তারাতলার পর এবার জয়পুর! নির্মীয়মাণ দেওয়াল ভেঙে পড়ায় চাপা পড়ে মৃত্যু ৩ শ্রমিকের, আহতরা আশঙ্কাজনক
মৃত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দেওয়ালটিতে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছিল। এই কাঠামোগত দুর্বলতা ও ফাটলের বিষয়ে ঠিকাদারকে বারবার সতর্কও করা হয়েছিল। কিন্তু অধিক মুনাফার লোভে এবং চরম উদাসীনতায় সেই ফাটল মেরামতি বা সুরক্ষার কোনও পদক্ষেপই নেয়নি ঠিকাদার। আর তার মাশুল দিতে হল শ্রমিকদের।
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার তারাতলার ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি, তার আগেই খানিক একই ধরনের দুর্ঘটনার খবর মিলল রাজস্থানের জয়পুরে। সোমবার জয়পুর-দিল্লি হাইওয়ের ধারে একটি নির্মীয়মাণ দেওয়াল আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ায় (Jaipur wall collapse) এই বিপর্যয়, প্রাণ হারালেন তিন নির্মাণকর্মী। ধ্বংসস্তূপের (under-construction wall accident Jaipur) নিচে চাপা পড়ে আরও ১২ জনেরও বেশি শ্রমিক গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় নির্মাণকাজের ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে মারাত্মক গাফিলতির (construction negligence laborers killed in Rajasthan) মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম সবিতা (৪২), রিঙ্কু (৩২) এবং রামজিলাল (২৮)। তাঁদের মধ্যে দুই মহিলা এবং একজন পুরুষ রয়েছেন। উদ্ধারকাজ চালানোর সময় এক মহিলা শ্রমিকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে, ওই মহিলার ছিন্নভিন্ন দেহটি একটি কাপড়ের পুঁটলিতে মুড়িয়ে গর্ত থেকে বের করে আনতে হয়।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জয়পুর-দিল্লি হাইওয়ের পাশেই থাকা 'আরাবল্লি প্যালেস রিসোর্ট'-এ একটি নর্দমার গর্ত মেরামতির কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। সেই সময়ই পাশের একটি নির্মীয়মাণ পাঁচিল আচমকা হুড়মুড়িয়ে তাঁদের গায়ের ওপর ভেঙে পড়ে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জয়পুর গ্রামীণের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (DCP) হনুমান প্রসাদ মিনা বলেন, "চাঁদওয়াজি এলাকার তালা মোড়ে একটি দেওয়াল ভেঙে পড়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের প্রত্যেককে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।"
দুর্ঘটনার পরই স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ এবং প্রশাসনের আধিকারিকরা তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শ্রমিকদের একে একে টেনে বের করে কাছের হাসপাতালে পাঠানো হয়। উদ্ধারকাজের সুবিধার্থে এবং নতুন করে কোনও বিপর্যয় এড়াতে গোটা এলাকাটি ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রেখেছে পুলিশ।
বিহারের গয়া থেকে জয়পুরে কাজ করতে আসা মমতা নামে এক পরিযায়ী শ্রমিক জানান, দুর্ঘটনা যখন ঘটে তখন সেখানে মোট ২১ জন কর্মী কাজ করছিলেন। তাঁর কথায়, দেওয়ালটি ভেঙে পড়ার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই বেশ কয়েকজন শ্রমিক দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য একটু দূরে গিয়েছিলেন। আর সেই লাঞ্চ ব্রেকের কারণেই নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তাঁরা।
মৃত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দেওয়ালটিতে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছিল। এই কাঠামোগত দুর্বলতা ও ফাটলের বিষয়ে ঠিকাদারকে বারবার সতর্কও করা হয়েছিল। কিন্তু অধিক মুনাফার লোভে এবং চরম উদাসীনতায় সেই ফাটল মেরামতি বা সুরক্ষার কোনও পদক্ষেপই নেয়নি ঠিকাদার। আর তার মাশুল দিতে হল শ্রমিকদের।
ঘটনাস্থলে নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা বিধিগুলি মেনে চলা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দেওয়াল গাঁথনির উপাদানে কোনও খামতি ছিল কি না, তাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে এবং কার গাফিলতিতে এই প্রাণহানি, তা সুনিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)