ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে যুক্ত হল UAPA-র ধারা, চাপ বাড়াল এনআইএ আদালত

এনআইএ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভাঙড় কাণ্ডের নেপথ্যে প্রধান পলাতক ও মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তি হলেন শওকত মোল্লা-ই। এখনও পর্যন্ত এই মামলায় যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকতই হলেন চতুর্থ অভিযুক্ত। সমস্ত প্রমাণ যাতে লোপাট করে দেওয়া যায়, সেই মর্মে সহযোগীদের যাবতীয় নির্দেশও শওকতই দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে রাজ্য পুলিশের হাত থেকে এই মামলার তদন্তভার নিজেদের কাঁধে তুলে নেয় এনআইএ।

Aug 22, 2026 - 10:57
0 0

ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারে যে বোমা বিস্ফোরণের (Bhangar Bomb Blast) ঘটনা ঘটেছিল, সেই মামলায় চাপ আরও বাড়ল ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার (Saokat Molla)। তাঁর বিরুদ্ধে এবার বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ‘ইউএপিএ’ (UAPA)-র মতো কড়া ধারা যুক্ত করল এনআইএ (NIA)। এনআইএ-র বিশেষ আদালতে এ বিষয়ে আবেদন জানানো হয়েছিল এবং বিচারক তদন্তকারী সংস্থার সেই আর্জিতে সায় দিয়ে ধারা যোগ করার অনুমতি মঞ্জুর করেছেন।

তদন্তকারীদের দাবি, নির্বাচনের ঠিক মুখে এলাকা উত্তপ্ত করতে এবং অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করতে বোমা বিস্ফোরণের যে ঘটনা ঘটেছিল, তার পেছনে বেশ কিছু গুরুতর ষড়যন্ত্রের সূত্র মিলেছে। মামলাটি খতিয়ে দেখতে গিয়ে এমন সব বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে, যার জেরে শওকতের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র মতো কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। সেই কারণেই বিশেষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল এনআইএ।

নিজেদের রিপোর্টে এনআইএ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই ভাঙড় বিস্ফোরণের নেপথ্যে প্রধান পলাতক ও মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তি হলেন শওকত মোল্লা-ই। এখনও পর্যন্ত এই মামলায় যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকতই হলেন চতুর্থ অভিযুক্ত। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, পুরো ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই তৃণমূল নেতাই। বাকিদের দিয়ে তিনিই বোমা বাঁধানোর কাজ করিয়েছিলেন।

শুধু তা-ই নয়, বিস্ফোরণ ঘটে যাওয়ার পর অপরাধের সমস্ত প্রমাণ যাতে লোপাট করে দেওয়া যায়, সেই মর্মে সহযোগীদের যাবতীয় নির্দেশও শওকতই দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে রাজ্য পুলিশের হাত থেকে এই মামলার তদন্তভার নিজেদের কাঁধে তুলে নেয় এনআইএ।

ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভা ভোটের কিছুদিন আগে। ভাঙড়ের বাজারে হওয়া ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই একজনের প্রাণ যায় এবং একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। ঘটনার পরেই এনআইএ তদন্তের জোরালো দাবি তোলেন ভাঙড়ের বিধায়ক তথা আইএসএফ প্রধান নওশাদ সিদ্দিকি। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শেষ পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের থেকে কেসের ফাইল হাতে নেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা। তদন্তে নেমে এনআইএ প্রথম দিকে এমন এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে, যে বিস্ফোরণের পর হতাহতদের গাড়িতে তুলে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

অভিযোগ, সম্ভবত ধীরে ধীরে শওকত মোল্লার দিকে এনআইএ-এর তদন্তের মোড় ঘুরতে পারে বুঝে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চম্পট দেওয়ার ছক কষছিলেন তৃণমূল নেতা। তাঁকে না পেয়ে গ্রেফতারের ঠিক দু’দিন আগেই ‘ফেরার’ হিসেবে ঘোষণা করে নোটিস জারি করা হয়েছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া চুনাখালি এলাকায় তাঁকে ঘুরঘুর করতেও দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু এলাকার মানুষ তাঁকে চিনে ফেলে সোচ্চার হতেই তড়িঘড়ি গাড়ির অভিমুখ ঘুরিয়ে চম্পট দেন তিনি।

অবশেষে গত ৫ জুন গভীর রাতে কলকাতার চিংড়িঘাটা এলাকা থেকে শওকতকে জালে তোলে এনআইএ। যদিও একটি সূত্রে দাবি, গ্রেফতারির আশঙ্কায় তিনি নিজেই এনআইএ দফতরে গিয়ে আত্মসমর্পণ করার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন, কিন্তু মাঝপথেই তাঁকে পাকড়াও করা হয়।

পরদিন, অর্থাৎ ৬ জুন শওকতকে কলকাতার নগর দায়রা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আর্জি জানান এনআইএ-র আইনজীবীরা। সেদিন নিউ টাউনে এনআইএ-র আঞ্চলিক কার্যালয়ের বাইরে তৈরি হয়েছিল এক অভূতপূর্ব নজিরবিহীন দৃশ্য। শওকত-বিরোধী জনতা এনআইএ দফতরের সামনে ভিড় জমান। কারও হাতে ছিল কাঁচা মাছ, কারও হাতে ডিম। তৃণমূল নেতাকে ভবন থেকে বার করে গাড়িতে তোলার মুহূর্তেই তাঁর দিকে দেদার ডিম-মাছ ছুঁড়তে শুরু করেন উপস্থিত মানুষজন। বাজানো হয় ‘মাছ চোর’ গান, সেই সুরের তালে তাণ্ডব ও নাচানাচিও চলে।

অন্যদিকে, ব্যাঙ্কশাল আদালত চত্বরেও শওকতের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিতে ক্যানিং থেকে বহু মানুষ কলকাতায় এসে ক্ষোভ উগরে দেন। আদালত চত্বর কাঁপিয়ে শওকত মোল্লার ফাঁসির দাবিতে সরব হন তাঁরা। এবার ভাঙড় কাণ্ডে ইউএপিএ ধারাও যুক্ত হল শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User