দেশের কোনও জেলায় আর মাওবাদী নেই! সংসদে বিস্তারিত রিপোর্ট দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক

২০২১ সালেও মাওবাদী হিংসার ৪৮৬টি ঘটনা ঘটেছিল, যাতে ১০৭ জন সাধারণ নাগরিক এবং ৩২ জন সেনা/পুলিশ কর্মীর মৃত্যু হয়। সেখানে ২০২৬ সালের ২১ জুলাই পর্যন্ত হিংসার ঘটনা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৩টিতে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন নাগরিক ও ৫ জন জওয়ান।

Jul 30, 2026 - 15:46
0 0
দেশের কোনও জেলায় আর মাওবাদী নেই! সংসদে বিস্তারিত রিপোর্ট দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক

প্রায় ছয় দশকের হিংসার ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটিয়ে নকশালবাদ (Naxal) থেকে পুরোপুরি মুক্ত ভারত। রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র (Amit Shah) প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে আর একটি জেলাও নকশাল উপদ্রুত হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়। একসময় যা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হত, সেই হিংসার এবার অবসান ঘটেছে।

কেন্দ্রের পেশ করা পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০১৮ সালের এপ্রিলের আগে পর্যন্ত যেখানে নকশাল প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ছিল ১২৬টি, তা পর্যায়ক্রমে কমে ২০২৬ সালের মার্চে শূন্যতে এসে ঠেকেছে।

জেলার খতিয়ান ও বর্তমান পরিসংখ্যান:

এপ্রিল ২০১৮: ১২৬টি জেলা

জুলাই ২০২১: ৭০টি জেলা

এপ্রিল ২০২৪: ৩৮টি জেলা

ডিসেম্বর ২০২৫: ৮টি জেলা

মার্চ/এপ্রিল ২০২৬: ০টি (শূন্য) জেলা

বর্তমানে দেশের ৩৭টি জেলাকে 'লিগ্যাসি অ্যান্ড থ্রাস্ট' (Legacy & Thrust) জেলা হিসেবে রাখা হয়েছে। এই জেলাগুলি আর নকশাল উপদ্রুত না হলেও, সেখানে যাতে ফের চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে তার জন্য আরও কিছুদিন নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক সহায়তা বজায় রাখা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তালিকায় কেবল ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম (West Singhbhum) জেলাটিকে 'ডিস্ট্রিক্ট অব কনসার্ন' হিসেবে চিহ্নিত রাখা হয়েছিল, যেখানে মাওবাদীদের সাংগঠনিক পরিকাঠামো প্রায় পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু সারান্ডা জঙ্গলে আত্মগোপন করে থাকা মিছির বেসরা (৬৫) নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হতেই সেই অধ্যায়েরও অবসান ঘটে। এর মাধ্যমে শীর্ষ মাওবাদী নেতৃত্বের উপস্থিতিও শূন্যে নেমে এসেছে।

২০২১ সালেও মাওবাদী হিংসার ৪৮৬টি ঘটনা ঘটেছিল, যাতে ১০৭ জন সাধারণ নাগরিক এবং ৩২ জন সেনা/পুলিশ কর্মীর মৃত্যু হয়। সেখানে ২০২৬ সালের ২১ জুলাই পর্যন্ত হিংসার ঘটনা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৩টিতে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন নাগরিক ও ৫ জন জওয়ান।

নকশালমুক্ত এলাকাগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকারের যৌথ উন্নয়ন নীতির অংশ হিসেবে জওয়ানদের ক্যাম্পের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তুলে নিয়ে সেগুলিকে সাধারণ মানুষের জন্য 'জন সুবিধা কেন্দ্র' (Jan Suvidha Kendra)-এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে। যেখানে স্বাস্থ্য পরিষেবা, কারিগরি শিক্ষা, ডিজিটাল পরিষেবা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ পাবেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছত্তীসগড়ের জগদলপুরের নেতানারে তৈরি 'শহিদ বীর গুন্ডাধুর সেবা ডেরা কেন্দ্র' হল দেশের প্রথম এমন জন সুবিধা কেন্দ্র।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User