ছাত্র, ইডিয়ট আর অন্ধভক্ত! লোকসভায় রাহুল গান্ধীর মন্তব্যে শোরগোল, ক্ষমা চাওয়ার দাবি রিজিজুর
লোকসভায় আলোচনার সময় তীব্র বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। পেপার লিক ও ছাত্র আন্দোলন নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি এক ছাত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের সূত্র ধরে সমাজকে ছাত্র, ইডিয়ট এবং অন্ধভক্ত—এই তিন শ্রেণীতে ভাগ করেন। তাঁর মুখে 'ইডিয়ট' ও 'অন্ধভক্ত' শব্দ শোনার পরই ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ আরএসএস-এর হাতে রয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস নেতা।
লোকসভায় বুধবার অ্যান্টি-পেপার লিক বিল নিয়ে আলোচনার সময় তীব্র বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। পেপার লিক ও ছাত্র আত্মহত্যার মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করতে গিয়ে তিনি এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেন, যা নিয়ে সংসদে তুমুল হইচই শুরু হয়ে যায়। বিশেষ করে তাঁর ভাষণে ‘ইডিয়ট’ (idiot) ও ‘অন্ধভক্ত’ শব্দের উল্লেখ নিয়ে ট্রেজারি বেঞ্চের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন রাহুল। স্পিকার ও একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁর এই মন্তব্যের কড়া আপত্তি জানান।
ছাত্র, ইডিয়ট এবং অন্ধভক্ত: তিন শ্রেণি
এদিন লোকসভার ভাষণে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, তিনি সম্প্রতি একদল ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই কথোপকথনের সূত্র ধরেই তিনি দেশের মানুষকে মূলত তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করেন, ছাত্র (Student), ইডিয়ট (Idiots) এবং অন্ধভক্ত (Andhbhakts)। ছাত্রদের আন্দোলনকে দেশের তরুণ প্রজন্মের গভীর ভাবাবেগের বহিঃপ্রকাশ বলে প্রশংসা করে রাহুল বলেন, যন্তর মন্তর-সহ সারা দেশে যে বিক্ষোভ হয়েছে, তা কোনও হিংসা বা ক্ষোভ নয়, বরং তা দেশের ভবিষ্যতের আওয়াজ।
এরপরই সেই ছাত্রীর সঙ্গে হওয়া আলোচনার কথা তুলে রাহুল বলেন, ওই ছাত্রী তাঁকে বুঝিয়েছিল যে সমাজে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা মনে করেন তারা সব জানেন, পৃথিবীটা স্থির এবং নিজেদের তারা ভগবান বলে মনে করেন। তাঁরা অত্যন্ত অহংকারী এবং কারও কথা শুনতে চান না। ছাত্রীর কথামতোই ওই শ্রেণির মানুষকে তিনি 'ইডিয়ট' বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, এই ধরনের মানুষরা সত্যের পিছনে ছোটে না, বরং একটি মিথ্যা ভাবমূর্তি বা ইমেজের পেছনে ছোটে। এরপর রাহুলের মুখে 'অন্ধভক্ত' শব্দটি আসতেই সংসদে শোরগোল আরও বেড়ে যায়।
তুমুল আপত্তি রাজনাথ-রিজিজুর
রাহুল গান্ধীর মুখে 'ইডিয়ট' শব্দ শোনার পরেই তীব্র আপত্তি জানান লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। মন্ত্রী কিরেন রিজিজু তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেন, "কোনও ছাত্রের মুখের কথা বলে বিরোধী দলনেতা এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করতে পারেন না। তিনি নিজে এই অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন, এর দায় তিনি এড়াতে পারেন না।" পাল্টা জবাবে রাহুল গান্ধী বলেন, "যদি এই শব্দে আপনাদের আপত্তি থাকে, তবে আমি অন্য শব্দ ব্যবহার করছি। আমি 'ইডিয়ট' শব্দটা আর ব্যবহার করব না, কিন্তু আমাকে বলতে দিন। আপনারা চাইলে আমি এর বদলে অন্য প্রক্সি শব্দ ব্যবহার করব।"
শিক্ষাব্যবস্থা ও আরএসএসকে কড়া আক্রমণ
এদিনের ভাষণে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সুপাফিশিয়াল বিষয়, কারণ আসল শিক্ষা ব্যবস্থা তিনি চালান না। শিক্ষামন্ত্রকের আসল নিয়ন্ত্রক হল আরএসএস (RSS)। মন্ত্রীর অফিসে বসা ওএসডি-র মাধ্যমেই শিক্ষা মন্ত্রক পরিচালিত হয় বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন রাহুল। তিনি আরও বলেন, আজ দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বেহাল করে রাখা হয়েছে। গরিব পড়ুয়ারা সুযোগ পাচ্ছে না, অথচ লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ধনীরা পড়াশোনা করছে। সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন আরএসএস সমর্থক উপাচার্য বসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন রাহুল গান্ধী।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)