'আপনাদের ব্যবহার করব না, নির্বাচনে রাজনৈতিক ক্যাডার বানাব না', WBCS অফিসারদের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার বার্তা দিয়ে ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের (WBCS Officers) উদ্দেশে অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার রাজ্যের ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানান, প্রশাসনকে কোনওভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না। একইসঙ্গে অতীতের প্রশাসনিক সংস্কৃতি নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠক থেকেই প্রশাসনের প্রতি নিজের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর কথায়, ভয়, চাপ কিংবা অন্য কোনও কারণে নীচুতলার একাংশের আধিকারিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তবে সেই পরিস্থিতি থেকে প্রশাসনকে বের করে আনতেই হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত আধিকারিকদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, “আপনাদের ব্যবহার করব না, নির্বাচনে রাজনৈতিক কর্মী বানাব না।” প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রশ্নে তাঁর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। একইসঙ্গে তিনি জানান, আধিকারিকদের পেশ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার বার্তা দিয়ে ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের (WBCS Officers) উদ্দেশে অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার রাজ্যের ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানান, প্রশাসনকে কোনওভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না। একইসঙ্গে অতীতের প্রশাসনিক সংস্কৃতি নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠক থেকেই প্রশাসনের প্রতি নিজের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর কথায়, ভয়, চাপ কিংবা অন্য কোনও কারণে নীচুতলার একাংশের আধিকারিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তবে সেই পরিস্থিতি থেকে প্রশাসনকে বের করে আনতেই হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে উপস্থিত আধিকারিকদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, “আপনাদের ব্যবহার করব না, নির্বাচনে রাজনৈতিক কর্মী বানাব না।” প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রশ্নে তাঁর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। একইসঙ্গে তিনি জানান, আধিকারিকদের পেশাগত মর্যাদা এবং জ্যেষ্ঠতার বিষয়েও তাঁর সরকার সম্পূর্ণ গুরুত্ব দেবে।
পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলের প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়েও এদিন তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সেই সময়ে প্রশাসনের শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। ফলে প্রশাসনিক কাঠামোকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলেই তিনি মনে করেন। শুভেন্দুর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন বহু আধিকারিক। এখন সেই পরিবেশ বদলানোই তাঁর সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
এই প্রসঙ্গে তিনি সুব্রত গুপ্তর নামও উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সুব্রত গুপ্তকে ফের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ফিরিয়ে এনেছেন। তাঁর দাবি, একসময় রাজ্যের দায়িত্ব পাওয়ার পরও তাঁকে দিল্লিতে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। পরে তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বৈঠকে প্রশাসনিক আচরণ এবং সরকারি কর্মীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একাধিক প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন তিনি। কিন্তু কখনও কোনও সরকারি কর্মীকে প্রকাশ্যে অসম্মান করেননি। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনের সঙ্গে সুস্থ ও পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখাই সরকারের দায়িত্ব।
এখানেই থামেননি মুখ্যমন্ত্রী। পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অতীতে আইএএস এবং আইপিএস আধিকারিকদের মঞ্চে বসিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আক্রমণ করা হত। সেই ধরনের রাজনৈতিক ব্যবহারের বিরোধিতাই করেন তিনি। আধিকারিকদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কোন কাজ করা উচিত আর কোনটা উচিত নয়, তা তাঁরা অনেক আগেই জানেন। ফলে প্রশাসনের অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানিয়েই সরকার কাজ করবে।
বৈঠকে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছিল। এমনকী মিড ডে মিল প্রকল্পের অর্থ অন্য খাতে ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় আহতদের সাহায্যের জন্য সেই তহবিল থেকে টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করে প্রশ্ন তোলেন, “এভাবে সরকারি প্রকল্পের টাকা ব্যবহার করা যায় নাকি?”
প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জনকল্যাণই সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। ভয় নয়, মানুষের ভরসা নিয়েই কাজ করতে হবে। পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক বিভাজন যেন না থাকে, সেই নির্দেশও দেন তিনি। তাঁর কথায়, “এ পক্ষ-ও পক্ষ নয়, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।”
তিনি মনে করিয়ে দেন, সরকারের কাজ বাস্তবায়ন করেন প্রশাসনিক আধিকারিকরাই। তাই তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “যে কাজ করবে, আমার কাছে সেই-ই সেরা।” আধিকারিকদের কাজের মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন তিনি।
বৈঠকে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রের সঙ্গে অযথা সংঘাতে না গিয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হবে। একইসঙ্গে রাজস্ব আদায়ে সরকারের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। দাবি করেন, দুর্নীতি রোধ করেই রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। তাঁর কথায়, “আগের সরকার যদি পাথর খাদান থেকে ৭০ কোটি টাকা আয় করে থাকে, আমরা খুব অল্প সময়েই সেখানে ১২০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছি।”
প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে শেষ বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি সব জানেন - এমন দাবি করেন না। বরং আধিকারিকদের কাছ থেকে বাস্তব পরিস্থিতির কথা শুনতে চান। তাঁর বক্তব্য, “আমি অনেকটাই জানি, কিন্তু সবটা জানি না। আপনারা বলবেন, আমি শুনব।” আগামী ছ’মাস পরে আবার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলেও জানান তিনি।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)