ভয় দেখিয়ে জেন-জি'কে দমাতে পারবেন না, সাতসকালে মোদী-শাহকে তোপ রাহুলের
ছাত্র আন্দোলন ও পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাহুল গান্ধী।
সরকার বিরোধী আন্দোলন দমনের ইসুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে আক্রমণে অবিচল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। শুক্রবার সাত সকালে লোকসভার বিরোধী দলনেতার রাহুল এক্স পোস্টে লিখেছেন, 'প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অমিত শাহ—আপনারা ভয় দেখিয়ে ‘জেন-জি’ (Gen Z)-কে চুপ করাতে পারবেন না। প্রথমে আপনারা তাদের হাড় ভেঙেছেন। আর এখন আপনারা এফআইআর (FIR) দায়ের করছেন এবং তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছেন। আপনারা ভারতের অতীত। ভারতের ভবিষ্যতের সঙ্গে কেমন আচরণ করছেন, সে বিষয়ে সতর্ক হোন।'
বৃহস্পতিবার সংসদে প্রশ্ন ফাঁস রুখতে কঠোর আইন সংক্রান্ত বিল পাস হয়ে গিয়েছে। বিরোধী শিবিরের এক দুটি দল বাদে বাকিরা বিল পাসের সময় অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। তাদের বক্তব্য, সংসদ অভিযানে ছাত্রদের উপর পুলিশের নিপীড়ন নির্যাতনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য ছাড়া এই বিল পাসে সম্মতি দেওয়া সম্ভব নয়। যদিও বিরোধীরা বিলটির বিরোধিতা করেনি।
বিরোধীদের বক্তব্য, পুলিশি অত্যাচার নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহকে সংসদে বিবৃতি দিতে হবে। দিল্লি পুলিশ সরাসরি শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে কাজ করে। অমিত শাহ বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে থাকলেও রাজ্যসভা বা লোকসভা কোনও কক্ষেই তাঁকে দেখা যায়নি।
বৃহস্পতিবারই সিআরপিএফের ডিজি জ্ঞানেন্দ্র প্রসাদ সিং এক বার্তায় বাহিনীকে নির্ভয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এর জন্য বাহিনী কোন সমস্যার মুখে পড়লে তার দায় আমি নেব। মনে করা হচ্ছে, সিআরপি'র ডিজির ওই বক্তব্য সরকারের সামগ্রিক কৌশলের অংশ।
দিল্লি পুলিশও একটি রিপোর্টে বলপ্রয়োগের পক্ষে সওয়াল করে দাবি করেছে সেদিন সংসদ অভিযানে প্রায় দুই হাজার এমন ব্যক্তি উপস্থিত ছিল যাদের বিরুদ্ধে অতীতে খুন ধর্ষণ ডাকাতি রাহাজানি অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
অমিত শাহ নিজে এই ঘটনা নিয়ে মুখ না খুললেও বাহিনীকে দিয়ে বলানো হয়েছে কোন পরিস্থিতিতে কেন যুক্তিসঙ্গত কারণে পুলিশ সেদিন বল প্রয়োগ করেছিল। যদিও বিরোধীরা সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখ থেকেই পুলিশের অভিযানে বল প্রয়োগের বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা শুনতে চায়। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদ ভবনে থাকা সত্ত্বেও অধিবেশন কক্ষে না আসায় দিনভর অশান্তি হয়েছে।
কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে। তাৎপর্যপূর্ণ হলো, একই দাবি উত্থাপন করেছে ককরোচ জনতা পার্টিও। তারাও বলেছে দিল্লি পুলিশ ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা থামবে না। নতুন করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি তরুণদের এই দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0