'পড়ুয়াদের স্বপ্ন ভেঙে ওদেরই ক্ষমা করছেন, ক্ষমা চান!' মোদীর 'ঔদ্ধত্যে' প্রশ্ন তুলে পাল্টা রাহুল
নিট পরীক্ষা বিতর্ক ও যন্তর মন্তরের আন্দোলনে যুক্ত থাকা পড়ুয়াদের ‘ক্ষমা করা’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তার কড়া জবাব দিলেন রাহুল গান্ধী। মোদীকে তোপ দেগে তিনি বললেন, পড়ুয়াদের ক্ষমা নয়, উল্টে ক্ষমা চাওয়া উচিত প্রধানমন্ত্রীরই!
দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট আন্দোলনকারী (Delhi NEET Protest) পড়ুয়াদের ‘ক্ষমা করে দেওয়া’র মন্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) পাল্টা জবাব দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। শনিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, দেশের যুবসমাজ তো প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) কাছে ‘ক্ষমা’ চায়নি, ওঁ ক্ষমা করার কে? বরং তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার অপরাধে নরেন্দ্র মোদীর তরুণদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওতে মোদী বলেন, যন্তর মন্তরে আন্দোলন চলাকালীন কিছু 'পথভ্রষ্ট' শিশু তাঁর এবং তাঁর প্রয়াত মায়ের উদ্দেশে কটু মন্তব্য করেছিল। সেই ক্ষোভকে ভুলে গিয়ে তিনি তরুণ সমাজকে শাস্তি না দিয়ে ক্ষমা করে দেওয়ার আর্জি জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অল্প বয়সে ভুল হতেই পারে, কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই 'ক্ষমাশীল' অবস্থানকে কটাক্ষ করে রাহুল গান্ধী লেখেন, "সন্তান হারানোর কষ্টে থাকা বাবা-মাকে দেখার চেয়ে যন্ত্রণাদায়ক আর কিছু হতে পারে না।"
একের পর এক প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা বাতিল এবং বছরের পর বছর ধরে পরিশ্রমের স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়ে যাওয়ার পিছনে একটি ভাঙাচোরা শিক্ষাব্যবস্থাকে দায়ী করেন তিনি। রাহুল বলেন, যে ব্যবস্থার মধ্যে কোনও সততা নেই, সেখানে দাঁড়িয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের সততার পাঠ শেখানো হচ্ছে, আর প্রধানমন্ত্রী কোন মুখে এই শিক্ষার্থীদের 'ক্ষমা' করার সাহস দেখান?
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নফাঁসের কারণে সর্বস্ব হারানো অভিভাবক বা স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া পড়ুয়াদের কারও সঙ্গে দেখা করার সৌজন্যটুকুও দেখাননি। ভারতের পড়ুয়াদের ও সাধারণ মানুষের সঞ্চয়, সময় ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করার জন্য কোনও ফাঁপা বার্তা নয়, বরং কেন্দ্রের সরকারের দায়বদ্ধতা নেওয়া উচিত বলে দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) নেতৃত্বে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা নিট প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলন শেষ হয়েছে ক'দিন আগেই। জল্পনা ও বিক্ষোভের মুখে পড়ে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন এবং কেন্দ্রের তরফে পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়।
আন্দোলন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে ইতিমধ্যেই দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যেই মোদীর মন্তব্যকে ঘিরে আবার রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু হল।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)