাঁর তৈরি দুর্গাপ্রতিমা পাড়ি দিয়েছিল জাপানে। তিন বছর আগে বিদেশের মাটিতে তাঁর হাতে তৈরি প্রতিমায় পুজো হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর ফের অগ্নিভর শিল্পকর্ম জাপানে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি কৃষ্ণনগরের শিল্পীমহল।
তবে এই প্রতিমা তৈরির ক্ষেত্রে শুধু শিল্পীসত্তাই নয়, প্রয়োজন হয়েছে কারিগরি দক্ষতারও। ফাইবার গ্লাস তুলনামূলকভাবে হালকা এবং টেঁকসই হওয়ায় বিদেশে প্রতিমা পাঠানোর ক্ষেত্রে এই উপকরণ যথেষ্ট সুবিধাজনক। সেই আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েই নিখুঁতভাবে প্রতিমাটি তৈরি করেছেন অগ্নিভ।
কৃষ্ণনগরের প্রতিমাশিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্য মূলত মাটির কাজকে ঘিরেই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ঐতিহ্যকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরছেন তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরা। মাটির পাশাপাশি ফাইবার গ্লাসের মতো আধুনিক উপকরণেও তৈরি হচ্ছে প্রতিমা।অগ্নিভ পালের হাত ধরে কৃষ্ণনগরের সেই শিল্পঐতিহ্যই এবার নতুন রূপে পৌঁছে যাচ্ছে জাপানের মাটিতে। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)