দিল্লির জল বোর্ডের টেন্ডারে কারচুপির অভিযোগ, ফের গ্রেফতার সত্যেন্দ্র জৈন, পুলিশের জালে আরও ৬
দিল্লির ডিরেক্টরেট অফ ভিজিল্যান্সের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। এসিবি-র দাবি, টেন্ডারের শর্ত এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে একটি নির্দিষ্ট প্রযুক্তি সরবরাহকারী সংস্থা সুবিধা পায়।
আম আদমি পার্টির নেতা তথা দিল্লির প্রাক্তন সেচমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনকে ফের গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা (ACB)। দিল্লি জল বোর্ডের (DJB) স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের উন্নয়নের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, শর্তে কারচুপি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই মামলায় প্রাক্তন ডিজেবি সিইও উদিত প্রকাশ রাই-সহ মোট ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কী অভিযোগ সত্যেন্দ্র জৈনের বিরুদ্ধে?
দিল্লির ডিরেক্টরেট অফ ভিজিল্যান্সের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। এসিবি-র দাবি, টেন্ডারের শর্ত এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে একটি নির্দিষ্ট প্রযুক্তি সরবরাহকারী সংস্থা সুবিধা পায়।
তদন্তে উঠে এসেছে, ইউরোটেক এনভায়নমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড-কে সুবিধা পাইয়ে দিতে টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন ও অন্যান্য শর্তে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। প্রস্তাবিত পাইলট স্টাডিও করা হয়নি। পরিশোধিত বর্জ্যজলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডও টেন্ডারে রাখা হয়নি বলে অভিযোগ।
ঘুরপথে টাকা লেনদেন
তদন্তকারীদের দাবি, শ্রীজনহর এবং এন এন্টারপ্রাইসেস-এর মতো মধ্যস্থতাকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে টাকা ঘোরানো হয়েছিল।
এসিবি-র অভিযোগ, তৎকালীন ডিজেবি সিইও উদিত প্রকাশ রাই তাঁর নিজের এবং আত্মীয়দের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১.৫২ কোটি টাকা ঘুষ হিসেবে পেয়েছিলেন। এন এন্টারপ্রাইসেস-এর মালিক নগেন্দ্র যাদবের সংস্থার মাধ্যমে ব্যাঙ্কিং চ্যানেলে ওই টাকা পৌঁছেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে সেই অর্থ দিয়ে স্থাবর সম্পত্তি কেনা হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
কারা গ্রেফতার হলেন?
সত্যেন্দ্র জৈন ছাড়াও গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন ডিজেবি সিইও উদিত প্রকাশ রাই, বোর্ডের প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা অঙ্কিত শ্রীবাস্তব, এন এন্টারপ্রাইসেস-এর মালিক নগেন্দ্র যাদব, ইউরোটেক এনভায়নমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড-এর মালিক রাজা কুমার কুররা এবং শ্রীজনহর-এর মালিক পঙ্কজ বর্মা।
আপ-এর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা
গ্রেফতারের পরেই বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে আপ। দলের জাতীয় মিডিয়া ইনচার্জ অনুরাগ ধান্ডার বক্তব্য, যে সময়ে ওই জল বোর্ডের টেন্ডার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তখন সত্যেন্দ্র জৈন জেলে ছিলেন। ফলে তাঁকে কী ভাবে এই ঘটনায় দায়ী করা হচ্ছে?
আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালও গ্রেফতারিকে বিজেপির নির্দেশে নেওয়া পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আগের মামলাটিও শেষ পর্যন্ত মিথ্যা প্রমাণিত হবে এবং এই মামলার তাই।
অন্যদিকে দিল্লির প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেবা আপ-কে নিশানা করে দাবি করেছেন, দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগে দলের ‘আসল চেহারা’ প্রকাশ্যে এসেছে।
আগেও গ্রেফতার হয়েছিলেন জৈন
এর আগে ২০২২ সালের মে মাসে অর্থপাচার মামলায় সত্যেন্দ্র জৈনকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ২০২৩ সালের মে মাসে চিকিৎসার কারণে অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্তি পান তিনি। পরে ফের জেলে যেতে হয় তাঁকে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিয়মিত জামিন পাওয়ার পর জেল থেকে বেরিয়েছিলেন জৈন।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)