কলেজ পরিচালন সমিতিতে ‘স্বচ্ছতা’ই মূল মন্ত্র! নতুন সভাপতিদের গাইডলাইন বেঁধে দিল বঙ্গ বিজেপি

মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক সম্পন্ন হয়। আসন্ন পুরসভা নির্বাচন নিয়ে একপ্রস্ত আলোচনার পাশাপাশি এদিনের বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল কলেজ পরিচালন সমিতির কাজ। রাজ্য বিজেপির পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে এদিন স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, কলেজ প্রশাসনে কোনওরকম গাফিলতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার রেয়াত করবে না দল।

Sep 22, 2026 - 19:10
0 0

অতীতের সরকারের আমলে কলেজ পরিচালন সমিতিগুলিতে (College Governing Body) ভূরিভূরি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কখনও হিসাবের গরমিল, তো কখনও বছরের পর বছর অডিট রিপোর্ট জমা না পড়ার মতো অভিযোগ ঘিরে উত্তাল হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। সেই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার কলেজ প্রশাসনে স্বচ্ছতার নয়া নজির গড়তে চাইছে গেরুয়া শিবির। তাই রাজ্যের বিভিন্ন কলেজের পরিচালন সমিতিতে নবনিযুক্ত সভাপতিদের ভূমিকা ঠিক কী হবে, তাঁদের এক্তিয়ার কতটা - তা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা বেঁধে দিয়েছে রাজ্য বিজেপি (BJP Meeting)।

মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক সম্পন্ন হয়। আসন্ন পুরসভা নির্বাচন নিয়ে একপ্রস্ত আলোচনার পাশাপাশি এদিনের বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল কলেজ পরিচালন সমিতির কাজ। রাজ্য বিজেপির পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে এদিন স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, কলেজ প্রশাসনে কোনওরকম গাফিলতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার রেয়াত করবে না দল। এদিনের এই বৈঠকে দলের জেলা সভাপতি ও বিধায়করাও উপস্থিত ছিলেন।

নেতৃত্বের সাফ কথা, পরিচালন সমিতির সভাপতি বা গভর্নিং বডির প্রেসিডেন্ট কলেজ প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্বশীল পদ। তাই সরকারি নির্দেশ, আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মাবলি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেই তাঁদের কাজ করতে হবে।

কলেজের সার্বিক উন্নতি ও শৃঙ্খলার স্বার্থে নবনিযুক্ত সভাপতিদের জন্য বেশ কিছু নির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব -

নিয়মকানুন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা: দায়িত্ব নিয়েই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স এবং সরকারি বিধিবিধান সংগ্রহ করে তা নিখুঁতভাবে জেনে নিতে হবে। নিয়মিত জিবি (GB) বৈঠক ডাকতে হবে এবং আগেভাগে আলোচ্যসূচি (Agenda) পাঠাতে হবে। সভার কার্যবিবরণী (Minutes) যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করে তাতে স্বাক্ষর ও সংরক্ষণের পাশাপাশি সিদ্ধান্তগুলি বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তার তদারকি করতে হবে।

আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিয়োগ: বার্ষিক বাজেট তৈরি থেকে শুরু করে সময়মতো অডিট এবং কর্মীদের পিএফ (PF) জমার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে সভাপতিকেই। স্পষ্ট নির্দেশ, কলেজ সার্ভিস কমিশন (CSC)-এর সুপারিশ ছাড়া কোনও স্থায়ী পদে শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে না। পাশাপাশি কর্মীদের এসিআর (ACR), পদোন্নতি, ছুটি, পেনশন ও গ্র্যাচুইটি সংক্রান্ত কাজ সময়মতো সম্পন্ন করতে হবে।

পড়ুয়াদের সার্বিক কল্যাণ: কেবল প্রশাসনিক কাজ নয়, পড়ুয়াদের সুবিধার্থে সভাপতিকে নিয়মিত হস্টেল ও মেস পরিদর্শনে (Inspection) যেতে হবে। ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি স্পোর্টস এবং এনসিসি (NCC)-র মতো কার্যকলাপে ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করতে হবে।

ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে সভাপতিদের জন্য একটি কড়া লক্ষ্মণরেখাও টেনে দিয়েছে দল। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তার দায় কোনওভাবেই এড়ানো যাবে না।

ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্ল্যাঙ্ক চেকে সই করা বা কলেজ ফান্ডের যথেচ্ছ ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

কোরাম ছাড়া কোনও সভা করা যাবে না এবং একক সিদ্ধান্তে কোনও বড় পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।

বেআইনি নিয়োগ, অডিট বা পিএফ-এর কাজে গড়িমসি এবং সরকারি নির্দেশ অমান্য করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।

কলেজের অ্যাকাডেমিক বা পঠনপাঠন সংক্রান্ত বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

কোনওভাবেই ছাত্রছাত্রী বা কর্মীদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব কিংবা বৈষম্যমূলক আচরণ করা চলবে না। সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়াও বর্জনীয়।

রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এদিনের বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, একজন সভাপতির প্রাথমিক কাজই হল কলেজের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা। নিয়ম মেনে, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করলে তবেই শিক্ষাঙ্গনের প্রকৃত উন্নতি সম্ভব বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User