নিউমার্কেটের ওই অগ্নিদগ্ধ বিল্ডিংয়েই ৪০টি ট্রেড লাইসেন্স! পুরসভার ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
বামফ্রন্ট সরকারের আমল থেকে চালু থাকা নিয়ম অনুযায়ী, নতুন ট্রেড লাইসেন্স বা পুনর্নবীকরণের আবেদন জমা পড়লে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইনস্পেক্টররা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করতেন। ব্যবসায়িক স্থানে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার পরেই কেবল মিলত ছাড়পত্র।
নিউমার্কেটের হোটেলে (New Market Hotel Fire) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, ওই বিল্ডিংয়েই মোট ৪০টি ট্রেড লাইসেন্সের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সিংহভাগ লাইসেন্সই প্রদান করা হয়েছে তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের মেয়াদকালে। তবে একটি ভবনের (New Market Fire) ভিতরে সত্যিই ৪০টি পৃথক ব্যবসা পরিচালনার মতো পরিকাঠামো বা অগ্নি-সুরক্ষাবিধি রয়েছে কি না, লাইসেন্স দেওয়ার আগে সরজমিনে তা যাচাই করা হয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
২০২১ সালে ফিরহাদ হাকিম মেয়রের দায়িত্বে থাকাকালীন ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজতর করার লক্ষ্যে অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের নয়া ব্যবস্থা চালু হয়। এই নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারী অনলাইনে কেবল ‘সেলফ ডিক্লেয়ারেশন’ বা হলফনামা জমা দিলেই মাত্র কয়েকটি ক্লিকে ট্রেড লাইসেন্স বা তার পুনর্নবীকরণ পেয়ে যেতেন। কোনও প্রকার সরেজমিনে পরিদর্শন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলত অনুমোদন। মনে করা হচ্ছে, এইভাবেই যথেচ্ছভাবে লাইসেন্স পেয়েছিলেন ওই বিল্ডিংয়ের ব্যবসায়ীরা।
বামফ্রন্ট সরকারের আমল থেকে চালু থাকা নিয়ম অনুযায়ী, নতুন ট্রেড লাইসেন্স বা পুনর্নবীকরণের আবেদন জমা পড়লে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইনস্পেক্টররা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করতেন। ব্যবসায়িক স্থানে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার পরেই কেবল মিলত ছাড়পত্র। পরবর্তীতে ‘ইনস্পেক্টর রাজ’ ও পরিদর্শনের নামে তোলাবাজির অভিযোগ তুলে তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড ওই প্রথা বাতিল করে অনলাইন সেলফ-ডিক্লারেশন ব্যবস্থা এনেছিল।
তবে নিউমার্কেটের দুর্ঘটনাস্থলে ৪০টি লাইসেন্সের উপস্থিতি সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে - দুর্নীতি রুখতে গিয়ে পুরসভা কি নাগরিক নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শিথিলতা দেখিয়েছে? এর মধ্যে আবার এও অভিযোগ উঠেছে যে, ওই বিল্ডিংয়ে নগদ দেড় থেকে দু’লাখ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের ‘ফায়ার সেফটি’ সার্টিফিকেট মিলেছে (Shikha Inn fire investigation)। এর সঙ্গে ‘ফায়ার লাইসেন্স’ পেতে আরও ৫০ হাজার টাকা বা তার কিছু বেশি দিতে হয়েছে।
এই অভিযোগ সামনে আসতেই তদন্তকারী বিশেষজ্ঞ দল এবং পুলিশের সিটের নজরে এখন গত ১০ থেকে ১২ বছরে দমকলের সদর দফতরে ‘ফায়ার সেফটি’ ও ‘ফায়ার লাইসেন্স’ দেওয়ার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, শুধু নিউ মার্কেট জোনেই আগামী কয়েক দিনে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকা অন্তত ৬০ থেকে ৭০টি বেআইনি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)