বাংলায় আইনের শাসনই লক্ষ্য! সোমে বিধানসভায় 'গুন্ডা দমন বিল' আনছে রাজ্য, কোন অপরাধে কী শাস্তি?

Jun 29, 2026 - 10:49
0 0
বাংলায় আইনের শাসনই লক্ষ্য! সোমে বিধানসভায় 'গুন্ডা দমন বিল' আনছে রাজ্য, কোন অপরাধে কী শাস্তি?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে সমাজবিরোধী ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ রুখতে উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) এবং গুজরাতের (Gujarat) ধাঁচে অত্যন্ত কড়া আইন আনার পথে হাঁটল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার (CM Suvendu Adhikari)। রাজ্যে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আজ অর্থাৎ সোমবার রাজ্য বিধানসভায় (West Bengal Assembly) পেশ হতে চলেছে বহুল চর্চিত গুন্ডাদমন বিল- ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’ (The West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Bill, 2026)। এই বিলের গেজেট নোটিফিকেশন ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, রাজ্যে কোনওভাবেই রাষ্ট্রবিরোধী কাজ বরদাস্ত করা হবে না এবং গুন্ডাদের দমনের পাশাপাশি তাদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে।

'সমাজবিরোধী কার্যকলাপ' ও 'গুন্ডা' কারা?

এই বিলে অপরাধ ও অপরাধীদের পরিধি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বিল অনুযায়ী, যে সমস্ত কাজ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক, ভয় বা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে এবং জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি করবে, তা 'সমাজবিরোধী কার্যকলাপ' হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ, বালি-পাথর-খনি বা বনজ সম্পদের বেআইনি কারবার যা সরকারি কোষাগারের ক্ষতি করে, তাও এই আইনের আওতায় আসবে।

বিলে ‘গুন্ডা’ শব্দটিরও আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। কোনও ব্যক্তি যদি এককভাবে বা কোনও গ্যাং বা সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে নিয়মিত এই ধরণের অপরাধমূলক কাজে যুক্ত থাকেন, তবে তিনি গুন্ডা হিসেবে চিহ্নিত হবেন। এছাড়া ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩’-এর ১১১ বা ১১২ নম্বর ধারায় চার্জশিটভুক্ত ব্যক্তি, অস্ত্র আইন, মাদক আইন, বিস্ফোরক আইন বা নারী পাচার প্রতিরোধ আইনে অপরাধী বা অপরাধে মদতদাতারাও এই আইনের কোপে পড়বেন।

আরও পড়ুন

কন্টেনারে ডিজেল কেনায় ছাড়, হাসপাতাল, কৃষি ও জরুরি পরিষেবার জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

ক্ষতিপূরণের টাকায় সুদ, না দিলে খাজনার মতো আদায়! ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে কড়া আইন আনছে শুভেন্দু সরকার

কীভাবে কার্যকর হবে এই আইন?

কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করতে গেলে পুলিশ সুপার (SP) বা তাঁর ঊর্ধ্বর্তন কোনও আধিকারিকের রিপোর্টের প্রয়োজন হবে। সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে রাজ্য সরকার আটকের নির্দেশ দিতে পারবে। এছাড়া, গত ৭ বছরের মধ্যে কোনও ব্যক্তি যদি অন্তত একবার আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে থাকেন কিংবা তিনটি ভিন্ন মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হয়ে থাকে, তবে পুলিশ কমিশনার (CP) বা জেলা শাসক (DM) তাঁকে আটক করতে পারবেন। এই আটকের বিষয়টি অবিলম্বে রাজ্যের ডিজিপিকে (DGP) জানাতে হবে।

কড়া শাস্তি ও জামিন-অযোগ্য অপরাধ

আইনটিকে অত্যন্ত কঠোর রূপ দেওয়া হয়েছে। এই আইনের অধীনে সমস্ত অপরাধকে সরাসরি ‘গ্রেফতারযোগ্য’ এবং ‘জামিন-অযোগ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে। কোনও অভিযুক্ত এই আইনের নির্দেশ লঙ্ঘন করলে তাঁর সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি, কোনও দাগী অপরাধী বা এলাকাছাড়া করার নির্দেশ পাওয়া ব্যক্তিকে কেউ যদি আশ্রয় দেন বা লুকিয়ে রাখেন, তবে আশ্রয়দাতারও ২ বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানা হতে পারে। 

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User