স্কুলের ৫০ মিটারের মধ্যে মিলবে না চিপস, কোল্ড ড্রিঙ্ক! বাচ্চাদের সুস্থ রাখতে বড় পদক্ষেপ সরকারের
মহারাষ্ট্রে স্কুল ও স্কুলের ৫০ মিটারের মধ্যে জাঙ্ক ফুড বিক্রি ও বিজ্ঞাপনে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য শুধুমাত্র জাঙ্ক ফুড বন্ধ করা নয়, বরং ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা।
স্কুল ও তার আশপাশে জাঙ্ক ফুড (Junk Food) বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করল মহারাষ্ট্র সরকার। স্কুল চত্বর এবং তার ৫০ মিটারের মধ্যে অতিরিক্ত চর্বি, ট্রান্স ফ্যাট, চিনি ও লবণযুক্ত খাবার বিক্রি, বিতরণ কিংবা বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না। শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে। তবে শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নিষেধাজ্ঞাই যথেষ্ট নয়, সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর বিকল্পের সহজলভ্যতা প্রয়োজন।
দিল্লির ম্যাককিউর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ অদিতি সচদেবার মতে, দিনের বড় একটা সময় শিশুরা স্কুলে কাটায়। ফলে তাদের খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে স্কুলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও শিশুকে মাঝে মধ্যে প্রিয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখা নয়, এই উগ্যোগের উদ্দেশ্য, জাঙ্ক ফুডকে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার অংশ হয়ে উঠতে না দেওয়া এবং ছোট থেকেই লিভার সর্বোপরি শরীর বাঁচাতে সাহায্য করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার (Processed Food), প্যাকেটজাত স্ন্যাকস ও চিনিযুক্ত পানীয় শরীরে ক্যালোরি বাড়ালেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয় না। এর পরিবর্তে ফল, দুধ, বাদাম ও সুষম খাবার শিশুদের বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের বিকাশ এবং পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
চিকিৎসকদের মতে, ভারতে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা (Childhood Obesity) এবং অল্প বয়সে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। তাই ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, শৈশবে তৈরি হওয়া অভ্যাসই পরবর্তী জীবনে দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকে।
তবে শুধু নিয়ম করে জাঙ্ক ফুড সরিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ডাঃ সচদেবার মতে, এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং খাবার বিক্রেতাদের সচেতনতার উপর। স্বাস্থ্যকর খাবার যাতে সহজলভ্য, আকর্ষণীয় এবং সাশ্রয়ী হয়, তা নিশ্চিত করাও জরুরি। তা না হলে মধ্যবিত্ত পরিবারকে এই সব খাবারের উপরই নির্ভরশীল হতে হবে।
তাই জাঙ্ক স্কুল চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি স্কুলে স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবেশ তৈরি করতে হবে, বাড়িতেও অভিভাবকদের একই অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করলে শিশুদের সুস্থ জীবনযাপনের ভিত্তি আরও মজবুত হবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)