অষ্টমীর দিন রাজ্যে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে মদ বিক্রি, দুর্গাপুজোর বৈঠকে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
আসন্ন দুর্গাপুজো উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতি ও সমন্বয় বৈঠকে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিন রাজ্যজুড়ে সমস্ত মদের দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এমনকি কোনও বারেও মদ বিক্রি করা যাবে না।
আসন্ন দুর্গোৎসবকে ঘিরে রাজ্য প্রশাসনের প্রস্তুতি বৈঠকে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত দুর্গাপুজো প্রস্তুতি ও সমন্বয় বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুজোয় শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় ভাবাবেগ বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ করবে সরকার। তবে এটিকে কোনও ধরনের ‘বিধিনিষেধ’ বা চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সার্বিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে অন্যতম বড় ঘোষণা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মহা অষ্টমীর দিন রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান ও বার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। কোথাও কোনওভাবেই সেদিন মদ বিক্রি করা যাবে না। যদিও, এর আগের বিভিন্ন বছরের হিসাব থেকে দেখা গিয়েছে অষ্টমী এবং নবমীর দিনেরই মদ বিক্রি থেকে সবথেকে বেশি রাজস্ব আদায় হয় পশ্চিমবঙ্গের। এরপরেও, সরকারের তরফে অষ্টমীর দিন মদ বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুজোয় যাতে কোনও রকম অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সেই কথা মাথায় রেখেই এই অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি, মা দুর্গার প্রতি মানুষের অকৃত্রিম আস্থা ও বাংলার ঐতিহ্যকে কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ করা যাবে না বলে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন। প্রতিমা, প্যান্ডেল বা থিম নির্মাণে এমন কিছু করা যাবে না যা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে।
উৎসবকে জাঁকজমকপূর্ণ করতে একাধিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের ছ'টি প্রধান শহরে দু'দিন ব্যাপী বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছ'টি নির্দিষ্ট ঘাটেও বিশেষ কার্যক্রমের আয়োজন করা হবে। এছাড়াও, দিব্যাঙ্গজন, বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিক ও বিভিন্ন আশ্রমে থাকা মানুষদের জন্য বিশেষভাবে পুজো পরিক্রমার বন্দোবস্ত করবে সরকার। অন্যদিকে, সরকারি শারদ সম্মান প্রদানের ক্ষেত্রে বিচারকমণ্ডলীতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও পুজোর শাস্ত্রীয় এবং সাংস্কৃতিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ ব্যক্তিদের রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
পুজো কমিটিগুলির জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়মও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বলা হয়েছে মাতৃপক্ষ বা দেবীপক্ষের সূচনা হওয়ার আগে কোনওভাবেই কোনও পুজোর উদ্বোধন করা যাবে না এবং সরকার এর অনুমতিও দেবে না। কোনও অবস্থাতেই জাতীয় সড়ক আটকে পুজোর আয়োজন করা যাবে না। কলকাতার ক্ষেত্রে রেড রোড ও ক্যাথিড্রাল রোড সহ মোট ১৩টি প্রধান রাস্তা আটকে পুজো করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়াও, পুজো ও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ডিজে (DJ) বাজানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোজাগরি লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন অর্থাৎ নির্দিষ্ট কাট-অফ ডেট-এর মধ্যেই সমস্ত প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করতে হবে। জোর করে বা ধমকচমক দিয়ে বিসর্জনের দিন পরিবর্তন করা হবে না। তবে স্বস্তির বিষয় হল, নতুন পুজোগুলির ক্ষেত্রে কোনও ধরনের কড়াকড়ি বা বিধিনিষেধ থাকছে না।
এছাড়া, আসন্ন মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী, এবং অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দর হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
উৎসবের আনন্দ যাতে সবার মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো যায়, তার জন্যই এই সমন্বিত পরিকল্পনা বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)