ক্যারিবিয়ানদের ডেকে বিসিসিআইয়ের আয় ২৮৫ কোটি, অথচ শাই হোপদের বোর্ডের কানাকড়িও জুটল না! কিন্তু কেন?

ভারতের মাটিতে চলতি সিরিজ থেকে আয় ১৯৩ থেকে ২৮৫ কোটি টাকা! অথচ এক পয়সাও পাবে না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৯৭ সালের আইসিসি-র নিয়মকেই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের পতনের কারণ বলছেন বোর্ড কর্তা ক্রিস দেহরিং।

Oct 16, 2026 - 15:13
ক্যারিবিয়ানদের ডেকে বিসিসিআইয়ের আয় ২৮৫ কোটি, অথচ শাই হোপদের বোর্ডের কানাকড়িও জুটল না! কিন্তু কেন?

টিম ইন্ডিয়ার ম্যাচ মানেই টাকার ছড়াছড়ি। কিন্তু এই বিপুল অর্থে কি উপকৃত একটিমাত্র পক্ষ? প্রশ্ন উঠছে। তার কারণ, ভারতের মাটিতে চলতি সাদা বলের সিরিজ থেকে বিসিসিআইয়ের (BCCI) ঘরে যখন ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৯৩ থেকে ২৮৫ কোটি টাকা) ঢুকতে চলেছে, তখন সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাপ্তি স্রেফ শূন্য! শনিবার বেঙ্গালুরুতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের (India vs West Indies) ফাইনাল। তার ঠিক আগে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের এই একতরফা লভ্যাংশ বণ্টন নীতি নিয়ে বিস্ফোরক ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (Cricket West Indies) সিইও ক্রিস দেহরিং (Chris Dehring)।

১৯৯৭ সালের সেই অভিশপ্ত ভোট

দ্বিপাক্ষিক সিরিজে আয়োজক দেশ পুরোটাই অর্থাৎ, ১০০ শতাংশ লভ্যাংশ নিজেদের পকেটে পোরে। উইজডেনের 'দ্য স্কুপ' পডকাস্টে দেহরিংয়ের সাফ কথা, ১৯৯৭ সালে চালু হওয়া এই আর্থিক মডেল ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের (West Indies Cricket) কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিয়েছে। তাঁর কথায়, 'এই সিরিজ ভারতের মাটিতে খেলা হচ্ছে বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট কিছুই পাবে না। ভারতে যে সিরিজ থেকে ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে, সেখান থেকে আমাদের ঝুলিতে এক পয়সাও ঢুকবে না। এটা কেন হল বুঝতে গেলে ১৯৯৭ সালে ফিরে যেতে হবে। সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যবশত, আইসিসি-র (ICC) সদস্য দেশগুলো যখন বিশ্ব ক্রিকেটের আর্থিক কাঠামো বদলের পক্ষে ভোট দেয়, তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তার আগে পর্যন্ত আমাদের দলের দারুণ চাহিদা ছিল। সবাই চাইত আমরা তাদের দেশে সফর করি। সেই সফর বাবদ ট্যুরিং ফি ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে নিজেদের ঘরের মাঠে সিরিজ আয়োজন করে হওয়া আয়ের চেয়েও অনেক বেশি!’

দেড়শো কোটির ভারত বনাম এক লাখের অ্যান্টিগা

সেই ভোটাভুটিতে ৯-১ ব্যবধানে হেরে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দেহরিং বলেন, '১৯৯৭ সালের ওই সিদ্ধান্ত চরম অন্যায়। আইসিসি-র সদস্য দেশগুলোর ভোটে আমরা ৯-১ ব্যবধানে হেরে যাই। আমি তখনই বলেছিলাম, আয়ের প্রধান উৎসটা কেড়ে নিয়ে এই সিদ্ধান্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটের মৃত্যুপরোয়ানায় সই করে দিল। এর ফলে দেড়শো কোটি মানুষের দেশ ভারত নিজেদের বিশাল বাজারের পুরো টাকাটাই পকেটে রাখার সুযোগ পেল। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নির্ভর করতে হল মাত্র ১ লক্ষ জনসংখ্যার অ্যান্টিগা কিংবা ৩০ হাজার মানুষের সেন্ট কিটসের ক্ষুদ্র বাজারের আয়ের উপর।'

একদা বিশ্বক্রিকেটের পরাশক্তি আজ তিন ফরম্যাটেই ধুঁকছে। বারবার আর্থিক সংকট, বেতন নিয়ে অসন্তোষ ও বিদ্রোহের জেরে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টি ফ্রিল্যান্সার হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। সম্প্রতি আর্থিক অনটনে খেলোয়াড়দের বেতন ছাঁটাই ও চুক্তির মেয়াদ কমাতেও বাধ্য হয়েছে বোর্ড। প্রাক্তন বোর্ড সভাপতি ডেভ ক্যামেরনও সম্প্রতি এই রাজস্ব বণ্টন নীতিকে হতাশাজনক আখ্যা দিয়েছেন। বর্তমানে আইসিসি-র মোট লভ্যাংশের মাত্র ৫ শতাংশ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখানে বড় বাজার ও বিপুল আয়ের সুবাদে ভারতের ঘরে যায় সর্বোচ্চ ৩৮ শতাংশেরও বেশি অর্থ।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0