পুজোর পোশাক নিয়ে মমতা-তৃণমূলে তোলপাড়! দিদির উপহার পেয়ে আপ্লুত একদল, অন্যরা ফুঁসছেন
পুজোর পোশাক ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের অন্দরে তোলপাড়! দিদির উপহার পেয়ে আপ্লুত একদল, অন্যদের ক্ষোভ?
একদল বিগলিত। অন্যরা ক্ষুব্ধ। একদল সমাজমাধ্যমে দেখনদারিতে মেতেছেন। অন্যরা সেই সমাজমাধ্যম ব্যবহার করেই নিজেদের হতাশা ঢেলে দিচ্ছেন। ষষ্ঠীর সকাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) তৃণমূলের অন্দরে (Kalighat TMC) তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। বিষয়: দিদির দেওয়া পুজোর পোশাক (Durga Puja Gift)।
মমতা বহু বছর ধরেই পরিচিত, ঘনিষ্ঠদের পুজোর উপহার দেন। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য, আমলা, দলের নেতা থেকে ঘনিষ্ঠবৃত্তের সাংবাদিকদেরও পুজোর ‘গুডিব্যাগ’ দিতেন। কুর্তা-মিষ্টি পাঠাতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও। মুখ্যমন্ত্রিত্ব গিয়েছে। পুজোর উপহার দেওয়ার বহর কমেছে। বদলেছে ব্র্যান্ডও। কিন্তু সেই পোশাক নিয়েই ভাঙা তৃণমূলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
দলের ভরাডুবি এবং ভাঙনের পরে মমতার বাড়িতে তাঁকে ঘিরে থাকা মুখগুলো বদলে গিয়েছে। ছাত্র-যুবদের মধ্যে থেকে বেশ কিছু নতুন মুখ এখন রোজ বিকালে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতার বাড়িতে যান। তাঁদেরই অনেককে দিদি এ বার প্রথম পুজোর উপহার দিয়েছেন। ছেলেদের পাজামা-পাঞ্জাবি আর মেয়েদের শাড়ি। ‘প্রিয় গোপাল বিষয়ী’ থেকে কেনা হয়েছে সে সব বস্ত্র। এর মধ্যে কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু দিদির কাছ থেকে উপহার পেয়ে আহ্লাদিত হয়ে পড়েছেন ছাত্র-যুবদের অনেকে। তাঁরা ওই পোশাকের ছবি তুলে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দিয়েছেন। মমতা তৃণমূলের এই মুহূর্তের উল্লেখযোগ্য মুখ উপাসনা চৌধুরী। তিনি শাড়ির ছবি পোস্ট করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘দিদির দেওয়া পুজোর উপহার।’ সঙ্গে আবার একটা লাল রঙের হৃদয় চিহ্নের ইমোজি। অরূপ চৌধুরী আবার পাঞ্জাবির ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘দিদির আশীর্বাদ।’ পাশে সবুজ রঙের হৃদয় চিহ্নের ইমোজি।
আর এ নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে দলের অন্দরে। উপহার পাওয়া নেতাদের পোস্টের কোলাজ ফেসবুকে পোস্ট করে জনৈক মহম্মদ বাহাদুর লিখেছেন, ‘আমাদের মতো কর্মীরা জেলাতে কষ্ট করছি। আর বাকি সবাই?’ শুধু একজনের অভিমান বা ক্ষোভের পোস্টেই বিষয়টা সীমাবদ্ধ নেই। জেলার নেতাদের ফোন আসতে শুরু করেছে কলকাতার নেতাদের কাছেও। এখনও মমতার সঙ্গে থাকা দক্ষিণবঙ্গের এক বিধায়ক বলেন, “ভাল বক্তৃতা করা মানেই যে রাজনীতি নয়, সেটা সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বোঝা উচিত। এখনই এইসব বালখিল্য আচরণে দিদির লাগাম টানা উচিত।” হুগলির এক নেত্রী বলেন, “দিদি তো আমাকেও শাড়ি দিয়েছেন। তাই বলে সেটা ঢাক পিটিয়ে বলতে যাব? এ আবার কী?”
কালীঘাট তৃণমূল বারংবার দাবি করছে, জেলায় জেলায় তাঁদের বহু কর্মী ঘরছাড়া হয়েছে রয়েছেন। অনেকের কাজ চলে গিয়েছে। বহু কর্মী মিথ্যা মামলায় জেলবন্দি বলেও দাবি মমতা তৃণমূলের নেতাদের। দাবির সঙ্গে বাস্তবতায় কিয়দংশও যদি সম্পর্ক থাকে, তা হলে ‘মুখ’ হয়ে ওঠা নেতানেত্রীদের এই ধরনের আত্মকেন্দ্রিক প্রচারের পোস্ট কতটা সংবেদনশীল, বাস্তবসম্মত, সেই প্রশ্নও উঠছে। কালীঘাট তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতা বলেন, “রাজনীতিতে ধারণাই সব। পোশাক নিয়ে এই ধরনের পোস্ট শুধু রুচিহীন নয়, দলের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে শিশুসুলভ চপলতাও বটে।”
অর্থাৎ, পোশাক উপহার দেওয়াটা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। সমস্যা ঘটে গিয়েছে তা হাটের মাঝে বিপণন করায়। যাঁরা পাননি তাঁদের চাপা অভিমান রয়েছে। কিন্তু জেলার নেতারা ফুঁসছেন। প্রশ্ন উঠছে, এই দুর্দিনে এত অসংবেদনশীলতা কেন?
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0