২,০০০ টাকার বেশি UPI পেমেন্টে কি চার্জ কাটবে? কেন্দ্রের নতুন নিয়মে যা জানা জরুরি
UPI লেনদেনে ‘মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট’ বা MDR চালু করা হবে কি না, সেই আলোচনা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু বড় অঙ্কের ব্যবসায়িক লেনদেনে দোকান বা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সামান্য ফি নেওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে।
UPI-তে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে কোনও চার্জ নেওয়া যাবে না—নতুন বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, তার চেয়ে বেশি টাকা পাঠালে কি গ্রাহককে অতিরিক্ত খরচ দিতে হবে? সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর হল—না, এই মুহূর্তে ২,০০০ টাকার বেশি UPI পেমেন্ট করলেও গ্রাহককে কোনও ট্রানজাকশন ফি দিতে হবে না।
তবে UPI লেনদেনে ‘মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট’ বা MDR চালু করা হবে কি না, সেই আলোচনা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু বড় অঙ্কের ব্যবসায়িক লেনদেনে দোকান বা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সামান্য ফি নেওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে।
২,০০০ টাকা পর্যন্ত UPI লেনদেনে কী নিয়ম?
পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস আইনের ১০এ ধারায় আনা পরিবর্তন সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্র জানিয়েছে, দুটি ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে চার্জ করা যাবে না—
RuPay ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে করা পেমেন্ট ২,০০০ টাকা পর্যন্ত UPI লেনদেন
অর্থাৎ, একজন গ্রাহক ২,০০০ টাকা পর্যন্ত UPI-তে কাউকে টাকা পাঠালে ব্যাঙ্ক, পেমেন্ট অ্যাপ বা অন্য কোনও পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা তাঁর কাছ থেকে চার্জ নিতে পারবে না। যিনি টাকা গ্রহণ করছেন, তাঁর কাছ থেকেও এই সীমার মধ্যে কোনও ফি নেওয়া যাবে না।
২,০০০ টাকার বেশি পাঠালে কি গ্রাহকের টাকা কাটবে?
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২,০০০ টাকার বেশি UPI পেমেন্ট করলেও গ্রাহকের উপর কোনও চার্জ বসছে না।
গত ১১ অগস্ট রাজ্যসভায় ‘ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ় (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে আলোচনার সময় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সংশোধিত আইনটি একটি ‘এনেবলিং প্রভিশন’। অর্থাৎ, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চার্জ চালুর সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এই আইনের মাধ্যমে UPI ব্যবহারকারীর উপর কোনও কর বা লেনদেনের ফি চাপানো হয়নি।
ফুটপাতের বিক্রেতা, ক্যাবচালক, মুদির দোকান বা অন্য ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও এখনই কোনও চার্জ বসছে না। তবে ভবিষ্যতে ফি চালু হলে সেটি গ্রাহকের পরিবর্তে ব্যবসায়ী বা মার্চেন্টকে দিতে হতে পারে।
MDR কী?
মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা MDR হল ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করার জন্য ব্যবসায়ীকে ব্যাঙ্ক অথবা পেমেন্ট সংস্থার কাছে দেওয়া একটি ছোট প্রক্রিয়াকরণ ফি।
ধরা যাক, কোনও গ্রাহক QR কোড স্ক্যান করে দোকানদারকে টাকা দিলেন। সেই লেনদেন পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা দোকানদারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট শতাংশ অর্থ কেটে নিতে পারে। এটিই MDR।
ডিজিটাল পেমেন্ট জনপ্রিয় করতে ২০২০ সাল থেকে UPI লেনদেনে MDR শূন্য রাখা হয়েছে। ফলে সাধারণ গ্রাহকের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও বিনা খরচে UPI পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারছেন।
তা হলে MDR নিয়ে ফের আলোচনা কেন?
দেশে UPI লেনদেনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গত অগস্টে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ২৪৫১ কোটি লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ২৯.৮২ লক্ষ কোটি টাকা।
এত বড় পেমেন্ট পরিকাঠামো চালানোর জন্য প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, প্রতারণা প্রতিরোধ এবং গ্রাহক পরিষেবায় বিপুল খরচ হয়। বর্তমানে ব্যাঙ্ক, থার্ড-পার্টি পেমেন্ট অ্যাপ এবং ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া বা NPCI সেই ব্যয় বহন করে। শূন্য-MDR ব্যবস্থা চালু রাখার জন্য কেন্দ্রও ব্যাঙ্কগুলিকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে।
পেমেন্ট সংস্থাগুলির দাবি, সীমিত ক্ষেত্রে MDR নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে তারা নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি পরিকাঠামোয় আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে। ব্রোকারেজ সংস্থা জেফারিজের একটি অনুমান অনুযায়ী, বড় অঙ্কের মার্চেন্ট UPI পেমেন্টে ফি চালু হলে সংশ্লিষ্ট শিল্প বছরে প্রায় ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ কোটি টাকা আয় করতে পারে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কারা?
আইনের সংশোধন সরকারকে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট UPI লেনদেনে চার্জের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু আইনটি নিজে থেকে কোনও চার্জ চালু করেনি।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, NPCI-র নেতৃত্বাধীন ২২ সদস্যের UPI অ্যান্ড সার্ভিসেস স্টিয়ারিং কমিটি MDR চালু করা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করবে। কমিটিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্ক এবং প্রধান UPI পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।
MDR চালু হলে কোন ধরনের লেনদেনে তা প্রযোজ্য হবে, কত টাকার বেশি পেমেন্টে নেওয়া হবে এবং ফি-এর হার কত হবে—এসবও কমিটিকেই নির্ধারণ করতে হবে। এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তাই আপাতত সাধারণ UPI ব্যবহারকারীদের উদ্বেগের কারণ নেই। ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেন করলেই গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে চার্জ কাটা শুরু হবে—এমন কোনও সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। ভবিষ্যতে কোনও ফি চালু হলেও তার সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে নির্দিষ্ট ধরনের বড় মার্চেন্ট পেমেন্ট, সাধারণ ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির টাকা পাঠানো নয়।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)