নেপালে হড়পা বানের ধ্বংসলীলা! হেল্পলাইন নম্বর চালু ভারতীয় দূতাবাসের, সর্বোচ্চ সতর্কতা এসএসবি-র
ভারত-নেপাল সীমান্তে মোতায়েন থাকা সশস্ত্র সীমা বল (SSB)-কে সর্বোচ্চ সতর্কতায় (Alert) রাখা হয়েছে। যে কোনও সম্ভাব্য বিপদ বা উদ্ধারকার্যে সহায়তার জন্য সশস্ত্র সীমা বলের ১১টি উদ্ধার ও ত্রাণ দল (RRT) অবিলম্বে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত ৭টি দলকে 'স্ট্যান্ডবাই' রাখা হয়েছে।
বুধবার ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত হয়েছে মধ্য নেপালের (Nepal Flash Flood) বিস্তৃত এলাকা। তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন নদীগুলির জলস্তর আচমকা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে তীরের একাধিক জনপদ। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ২২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর (Nepal Flood) খবর পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বহু বাড়িঘর, ভেসে গিয়েছে যানবাহন ও গবাদি পশু। স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, নদীর এই তীব্র জলচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অঞ্চলের কমপক্ষে এক ডজন বা ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে ক্ষতিগ্রস্ত বা আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের পরিবারের সুবিধার্থে দুটি জরুরি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে। যে কোনও জরুরি সহায়তা বা তথ্যের জন্য ৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং ৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০ - এই নম্বর দুটিতে যোগাযোগের আবেদন জানানো হয়েছে। এছাড়া নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটকদের সুবিধার জন্য টোল-ফ্রি নম্বর ১২৩৪, হটলাইন ১১৪৪ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের নম্বর ৯৮৫১২৮৯৪৪৫ প্রকাশ করে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, নেপালের নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে ভারতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত সরকার। ভারত-নেপাল সীমান্তে মোতায়েন থাকা সশস্ত্র সীমা বল (SSB)-কে সর্বোচ্চ সতর্কতায় (Alert) রাখা হয়েছে। যে কোনও সম্ভাব্য বিপদ বা উদ্ধারকার্যে সহায়তার জন্য সশস্ত্র সীমা বলের ১১টি উদ্ধার ও ত্রাণ দল (RRT) অবিলম্বে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত ৭টি দলকে 'স্ট্যান্ডবাই' রাখা হয়েছে।
কোশি ও নারায়ণী নদী অববাহিকায় জলপ্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ভারত সীমান্তবর্তী একাধিক ছোট নদীতে হড়পা বানের পূর্বাভাস থাকায় উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের ঘাগরা, কার্নালী ও মহাকালী নদী অববাহিকা সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সিভিল প্রশাসনের সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রেখে যে কোনও জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল আনুমানিক ৯টা নাগাদ তিব্বত সীমান্ত থেকে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসা নদীর জল ভোট কোশি (Bhote Koshi River) নদীতে আছড়ে পড়ে। এর ফলে তিব্বতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী রসৌয়া (Rasuwa) এবং ধাদিং (Dhading) জেলার পাশাপাশি রাজধানী কাঠমান্ডুর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নুওয়াকোট (Nuwakot) জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত রসৌয়া জেলার তিমুরে এবং নিকটবর্তী স্যাফ্রুবেসি এলাকায় জলস্তর হঠাৎ বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে যাওয়ার কারণে কয়েক ডজন গাড়ি, বাণিজ্যিক পণ্য ও ঘরবাড়ি নদীর তীব্র স্রোতে তাসের ঘরের মতো ভেসে যায় বলে নেপাল সেনা তাদের সরকারি বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বন্যাকবলিত অঞ্চল থেকে নিখোঁজ ৩৮৪ জনের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক (Nepal News) রয়েছেন। নিখোঁজ বিদেশিদের তালিকায় বড় অংশই ভারতীয়। এ দিকে রসুয়া জেলায় উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ দিতে গিয়ে বিপর্যয় মোকাবিলা দল নিজেরাই বিপদে পড়েছে। অন্তত ২৬ জন নেপাল পুলিশ কর্মী এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সের (এপিএফ) ৭ জন জওয়ানের কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাকে ময়দানে নামানো হয়েছে। আকাশপথে নজরদারি ও নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও বিশেষ দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করেছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)