‘জেলায় এসপি যেন বিজেপির সভাপতি আর ব্লকে কাজ করছে ওসি’, মহুয়ার দাবি বাংলা এখন ‘পুলিশ স্টেট’
তিনি প্রতিদিনই কিছু না কিছু বলছেন। বললে কোনওরকম রাখঢাক রাখছেন না। মঙ্গলবার আবারও রাজ্যের নতুন সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)।
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি প্রতিদিনই কিছু না কিছু বলছেন। বললে কোনওরকম রাখঢাক রাখছেন না। মঙ্গলবার আবারও রাজ্যের নতুন সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। রাজ্যে গণতন্ত্র বিপন্ন এবং বাংলা কার্যত এক ‘পুলিশ স্টেট’-এ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি।
ক্যাডারহীন বিজেপির চালিকাশক্তি পুলিশ!
রাজ্যে নতুন সরকারের ক্ষমতায় আসা এবং তাদের দলীয় পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে মহুয়া মৈত্র বলেন, “লুট করে হোক বা যেভাবেই হোক—আপনারা জিতেছেন, খুব ভাল কথা। আপনারা দাবি করছেন মানুষের রায়ে জিতেছেন, আমরাও তা মেনে নিচ্ছি। কিন্তু যদি সত্যিই মানুষ আপনাদের ভোট দিয়ে থাকে, তবে আপনাদের এত ভয় কীসের? আপনাদের দলীয় ক্যাডাররা কোথায়? ময়দানে তো আপনাদের ক্যাডারদের কোথাও দেখা যাচ্ছে না!”
সাংসদের অভিযোগ, বিজেপির কয়েকজন নেতা প্রতিনিয়ত অতি উসকানিমূলক মন্তব্য করছেন, আর সেই সুবাদে বাকি পুরো কাজটা প্রশাসনকে দিয়ে করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “জেলায় জেলার এসপি (SP) এখন কার্যত বিজেপির ডিসট্রিক্ট প্রেসিডেন্ট। কৃষ্ণনগর উত্তরের তৃণমূল জেলা সভাপতি কে, তা আমি জানি। কিন্তু বিজেপির সভাপতি কে তা আমি জানি না, কারণ সেই কাজটা এসপি-ই করে দিচ্ছেন। প্রত্যেকটা ব্লকে ওদের ব্লক সভাপতি কে তা-ও সাধারণ মানুষের জানা নেই, কারণ পর্দার আড়ালে সব কাজ ওসি (OC) করে দিচ্ছেন।”
ধর্মতলায় ফিতে-বিতর্ক ও মধ্য কলকাতায় ১৪৪ ধারা
রবিবার ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে তৃণমূল নেতাদের মঞ্চের মাপজোক নিয়ে শুরু হওয়া আইনি তরজা ও নোটিস জারি নিয়েও একহাত নেন মহুয়া। তিনি বলেন, “গোটা পৃথিবীর বা ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এমন নজির নেই। রবিবার ছুটির দিনে কুণালদা (Kunal Ghosh), একজন রাজ্যসভার সাংসদ এবং কয়েকজন বিধায়ক মিলে ফাঁকা রাস্তায় স্রেফ পরিমাপ করেছিলেন। সেখানে কোনও মঞ্চ ছিল না, জনজোয়ার বা ভিড় ছিল না। সেই ছবি তাঁরা নিজেরাই সমাজমাধ্যমে আপলোড করেছিলেন। আর এখন পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (Cognizance) তাদের আইনি নোটিস পাঠাচ্ছে! রাস্তা মাপাটা কোন ধরনের অপরাধ, আমরা জানতে চাই।”
একুশে জুলাইয়ের সমাবেশকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুলিশের অতিসক্রিয়তা এবং মধ্য কলকাতায় দীর্ঘমেয়াদী ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। তাঁর প্রশ্ন, “কলকাতা পুলিশ কমিশনারের একুশে জুলাই নিয়ে এত ভয় কেন? অতীতে আপনাদের (বিজেপি) কোনও ছোট মিটিং আটকানো হলে আপনারা তো দৌড়ে হাইকোর্ট চলে যেতেন। আর আজ পুরো মধ্য কলকাতায় আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় দু’মাসের জন্য ‘ব্ল্যাঙ্কেট’ ১৪৪ ধারা জারি করে দিলেন? পাঁচজনের বেশি মানুষ একজোট হয়ে মিটিং করতে পারবে না! এটা কোন ধরনের গণতান্ত্রিক অধিকার?”
‘ডিম থেরাপি’ আসলে বিজেপির গুন্ডামি
নতুন সরকারের জমানায় বিরোধী কর্মীদের ওপর হওয়া নিগ্রহ এবং ‘ডিম থেরাপি’র তত্ত্বকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছেন মহুয়া মৈত্র। তিনি সাফ জানান, “নেতা-মন্ত্রীরা যে ‘ডিম থেরাপি’র কথা বলছেন এবং বিজেপির লোকেরা প্রথম এক মাস ধরে যেটিকে ‘জনরোষ’ বলে চালানোর চেষ্টা করেছিল, তা আসলে কোনও জনরোষ ছিল না। ওটা ছিল পুরোপুরি বিজেপির গুন্ডামি।” এই বিষয়ে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জানিয়ে মহুয়া বলেন, উচ্চ আদালত ইতিমধ্যেই রাজ্যের ডিজিপি-কে (DGP) নির্দেশ দিয়েছে যেন প্রতিটি থানায় এই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন পাঠানো হয়, যাতে এই অরাজকতা চলতে না পারে।
“হিন্দি ছবির সংলাপ আউড়াচ্ছে পুলিশ, তবে বিচারব্যবস্থা এখনও বেঁচে”
দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল বাড়াতে সাংসদ আশ্বাসের সুরে বলেন, “ওরা এখন নতুন নতুন ক্ষমতায় এসেছে, তাই খুব দাপট দেখাচ্ছে। এক-দুমাস যেতে দিন। দেশের আইনি বিচারব্যবস্থা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। বিচারব্যবস্থা যতদিন সচল আছে, আমরা নিশ্চিতভাবেই কোনও না কোনও দিন আইনি রেহাই পাব।”
একই সঙ্গে পুলিশি হেনস্থার বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, কোনও রকম ওয়ারেন্ট ছাড়াই পুলিশ সাধারণ মানুষের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে। মহুয়ার অভিযোগ, “সার্চ করার ওয়ারেন্ট চাইলে এসডিপিও (SDPO) মুখের ওপর বলছেন— ওসব ওয়ারেন্ট-টারেন্ট নাকি হিন্দি সিনেমাতেই হয়! ওঁরা নাকি এমনিই সার্চ করবেন। কাউকে থানায় ডেকে নিয়ে বলা হচ্ছে বড়বাবু কথা বলবেন।”
পুলিশের এই একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মহুয়া বলেন, “এই ধরনের পুলিশ স্টেট বাংলায় চলতে পারে না। বাংলার মানুষ যদি আদৌ ওদের ভোট দিয়ে থাকে, তবে নিশ্চয়ই এই অরাজকতা দেখার জন্য ভোট দেয়নি।”
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)