বাড়িতে ব্লাড প্রেশার মাপেন? সঠিক রিডিং পেতে মানুন এই নিয়মগুলি
বাড়িতে ব্লাড প্রেশার মাপার সময় সামান্য কিছু ভুলের কারণে অসঠিক রিডিং আসতে পারে। প্রেশার মাপার আগে কোন কোন কাজ এড়িয়ে চলবেন এবং কী ভাবে নির্ভুল রিডিং পাবেন, জানালেন চিকিৎসক।
উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা অনেক সময় কোনও স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। অথচ দীর্ঘদিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা জরুরি। তবে বাড়িতে রক্তচাপ মাপার সময় কয়েকটি সাধারণ ভুলের কারণে সঠিক রিডিং নাও আসতে পারে। কী কী বিষয়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন, তা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক প্রিয়ঙ্কা সেহরাওয়াত।
চিকিৎসকের পরামর্শ, কোনও দৈনন্দিন কাজের পরপরই রক্তচাপ মাপা উচিত নয়। শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কিছুটা সময় দেওয়া প্রয়োজন। তাই রক্তচাপ মাপার আগে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন, যদি আপনি শরীরচর্চা করে থাকেন, হাঁটাহাঁটি করে থাকেন, খাওয়াদাওয়া করে থাকেন, চা বা ক্যাফিনযুক্ত পানীয় পান করে থাকেন, ধূমপান করে থাকেন, মদ্যপান করে থাকেন।
এই কাজগুলির পরপরই রক্তচাপ মাপলে রিডিংয়ে প্রভাব পড়তে পারে। ফলে আপনার স্বাভাবিক রক্তচাপ সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যাবে না।
কী ভাবে মাপবেন রক্তচাপ?
রক্তচাপ মাপার সময় যন্ত্রের কাফটি ঠিক জায়গায় বসানো অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ, কাফটি এমন ভাবে লাগাতে হবে যাতে তার নীচে আরামের সঙ্গে দু’টি আঙুল ঢোকানো যায়। অর্থাৎ, কাফ খুব ঢিলে বা অতিরিক্ত আঁটসাঁট হওয়া চলবে না।
রক্তচাপ মাপার সময় কাফটি হৃদ্যন্ত্রের সমান উচ্চতায় রাখা দরকার। এতে সঠিক রিডিং পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। চিকিৎসক প্রিয়ঙ্কা বাঁ হাতে রক্তচাপ মাপার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথমবার দুই হাতেই রক্তচাপ মেপে দেখা উচিত। পরে যে হাতে রিডিং বেশি আসে, সাধারণত সেই হাতেই নিয়মিত মাপা ভাল।
একবার মাপলেই কি যথেষ্ট?
একবার রক্তচাপ মেপেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ, পরপর তিনবার রক্তচাপ মেপে সেই রিডিংগুলির গড় হিসাব করলে রক্তচাপ সম্পর্কে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া যায়। তবে প্রতিবার মাপার মাঝে কিছুটা বিরতি রাখা জরুরি।
বাড়িতে রক্তচাপ মাপার সময় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে রিডিংয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হয়। কোনও একটি রিডিং বেশি এলেই আতঙ্কিত না হয়ে নিয়ম মেনে আবার মাপুন। বারবার রক্তচাপ বেশি এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শুধু বাড়ির রিডিংয়ের ভিত্তিতে নিজে থেকে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করবেন না।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)