'ভোটের পর এবার দল চুরি!' তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ হতেই গর্জে উঠলেন রাহুল, তুলোধনা কমিশনকে

আসন্ন উপনির্বাচনের আগেই বড় ধাক্কা তৃণমূলের। মমতা ও ঋতব্রত গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিবাদে ফ্রিজ হলো 'জোড়াফুল' প্রতীক ও দলের নাম। কমিশনের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাল কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধী।

Sep 18, 2026 - 11:27
0 0

আসন্ন উপনির্বাচনের আগে নজিরবিহীন সঙ্কটে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী নিজেদেরই আসল তৃণমূল বলে দাবি করায়, আপাতত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের সংরক্ষিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্তর্বর্তী নির্দেশে দুই গোষ্ঠীকেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য, শিবসেনা ও এনসিপির ক্ষেত্রে যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে, এবার তৃণমূলের ক্ষেত্রেও একই ধারা বজায় রাখল কমিশন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন মিলে দল ভাঙার পরিস্থিতি তৈরি করছে এবং পরে দলের নির্বাচনী প্রতীক কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুলের দাবি, কোনও একটি দলই যদি ‘চুরি’ হয়ে যেতে পারে, তা হলে দেশের কোটি কোটি মানুষের ভোট চুরি হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। তাঁর কথায়, ‘ভোট চুরি’, ‘সরকার চুরি’র পর এখন ‘দল চুরি’ও গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের প্রতীক হয়ে উঠছে। নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব মানুষের রায় রক্ষা করা, অথচ কমিশন সেই রায়কে উল্টে দেওয়ার শক্তির পাশে দাঁড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকতে দেখা গেছে কংগ্রেসকে। ৪ মে-র পর মমতা ও অভিষেক উড়ে গিয়েছিলেন দিল্লি। জল্পনা তৈরি হয়েছিল তাঁর কংগ্রেসে ঘর ওয়াপসি নিয়ে। সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর সেনিয়ে যদিও কোনও সূত্র সামনে আসেনি। কিন্তু হাবে-ভাবে কংগ্রেস বুঝিয়ে দিয়েছে তাঁরা তৃণমূলের দুর্দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছে। আর এক্ষেত্রেও তাই দেখা গেল।

পোস্টে রাহুল স্পষ্ট করেছেন, কমিশন যা করল তা মেনে নেওয়া যায়নি। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একার নয়। এই লড়াই দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের, প্রতিটি সেই ভোটারের, যিনি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন চান।

এদিকে, কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে উপনির্বাচন কালীঘাট বা ঋতব্রত, কোনও পক্ষই আপাতত তৃণমূলের মূল নাম বা জোড়াফুল প্রতীকে লড়তে পারবে না। দুই গোষ্ঠীকে শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে তিনটি করে দলের নাম এবং তিনটি করে মুক্ত প্রতীকের পছন্দ জানাতে বলা হয়েছে। সেখান থেকেই কমিশন প্রতিটি গোষ্ঠীর জন্য একটি করে নাম ও প্রতীক নির্ধারণ করবে। এই ব্যবস্থা আপাতত অন্তর্বর্তী। দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং নাম-প্রতীকের দাবির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন রয়েছে। একই সময়ে অসমের নগাঁও লোকসভা আসনেও উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দলীয় নাম, সাংগঠনিক কর্তৃত্ব এবং জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে বিবাদ নির্বাচন কমিশনের সামনে পৌঁছয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের বক্তব্য ও নথি খতিয়ে দেখেছে কমিশন। এখন জোড়াফুল ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোন চিহ্ন বেছে নেন নতুন করে, ঋতব্রত শিবিরই বা কোন চিহ্নে প্রার্থী দাঁড় করাতে রাজি হন, সেটা দেখার।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User