‘আসল তৃণমূল আমরাই, তাই কোনও কিছু দাবি করতে আসিনি’, জ্ঞানেশের সঙ্গে কথা বলে স্পষ্ট করলেন ঋতব্রত

"আমাদের দলের চেয়ারম্যান শ্রী অরূপ রায়, একদম পরিষ্কার করে জানিয়ে দিচ্ছি (লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার)।” বৃহস্পতিবার ভারতের নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)।

Jul 02, 2026 - 15:38
0 0
‘আসল তৃণমূল আমরাই, তাই কোনও কিছু দাবি করতে আসিনি’, জ্ঞানেশের সঙ্গে কথা বলে স্পষ্ট করলেন ঋতব্রত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: "আমাদের দলের চেয়ারম্যান শ্রী অরূপ রায়, একদম পরিষ্কার করে জানিয়ে দিচ্ছি (লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার)।” বৃহস্পতিবার ভারতের নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) সঙ্গে জানালেন, "একজন ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট’-এর দ্বারা হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল দল, যে পার্টি একটা পারিবারিক সম্পত্তিতে, একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়েছিল— আমরা সবাই মিলে সেই একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়ছি।"

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঋতব্রত শিবিরের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির দশজন সদস্য নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে বৈঠক। বৈঠক শেষে ঋতব্রত দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনে কোনও কিছু ‘দাবি’ করতে তাঁরা আসেননি, কারণ তাঁরাই আসল দল। দল ভাঙা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন “আমাদের পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশের চেয়েও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক (MLA), পুরসভার কাউন্সিলর, জেলা পরিষদের সদস্য এবং জেলা পরিষদের সভাপতিরা আমাদের সঙ্গেই আছেন।”

তিনি জানান, গত ২২ তারিখে তাঁদের বিশেষ প্রতিনিধি অধিবেশন (Delegate Session) নিয়ম মেনে সম্পন্ন হওয়ার পরেই, ২৩ তারিখ নির্বাচন কমিশনের কাছে সশরীরে দেখা করার আবেদন জানানো হয়েছিল। কমিশন সেই আর্জি মঞ্জুর করায় তাঁরা কৃতজ্ঞ। কমিশনও সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছে।

তৃণমূলের এই গোষ্ঠীর লড়াই যে আদতে একনায়কতন্ত্র ও দল হাইজ্যাক করার বিরুদ্ধে, তা অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানিয়েছেন করেছেন ঋতব্রত। নাম না করে দলের যুব নেতৃত্ব এবং পর্দার পিছনের চালিকাশক্তিকে (পড়ুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) একহাত নিয়ে তিনি বলেন, “এখানে আমরা যারা আছি কেউ ব্যক্তি নই। আমাদের লড়াইটাই ব্যক্তিপুজোর বিরুদ্ধে। তৃণমূল স্তরের একটা পার্টি যেভাবে একজন ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট’-এর দ্বারা হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল, যে পার্টি একটা পারিবারিক সম্পত্তিতে, একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়েছিল— আমরা সবাই মিলে সেই একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়ছি। এটা সমষ্টির লড়াই।" তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারে আসার পর থেকেই 'আমি'র চেয়ে 'আমরা'য় গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। এদিন ঋতব্রতও সেই ঝোল টেনেই জানালেন, "তৃণমূলে কোনও ‘আমি’ নেই, সবাই ‘আমরা’।”

ঋতব্রত মনে করিয়ে দেন, দলের আদি ও প্রকৃত নেতারা আজ তাঁদের সঙ্গেই আছেন। অরূপ রায় এবং জাভেদ আহমেদ খানের মতো দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা (Founder Members) ছাড়াও প্রাক্তন মন্ত্রী আখরুজ্জামান, গোলাম আহমেদ রব্বানী এবং স্নেহাশিস চক্রবর্তীরা এই সমষ্টিগত চিন্তাভাবনার অংশ।

বাংলার মানুষ পরিবারবাদকে কখনওই সমর্থন করে না, এই দাবি করে ঋতব্রত বলেন, “তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজ্যে যে বিপুল জনমত তৈরি হয়েছে, তা আসলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত। যারা বালি চুরি করেছে, বালির সিন্ডিকেট চালিয়েছে, কয়লা, ডলোমাইট কিংবা গোরু পাচারের সিন্ডিকেট চালিয়েছে—তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”

কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার পর এই লড়াই আদালতে গড়াবে কি না, তা নিয়ে এখনই মুখ খুলতে চাননি ঋতব্রত। শুধু এটুকুই বলেছেন যে, “আজ আমরা নির্বাচন কমিশনে এসেছি, তাই আদালতের প্রশ্ন আজ উঠছে না। সময় এলে তা দেখা যাবে।”

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User