দেহ টানছিল কুকুরে, বোঝা যায়নি লিঙ্গ! কীভাবে দিল্লিতে কিশোরী ধর্ষণে নাবালকদের পাকড়াও করল পুলিশ?
দিল্লির স্বরূপনগরে ১৬ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণ ও খুনের তদন্তে কোনও প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না। ৫০টির বেশি সিসিটিভি ফুটেজ ও একটি টেম্পো ট্র্যাক করে যেভাবে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করল পুলিশ।
দিল্লির স্বরূপনগরে মাঠ থেকে উদ্ধার হল ১৬ বছরের এক কিশোরীর দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁকে গণধর্ষণের পর ছুরি দিয়ে খুন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দেহটি এতটাই পচে গিয়েছিল এবং ক্ষতবিক্ষত ছিল যে প্রথমে মৃতের লিঙ্গ নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পরে চিকিৎসা পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ মেলে।
১৩ সেপ্টেম্বর সকালে স্বরূপনগরের কুশক রোড সংলগ্ন একটি মাঠে কয়েকটি পথকুকুরকে দেহটি নিয়ে টানাটানি করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দেহের মুখ পুরোপুরি ক্ষতবিক্ষত ছিল। শরীরে একাধিক ছুরির আঘাতের চিহ্ন মেলে। একটি হাত শরীর থেকে আলাদা অবস্থায় পড়েছিল এবং দেহের কিছু অংশ কুকুরে খেয়ে ফেলেছিল।
তদন্তে জানা যায়, কিশোরীকে ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার খুন করা হয়ে থাকতে পারে। পরিবারের তরফে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ওই কিশোরী মাঝেমধ্যেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে কয়েক দিন পর ফিরে আসত। তাই তাঁরা অভিযোগ জানানোর কথা ভাবেননি, তরুণী ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন।
যে চারজন ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে, তাদের প্রত্যেককেই চিনত সে। ঘটনার দিন তাদের সঙ্গে একটি টেম্পোয় চেপে যাতায়াতও করেছিল। চার অভিযুক্তের বয়স ১৬ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে তিনজন নাবালক। ঘটনার পর চারজনকেই হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসো আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
প্রথম দিকে কোনও প্রত্যক্ষদর্শী বা অভিযুক্তের পরিচয় না মেলায় তদন্তকারীরা এলাকার ৫০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। ঘটনার সময়ের আশপাশে একটি টেম্পোকে ওই এলাকায় চলাচল করতে দেখা যায়। অন্ধকারের কারণে নম্বর স্পষ্ট না হওয়ায় বিভিন্ন জায়গার ক্যামেরার ফুটেজ মিলিয়ে টেম্পোটির গতিবিধি অনুসরণ করেন তাঁরা।
১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের মাঝের রাতে তল্লাশি চালিয়ে ওই টেম্পোটি চিহ্নিত করা হয়। চালককে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্ত এগোয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক যুবকের নাম শিবম ওরফে সুদামা ওরফে চুচু। তিনি খাড্ডা কলোনির বাসিন্দা। বাকি তিনজন নাবালক, কোথায় বাড়ি জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযুক্তদের কাছ থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত বলে দাবি করা দু’টি ছুরি, তাঁদের পরা পোশাক এবং টেম্পোটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)