দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি কাণ্ড: ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির মামলায় নাম জড়িয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen Arrest)। গতকাল গ্রেফতার হওয়ার পর ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল ব্যাঙ্কশাল আদালত।

Oct 29, 2026 - 15:46
দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি কাণ্ড: ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির (Durga Puja pass scam) মামলায় নাম জড়িয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen Arrest)। গতকাল চার ঘণ্টা ইডি জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ কোর্টে তোলা হলে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর পুলিশি হেফাজতের (Indranil Sen police custody) নির্দেশ দিল ব্যাঙ্কশাল আদালত।

আদালতে শুনানির সময় ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রীকে নিজেদের হেফাজতে নিতে ১২ দিনের আবেদন জানিয়েছিল পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে বিচারক ১০ নভেম্বর পর্যন্ত হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালতে দুই পক্ষের সওয়াল-জবাবে উঠে আসে ইডির তদন্ত, কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন এবং একাধিক সন্দেহজনক সংস্থার সক্রিয়তার প্রসঙ্গ।

তদন্তকারী আধিকারিক জানান, ২০২১-২২ সালে ‘মাস আর্ট’ নামক একটি সংস্থার মাধ্যমে লেনদেন হওয়া অর্থই বর্তমানে তাঁদের আতসকাচের তলায় রয়েছে। অভিযোগ, ওই সংস্থা থেকে আসা একটি মোটা অঙ্কের টাকা জমা পড়েছিল ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। এই আর্থিক হাতবদলের পেছনে ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রীর সরাসরি ভূমিকা কিংবা কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চেয়ে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়।

অন্যদিকে, শুনানি চলাকালীন সরকারি আইনজীবী আদালতে স্পষ্ট দাবি করেন, যে ২৪টি পুজো বাছাইকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক, তার সঙ্গে ইউনেস্কোর সরাসরি কোনও ভূমিকা ছিল না। তিনি জানান, ২০২৫ সালে এই সম্পর্কিত চুক্তি হলেও দেখা যায় ২০২২ সালেই টাকা লেনদেনের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। শুধু তা-ই নয়, চুক্তির শর্ততে কোথাও ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহারের এক্তিয়ার ছিল না বলেও জানান সরকারি আইনজীবী। আদালতে তাঁর অভিযোগ, টাকা দিয়েও অনেকে পুজোর পাস পাননি। এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি জামিন পেলে তদন্ত প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।

যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ শুরু থেকেই ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ইন্দ্রনীল। তিনি আদালতে জানান, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ও ইডিকে তিনি সবসময় পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এবং যখন ডাকা হয়েছে ইডির দফতরে হাজির হয়েছেন।

‘মাস আর্ট’-এর পাশাপাশি ‘থার্ড আই’ নামের আরও একটি সংস্থার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে। সেই প্রসঙ্গে ইন্দ্রনীল দাবি করেন, ওই সংস্থাগুলির বিভিন্ন পদে তাঁর স্ত্রী-সহ অন্যরা থাকলেও কিন্তু তিনি নিজে সংস্থাগুলির কোনো সদস্য, প্রেসিডেন্ট কিংবা ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট নন।

প্রাক্তন মন্ত্রী এও জানান, দর্শনার্থীদের টিকিটের বিষয়টির জন্য সম্পূর্ণ আলাদা একটি এজেন্সি দায়িত্বে ছিল এবং সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যেই জামিন পেয়ে গিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ মেলেনি বলেই আদালতকে জানান তিনি। একইসঙ্গে ওই তিনটি সংস্থার সঙ্গেই তাঁর ব্যক্তিগত কোনও যোগ নেই,  দাবি তাঁর।

এখানেই শেষ নয়, সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার বর্তমান পরিস্থিতির কথা ব্যাঙ্কশাল আদালতের নজরে আনেন ইন্দ্রনীল। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত মামলা থেকে ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়ানোর পর বিষয়টি আপাতত শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির কাছে নতুন বেঞ্চ নির্ধারণের জন্য বিচারাধীন রয়েছে। এই আবহে হঠাৎ এত তড়িঘড়ি পদক্ষেপ বা গ্রেফতারির কী প্রয়োজনীয়তা ছিল, সেই বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রাক্তন মন্ত্রী।

এই প্রসঙ্গে সরকারি কৌঁসুলির পাল্টা যুক্তি, যে সময়ের ঘটনা এটি, সেই সময় ইন্দ্রনীল সেন রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট দরপত্র প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল। অভিযুক্ত নিজেকে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত নন বলে দাবি করলেও, দুর্নীতির শিকড় পর্যন্ত পৌঁছতে তাঁকে হেফাজতে রেখে জেরা করা জরুরি বলে সওয়াল করে রাজ্য।

তারপরই ১০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাক্তন মন্ত্রীকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0