শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জীবদ্দশায় তাঁর মোট চারটি ছবি তোলা হয়েছিল, প্রথমটি এই সেপ্টেম্বরে
১৮৩৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। ফাল্গুন মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায়ের ঘরে মা চন্দ্রমণি দেবীর কোল আলো করে এলেন তিনি। হুগলি জেলার কামারপুকুর গ্রামে সেদিন যে অপূর্ব এক ঘটনা ঘটল, পরবর্তী ৫০ বছরের অনাগত সময় যেন তারই প্রতীক্ষায় ছিল। পরাধীন দেশের ভাঙাচোরা আর্থিক-সামাজিক-মানবিক ক্যানভাস। সেখানেই নতুন ছবি আঁকলেন তিনি। ছবির রং মালিন্য ঘোচাল দেশীয় মননের।
১৮৩৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। ফাল্গুন মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায়ের ঘরে মা চন্দ্রমণি দেবীর কোল আলো করে এলেন তিনি (Sri Ramakrishna)। হুগলি জেলার কামারপুকুর গ্রামে সেদিন যে অপূর্ব এক ঘটনা ঘটল, পরবর্তী ৫০ বছরের অনাগত সময় যেন তারই প্রতীক্ষায় ছিল (Sri Ramakrishna Birth Story)। পরাধীন দেশের ভাঙাচোরা আর্থিক-সামাজিক-মানবিক ক্যানভাস। সেখানেই নতুন ছবি আঁকলেন তিনি। ছবির রং মালিন্য ঘোচাল দেশীয় মননের।
পরমহংস শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের (Sri Ramakrishna Paramhansa) দর্শন বাংলার সীমা ছাড়িয়ে গোটা দেশে আলো ছড়ালেও ১৮৭৯ পর্যন্ত তাঁর কোনও ছবি ছিল না। অথচ ততদিনে আবিষ্কৃত হয়ে গেছে ফটোগ্রাফ। ১৮২৬ বা ১৮২৭ সালেই ফ্রান্সের বার্গান্ডিতে নিজের বাড়ির জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য 'হেলিওগ্রাফি' পদ্ধতিতে বন্দি করে ফেলেছেন জোসেফ নিসেফোর নিপেস। বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের উপযোগী প্রথম স্টিল ক্যামেরাও বাজারে এসে গেছে ১৮৩৯ সালে। লুই দাগের ও আলফঁস জিরোর হাত ধরে। ভারতেও ব্যবহার হচ্ছিল সেই প্রযুক্তি। তবে তারপরেও কোনও ছবি ছিল না বাঙালির প্রাণের ঠাকুরের।
দিনটি ছিল ১৮৭৯ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর। ভাগ্নে হৃদয়কে নিয়ে কেশবচন্দ্র সেনের বাসভবন কমল কুটীরে গিয়েছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণদেব। ব্রাহ্মোৎসবে যোগ দিতে। ঠাকুর সেখানে পৌঁছতেই আনন্দের আবহ। ঈশ্বর আলোচনার মাঝেই শুরু হল গান। 'সচ্চিদানন্দ বিগ্ৰহ রূপানন্দ ঘন' গানটি শুনে বিভোর হলেন ঠাকুর। দাঁড়িয়ে পড়লেন। বাঁ হাত বুকের উপর। ডানহাত ঊর্ধ্বমুখী। সেখানে অপূর্ব মৃগমুদ্রা। সম্পূর্ণ সমাধিস্থ ঠাকুরের ঠোঁটে স্বর্গীয় হাসি। কমল কুটীরের সেই ঘরে তখন উপস্থিত ভাগ্নে হৃদয় আর কয়েকজন ব্রাহ্মভক্ত। তাঁর এই অপূর্ব ভাবসমাধির ছবি তোলা হল ক্যামেরাতে। অবতার শ্রীরামকৃষ্ণদেবের প্রথম ছবি সেটিই।
এরপরের ছবি উঠেছিল ১৮৮১ সালের ১০ই ডিসেম্বর। ঠাকুরের ইচ্ছা হয় ক্যামেরাতে কীভাবে ফটো তোলা হয় তা দেখার। এই ইচ্ছে পূরণ করতে রাধাবাজারে বেঙ্গল ফোটোগ্রাফার্স স্টুডিওতে তাঁকে নিয়ে আসেন ভক্ত সুরেন্দ্রনাথ মিত্র। এই স্টুডিওতেই ঠাকুরের দ্বিতীয় ছবি তুলেছিলেন মালিক নীলমাধব দে। একটি গোল থামের উপর হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন ঠাকুর। ছবি ওঠার পিছনে কার্যকারণ বুঝে নিয়ে পরমহংসদেব কেশব সেনকে বলেছিলেন, " আজ বেশ কলে ছবি তোলা দেখে এলাম। দেখলুম শুধু কাঁঁচের উপর ছবি থাকে না, একটু কালি মিশিয়ে নিতে হয়, তেমনই শূন্যমনে ঈশ্বরের কথা কখনও ছাপ ফেলে না, উড়ে যায়। অনুরাগ ও ব্যাকুলতা মাখানো থাকলে তবেই সে কথার অর্থ পরিষ্কার হয়, মনে ছাপ ফেলে।"
১৮৮৩ সালের অক্টোবর মাসের এক রবিবারে নরেন্দ্রনাথের বন্ধু ভবনাথ চট্টোপাধ্যায় ফটোগ্রাফার নিয়ে দক্ষিণেশ্বরে এলেন ঠাকুরের ছবি তুলবেন বলে। কিন্তু ঠাকুর নাচার। নরেন্দ্রনাথ এগিয়ে এলেন বন্ধুকে সাহায্য করতে। মন্দিরের চাতালে ভগবৎপ্রসঙ্গ আলোচনা শুরু করলেন ঠাকুরের সঙ্গে। কথা বলতে বলতেই বাহ্যজ্ঞান হারালেন ঠাকুর। তখনই তোলা হল তাঁর চতুর্থ ছবি। পরে এই ছবি দেখে আবেগে ভেসে যান ঠাকুর। বলেন, "এ তো মহাযোগের লক্ষণ। এ ছবি কালে ঘরে ঘরে পূজা হবে।"
মাঝে তৃতীয় আরেকবার ছবি তোলা হয়েছিল শ্রীরামকৃষ্ণদেবের। ভক্ত রামচন্দ্র দত্ত ছবি তুলে তাঁকে দেখালে ঠাকুর বলেছিলেন, "আমি কি এত রাগী?" নেগেটিভ-সহ সেই ছবি গঙ্গায় বিসর্জন দিয়েছিলেন রামচন্দ্র দত্ত। সেই সঙ্গেই তা চলে গিয়েছিল বিস্মৃতির অতলে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)