মেসিকে ঘিরে ১০ বছরের এক কিশোর স্বপ্ন, আসছে সুমন মৈত্রের ‘তে আমো মেসি’
শুধু একজন ফুটবলারের সঙ্গে দেখা করার গল্প নয়, ‘তে আমো মেসি’ আসলে একটি শিশুর স্বপ্ন, জেদ, আবেগ এবং সেই স্বপ্নকে আঁকড়ে এগিয়ে চলার গল্প। মৈনাকের চোখ দিয়ে দেখা হবে এমন এক পৃথিবী, যেখানে ফুটবল শুধুমাত্র একটা খেলা নয়, বরং ভালবাসা এবং অনুপ্রেরণার অন্য নাম।
স্বপ্ন দেখতে বয়স লাগে না। কখনও সেই স্বপ্ন খুব ছোট—প্রিয় মানুষটাকে একবার সামনে থেকে দেখা, তাঁর সঙ্গে দুটো কথা বলা। আবার সেই ছোট্ট স্বপ্নই কখনও একটা শিশুর গোটা পৃথিবী হয়ে ওঠে। ফুটবল আর লিওনেল মেসিকে ঘিরে তেমনই এক নিষ্পাপ স্বপ্নের গল্প বলতে আসছে পরিচালক সুমন মৈত্রের নতুন ছবি ‘তে আমো মেসি’। ছবির কেন্দ্রে রয়েছে ১০ বছরের ছোট্ট মৈনাক, যার জীবনের অন্যতম বড় ইচ্ছে তার আইডল মেসির সঙ্গে দেখা করা। সেই স্বপ্নের পথে নানা বাধা পেরিয়ে মৈনাক কতটা এগোতে পারে, সেই গল্পই পর্দায় তুলে ধরবে এই ছবি।
শুধু একজন ফুটবলারের সঙ্গে দেখা করার গল্প নয়, ‘তে আমো মেসি’ আসলে একটি শিশুর স্বপ্ন, জেদ, আবেগ এবং সেই স্বপ্নকে আঁকড়ে এগিয়ে চলার গল্প। মৈনাকের চোখ দিয়ে দেখা হবে এমন এক পৃথিবী, যেখানে ফুটবল শুধুমাত্র একটা খেলা নয়, বরং ভালোবাসা এবং অনুপ্রেরণার অন্য নাম।
গল্পের কেন্দ্রে ছোট্ট মৈনাক
ছবির গল্পের কেন্দ্রে ১০ বছরের মৈনাক। ছোট্ট বয়সেই তার মনে জায়গা করে নিয়েছে ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি। মেসিকে একবার সামনে থেকে দেখার স্বপ্নই ধীরে ধীরে মৈনাকের জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথ যে সহজ নয়, সেটাই গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। অক্ষমতাকে জয় করে মৈনাক শেষ পর্যন্ত তার স্বপ্নের কাছে পৌঁছতে পারে কি না, সেটাই হয়ে উঠবে ছবির অন্যতম আকর্ষণ।
পরিচালক সুমন মৈত্রের ভাবনায় তাই ‘তে আমো মেসি’ শুধুমাত্র স্পোর্টস-ভিত্তিক ছবি নয়। বরং একটি শিশুর মানসিক জগৎ, তার স্বপ্ন এবং সেই স্বপ্নকে ঘিরে তৈরি হওয়া আবেগের গল্প।
লিওনেল মেসিকে ঘিরে আবেগের জায়গাটা যে কতটা গভীর, তার প্রমাণ বারবার মিলেছে ফুটবল মাঠে। ২০২৬ বিশ্বকাপেও মেসিকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। এমনকী একটি ম্যাচের আগে এক খুদে ভক্ত মেসির সামনে গিয়ে আবেগে বলে ওঠে, ‘Te amo’—মেসিও হাসিমুখে তার আবেগের জবাব দেন। সেই মুহূর্তও ছড়িয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়।
আসলে মেসির প্রতি ভালবাসা অনেকের কাছেই শুধু তাঁর ফুটবল প্রতিভার জন্য নয়। একটা প্রজন্মের কাছে তিনি স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা। তাঁর খেলা দেখে বেড়ে ওঠা অসংখ্য শিশুর কাছে মেসি মানে এমন একজন মানুষ, যাঁকে দূর থেকে দেখেও নিজের স্বপ্নকে আরও বড় করে ভাবতে শেখা যায়।
সেই আবেগকেই এবার সিনেমার গল্পের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে চলেছে ‘তে আমো মেসি’। মৈনাকের স্বপ্ন তাই শুধু তার নিজের নয়—তার মধ্যে হয়তো নিজেদের ছোটবেলার কোনও অপূর্ণ স্বপ্ন খুঁজে পাবেন দর্শকরাও।
পরিচালক সুমন মৈত্রের কথায়, মানুষের আবেগের সঙ্গে ফুটবল জড়িয়ে আছে, আমারও আবেগ জড়িয়ে আছে ফুটবল নিয়ে খানিকটা সেই জায়গা থেকেই এই ছবির ভাবনা। এছাড়াও গতানুগতিক গ্ল্যামার মোড়া চরিত্র থেকে বেরিয়ে আড়ম্বরহীন সাদামাটা জীবনযাত্রা নিয়েই এই সিনেমা দর্শকদের কাছে আলাদা মাত্রা রাখবে বলেই মনে করছে টলি-মহল।
একজন শিশুর চোখে পৃথিবীটা অনেকটাই অন্যরকম। সেখানে প্রিয় মানুষকে একবার দেখা, প্রিয় তারকার সামনে দাঁড়ানো কিংবা নিজের স্বপ্নকে সত্যি হতে দেখা—সবকিছুরই আলাদা একটা জাদু রয়েছে। ‘তে আমো মেসি’ সেই জাদুকেই পর্দায় ধরার চেষ্টা করবে।
এক কথায় বলতে গেলে, মেসিকে ঘিরে ভালোবাসা, ফুটবলকে ঘিরে আবেগ আর একটি ১০ বছরের শিশুর স্বপ্ন—এই তিনের মেলবন্ধনে সুমন মৈত্রের ছবি কতটা দর্শকের মন ছুঁতে পারে, এখন সেটাই দেখার। তবে গল্পের শুরুতেই যে প্রশ্নটা ছুড়ে দেওয়া হয়েছে, তার উত্তর হয়তো ছবিটাই দেবে—স্বপ্ন যদি সত্যিই নিজের হয়, তবে তাকে পূরণ করার চেষ্টা থামানো যায় কি?
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)