কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউস কাণ্ডে তুঙ্গে বিতর্ক, লোকসভার স্পিকারকে চিঠি মহুয়া মৈত্রর
কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে ওঠার পর মাঝরাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে জোর করে ঘর খালি করানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রী। মহিলা সাংসদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সরাসরি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারস্থ হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
তাঁকে ঘর দেওয়ার পরেও মাঝরাতে জেলা প্রশাসন তাঁকে সার্কিট হাউস থেকে জোর করে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ তুললেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। এই ঘটনার প্রসঙ্গে সরাসরি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। মহিলা সাংসদদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ এবং প্রিভিলেজ মোশন আনারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ।
মহুয়া মৈত্রর অভিযোগ, গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট নাগাদ তিনি কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউসে ওঠেন এবং তাঁকে তাঁর নিয়মিত নির্ধারিত রুমটিই বরাদ্দ করা হয়। সেখানে তাঁর জন্য চা ও রাতের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কিন্তু ঘটনার মোড় ঘোরে রাতে।
তাঁর চিঠিতে মহুয়া দাবি করেছেন, রাত ৯টা ৪৭ মিনিটে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে ফোন করে সার্কিট হাউস খালি করে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সাফ জানানো হয়, এই নির্দেশ "উপরমহল থেকে এসেছে"। এরপর রাত ১০টা ৫২ মিনিটে তাঁকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ অর্ডার পাঠানো হয়। যেখানে বলা হয়, ১৪ আগস্টের সন্ধ্যা থেকে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার কাজের জন্য সার্কিট হাউস বন্ধ থাকবে, যদিও ১৩ আগস্টের আগের সমস্ত বুকিং এর আওতার বাইরে থাকবে।
সাংসদের প্রশ্ন, যদি বিধিনিষেধ আগেই জারি থাকে, তবে তাঁকে ঘর দেওয়া হল কেন এবং খাবার পরিবেশন করা হল কেন? কেনই বা মাঝরাতে তাঁকে আচমকা বেরিয়ে যেতে বলা হল?
বাইরে স্লোগান ও নিরাপত্তার প্রশ্ন
মহুয়ার অভিযোগ, তিনি সার্কিট হাউস ছাড়তে অস্বীকার করার পর রাত ১১টা নাগাদ ওই এলাকায় একটি ভিড় জমে যায় এবং ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেওয়া হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারের বাসভবনের ঠিক সামনের মতো একটি সুরক্ষিত এলাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। একা থাকা একজন মহিলা সাংসদকে এভাবে মাঝরাতে হেনস্তা করার চেষ্টা মহিলাদের সুরক্ষার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন।
এই ঘটনায় স্পিকারের হস্তক্ষেপ দাবি করে মহুয়া বলেন, মহিলা সংরক্ষণ বিলের কথা বলা হলেও, যদি বর্তমান মহিলা সাংসদরাই ন্যূনতম সুরক্ষা না পান, তবে তার কার্যকারিতা কোথায়? ঘটনাটির জেরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। পাশাপাশি কংগ্রেস নেতা পবন খেরা এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও এর সমালোচনায় মুখ খুলেছেন।
সমগ্র ঘটনাটি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ভাবছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। তবে এই বিষয়ে নদিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)