হাতে নয় পায়ের রক্তচাপ মেপে ধরা পড়বে ধমনীর ব্লকেজ, অ্যাঙ্কল-ব্র্যাকিয়াল ইনডেক্স সম্পর্কে জানেন?
হাতের পাশাপাশি পায়ের গোড়ালির রক্তচাপ মেপেই জানা যেতে পারে হৃদযন্ত্র ও ধমনীতে ব্লকেজ রয়েছে কি না। চিকিৎসাবিজ্ঞানে 'অ্যাঙ্কল-ব্র্যাকিয়াল ইনডেক্স' (ABI) পরীক্ষা ও তার স্বাভাবিক মাত্রা নিয়ে জেনে নিন বিস্তারিত।
সাধারণত রক্তচাপ মাপতে হাতেই কাফ বাঁধা হয়। কিন্তু শরীরের নীচের অংশে রক্ত চলাচল ঠিকঠাক হচ্ছে কি না, তা বোঝার জন্য পায়ের গোড়ালির কাছেও রক্তচাপ মাপা হয়ে থাকে অনেকসময়। হাত ও গোড়ালির সিস্টোলিক ব্লাড প্রেশার (Systolic BP)-এর তুলনা করে ধমনীর রক্তপ্রবাহে কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, তার প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই পরীক্ষাকে বলা হয় অ্যাঙ্কল-ব্র্যাকিয়াল ইনডেক্স (ABI)।
কীভাবে হয় পরীক্ষা?
ABI-তে হাতের এবং গোড়ালির সিস্টোলিক রক্তচাপের অনুপাত হিসাব করা হয়। এখানে বিবেচনা করা হয় মূলত উপরের সংখ্যাটিই অর্থাৎ সিস্টোলিক চাপ। চিকিৎসকেরা সাধারণত দুই হাত এবং দুই পায়ের গোড়ালির চাপ মেপে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে এই হিসেব করেন। AHA-র তথ্য অনুযায়ী, সঠিক ABI মাপার ক্ষেত্রে ডপলার যন্ত্র ব্যবহার করা হয় এবং রোগীকে কিছুক্ষণ বিশ্রামে রেখে পরীক্ষা করা হয়।
সহজভাবে বলতে গেলে, গোড়ালির সিস্টোলিক চাপকে হাতের সিস্টোলিক চাপ দিয়ে ভাগ করে ABI পাওয়া যায়। তবে বাড়িতে ব্যবহৃত সাধারণ ডিজিটাল বিপি মেশিন দিয়ে নিজে এই হিসেব করে ধমনীর ব্লকেজ নিশ্চিত করা ঠিক নয়। এটি চিকিৎসকের মূল্যায়নের বিকল্পও নয়।
কত হলে স্বাভাবিক?
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, 1.0 থেকে 1.4-এর মধ্যে ABI সাধারণত স্বাভাবিক ধরা হয়। 0.90 বা তার কম হলে তা অস্বাভাবিক এবং পায়ের ধমনীর রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার অর্থাৎ Peripheral Artery Disease (PAD)-এর সম্ভাবনা থাকতে পারে। আবার 1.40-এর বেশি হলেও সেটি স্বাভাবিক নয়; ধমনী শক্ত বা কম্প্রেস করা কঠিন হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত থাকতে পারে।
বিশেষ করে পায়ের চাপ হাতের তুলনায় অনেকটা কম হলে বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়। তবে একটি মাত্র রিডিং দেখেই ধমনীর কোথায় ব্লকেজ রয়েছে, তা বলা যায় না। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক ডপলার, আল্ট্রাসাউন্ড বা অন্য ইমেজিং টেস্ট (Imaging Test) করাতে পারেন।
তাই হাত ও পায়ের রক্তচাপের মধ্যে অস্বাভাবিক ফারাক ধরা পড়লে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। বিশেষ করে হাঁটলে পায়ে ব্যথা, পায়ে ক্ষত শুকোতে দেরি হওয়া বা রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)