Nick Kyrgios: ড্রাগ টেস্টে কোকেন পজিটিভ, ভুল স্বীকার করেও লাভ হল না! টেনিস থেকে নির্বাসিত কিরিয়স
ড্রাগ টেস্টে পজিটিভ হয়ে নির্বাসিত টেনিস তারকা নিক কিরিয়স। কোকেন সেবনের কথা স্বীকার করে নিলেন অজি তারকা। বিস্তারিত পড়ুন।
ডোপ পরীক্ষায় চূড়ান্ত ব্যর্থ। শরীরে মিলেছে নিষিদ্ধ মাদক। ফলস্বরূপ টেনিস থেকে সাময়িকভাবে নির্বাসিত হলেন নিক কিরিয়স (Nick Kyrgios)। ড্রাগ টেস্টে কোকেন পজিটিভ হওয়ার পর নিজের দোষ নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিয়েছেন এই অস্ট্রেলীয় তারকা (Tennis News)। বিশ্ব টেনিস মহলে এই খবর রীতিমতো আলোড়ন ফেলেছে।
মায়োর্কা ওপেনে বিপত্তি
গত ২২ জুন মায়োর্কা ওপেন চলাকালীন তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষার পর সেই নমুনায় 'বেনজয়েলেকগোনিন'-এর উপস্থিতি মিলেছে। এটি মূলত কোকেনের একটি মেটাবোলাইট।
ইতোমধ্যে কড়া পদক্ষেপ করেছে ইন্টারন্যাশনাল টেনিস ইন্টিগ্রিটি এজেন্সি (ITIA)। গত ৪ অগস্ট থেকে তাঁকে সাময়িকভাবে নির্বাসিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ ছিল কিরিয়সের হাতে। তবে এখনও পর্যন্ত সেই পথে হাঁটেননি তিনি।
বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সির (WADA) নিষিদ্ধ তালিকায় কোকেন একটি উদ্দীপক এবং অপব্যবহারযোগ্য পদার্থ হিসেবে চিহ্নিত। টুর্নামেন্টের বাইরে এই মাদক ধরা পড়লে শাস্তির মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম হয়। কিন্তু কিরিয়সের নমুনা নেওয়া হয়েছিল প্রতিযোগিতা চলাকালীন। ওই প্রতিযোগিতার সিঙ্গলসে খেলছিলেন তিনি। প্রথম রাউন্ডেই অ্যাডাম ওয়ালটনের কাছে হেরে বিদায় নেন।
ইনস্টাগ্রামে ভুল স্বীকার
ডোপিংয়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খোলেন প্রাক্তন ১৩ নম্বর তারকা। ইনস্টাগ্রামে এক দীর্ঘ বার্তায় অনুতপ্ত কিরিয়সের বক্তব্য, 'আমি একটা মস্ত বড় ভুল করেছি। এর সম্পূর্ণ দায়ভার আমি নিচ্ছি।' চোট-আঘাতের কারণে গত কয়েক বছর ধরেই কোর্টের বাইরে। সেই হতাশার কথাই ফুটে উঠেছে কিরিয়সের পোস্টে। জানান, 'গত কয়েক বছরের চোট আমার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে আমি বিধ্বস্ত। আমার মন যা চাইছে, শরীর তা করতে পারছে না।'
কেরিয়ারের সায়াহ্নে এসে এই উপলব্ধি মেনে নেওয়া কঠিন। কিরিয়সের কথায়, 'কেরিয়ারের শেষের দিকে চলে এসেছি, এটা মেনে নেওয়া আমার কল্পনার চেয়েও কঠিন ছিল। তবে আমি যা করেছি, তার কোনও অজুহাত হয় না।'
কোর্ট থেকে দূরে অন্তরাল
এই নির্বাসনের জেরে কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামে অংশ নিতে পারবেন না কিরিয়স। এটিপি বা ডব্লিউটিএ (ATP Tour) অনুমোদিত টুর্নামেন্টেও তাঁর প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। খেলতে তো পারবেনই না। এমনকী দর্শক বা কোচ হিসেবেও প্রবেশাধিকার নেই।
৩১ বছর বয়সি এই তারকা চলতি মরসুমে কোর্টে নেমেছিলেন মাত্র চারবার। চারটি সিঙ্গলস ম্যাচের মধ্যে হেরেছেন তিনটিতেই। হাঁটু ও কব্জির চোটে দীর্ঘদিন ভুগেছেন। তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন ছিলই। সর্বশেষ উইম্বলডনে পুরুষদের ডাবলসে আলেকজান্ডার বুবলিকের সঙ্গে জুটি বেঁধে কোর্টে নামেন। সেখানেও প্রথম রাউন্ডে হার হজম করতে হয়।
এই ঘোর দুঃসময়ে নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিচ্ছেন কিরিয়স। নিজেকে সুস্থ করে তুলতে আগামী ২৮ দিন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত বিতর্কিত টেনিস খেলোয়াড়ের (Australian Tennis Player)। জনসমক্ষ থেকেও নিজেকে সরিয়ে রাখছেন নিক কিরিয়স।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)