World Cup 2026: নেপথ্যে বেজিংয়ের বিনিয়োগ! বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও ভবিষ্যতের নকশা ছকে ফেলেছে কঙ্গো

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিলেও চিনের বড় বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকাঠামো পরিকল্পনায় ভবিষ্যতের নকশা ছকে ফেলেছে ডিআর কঙ্গো। জানুন বিস্তারিত।

Jul 02, 2026 - 16:59
0 0
World Cup 2026: নেপথ্যে বেজিংয়ের বিনিয়োগ! বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও ভবিষ্যতের নকশা ছকে ফেলেছে কঙ্গো

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) ডিআর কঙ্গোর (DR Congo Football Team) লড়াই শুধু ৯০ মিনিটের গল্প নয়। পর্তুগালের বিরুদ্ধে ড্র, কলম্বিয়ার কাছে অল্প ব্যবধানে হার—এই ফলাফল যতটা আলোচনায়, সমান গুরুত্বপূর্ণ কীভাবে কয়েক বছরের পরিকল্পনা, পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দেশটির ফুটবলকে এই জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে, সেই উত্থানের রহস্য অনুসন্ধান! গতরাতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রাণপণ লড়েও ছিটকে যেতে হল ঠিকই। তবু বিশ্বকাপ কঙ্গোর আবির্ভাব সামগ্রিকভাবে মেলে ধরছে আফ্রিকায় ফুটবল-পরিকাঠামো বিকাশের ছবি (World Cup Knockout Stage)।

আফ্রিকার উত্থানের গল্প

একসময় বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলগুলিকে শুধু চমক-ধরানো প্রতিযোগী হিসেবে দেখা হত। এখন সেই ধারণা বদলাচ্ছে। ডিআর কঙ্গো, মরক্কো, ঘানা বা আরও কয়েকটি দেশ নিয়মিতভাবে কঠিন লড়াই দিচ্ছে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে। এর পিছনে শুধু ভাল ফুটবলার নয়, রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও। যুব ফুটবলে বিনিয়োগ, আধুনিক স্টেডিয়াম, উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং বিদেশি সহযোগিতা—সব মিলিয়ে আফ্রিকার ফুটবলের ভিত আগের চাইতে অনেক মজবুত। ডিআর কঙ্গোর এবারের বিশ্বকাপ অভিযানও সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন।

স্টেডিয়াম থেকে প্রযুক্তি, পাশে চিন

এই উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার চিন (China Investment in Football)। দুই দেশের সম্পর্ক শুধু অর্থনীতি বা বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বেড়েছে। সম্প্রতি ইবোলা সংক্রমণ মোকাবিলায় চিন কিনশাসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল পাঠিয়েছে। অগ্রগতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ রাজধানীর স্টাডে দে মার্তি (Stade des Martyrs Stadium)। ৮০ হাজার দর্শকাসনবিশিষ্ট এই স্টেডিয়াম চিনের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতায় তৈরি। ১৯৯৩ সালে উদ্বোধনের পর থেকেই এটি ডিআর কঙ্গোর প্রধান ক্রীড়াকেন্দ্র। ফ্রাঙ্কোফোনি গেমস আয়োজনের পর এখন স্টেডিয়ামটিকে ফিফা ও আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের মান অনুযায়ী আধুনিকতর করে তোলা হচ্ছে। যে সংস্কারের দায়িত্বে একাধিক চিনা সংস্থা। শুধু কাঠামোগত উন্নয়ন নয়, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং বড় ডিসপ্লে স্ক্রিনও বসানো হচ্ছে।

শুধু ইট-পাথর নয়, তৈরি হচ্ছে দক্ষ কর্মীও

প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ। লক্ষ্য শুধু স্টেডিয়াম বানানো নয়, ভবিষ্যতে স্থানীয়রাই যাতে সেটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারেন, সেই সক্ষমতাও গড়ে তোলা।

চিনের ভূমিকা অবশ্য ডিআর কঙ্গোতেই সীমাবদ্ধ নয়। চলতি বিশ্বকাপে নানা ক্ষেত্রে তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। লেনোভো ও হিসেন্স টুর্নামেন্টের ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং ম্যাচ বিশ্লেষণের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পরিষেবা দিচ্ছে। অফিসিয়াল ম্যাচ বলে গোঁজা রয়েছে চিনে তৈরি স্মার্ট সেন্সর, যা রিয়েল-টাইম সিদ্ধান্ত আরও নির্ভুল করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া আয়োজক দেশগুলিতে রয়েছে চিনে তৈরি বৈদ্যুতিক বাস-ট্রাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও দেখা গিয়েছে চিনা খেলনা সংস্থা পপ মার্টের জনপ্রিয় চরিত্র 'লাবুবু', যা সাংস্কৃতিক উপস্থিতির বড় দৃষ্টান্ত।

বিশ্বকাপের বাইরে দীর্ঘমেয়াদি লাভ

ডিআর কঙ্গো শেষ পর্যন্ত নকআউটে উঠতে না পারলেও তাদের বিশ্বকাপ সফরে ইতিমধ্যে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট। আধুনিক ফুটবল শুধু প্রতিভার উপর দাঁড়িয়ে থাকে না। জরুরি ভাল পরিকাঠামো, উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ প্রশিক্ষক এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। চিনের সহযোগিতায় ডিআর কঙ্গো সেই ভিত শক্ত করার চেষ্টা করেছে। আধুনিক ময়দান, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং স্থানীয় দক্ষতা তৈরির উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য বড় সম্পদ। তাই এই বিশ্বকাপে কঙ্গোর সাফল্য বা ব্যর্থতা শুধু কয়েকটি ম্যাচের ফল নয়। এ এক এমন এক ফুটবল-জার্নির অংশ, যার লক্ষ্য এক দিনের সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষমতা তৈরি করা।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User