প্রকৃতির ধ্বংসলীলায় সবুজ জনপদ ঢেকেছে পলিতে! স্যাটেলাইট ছবিতে ধরা পড়ল নেপালে বন্যার আগে-পরের ছবি

নদীর দু’পাশ জুড়ে যেখানে আগে ছিল সাজানো সবুজ জনপদ, রাস্তাঘাট কিংবা নদীখাত, সেখানে এখন শুধুই ঘোলাটে জল ও পলিমাটির স্তর। বিশাল জমি ও পাড় এক ধাক্কায় ধসে গিয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। দেবীঘাট, বেত্রাবতী, হাকুবেসি এবং সিয়াফরুবেসির যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনবসতি নদীর জলে পুরো আলাদা হয়ে গেছে।

Aug 27, 2026 - 17:00
0 0
প্রকৃতির ধ্বংসলীলায় সবুজ জনপদ ঢেকেছে পলিতে! স্যাটেলাইট ছবিতে ধরা পড়ল নেপালে বন্যার আগে-পরের ছবি

 প্রকৃতির ভয়াবহ রুদ্ররূপের কাছে আবারও অসহায় জনজীবন। পাহাড়ি নদী ভোটে কোশির (Bhote Koshi River) জলে ভেসে গেল ঘরবাড়ি, সেতু এবং বিঘার পর বিঘা জমি। নেপালের রসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানের (Nepal Flash Flood) তাণ্ডবের চিহ্ন সরাসরি ধরা পড়েছে উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট ছবিতে (Nepal Flood satellite image)। মহাকাশ থেকে তোলা বন্যার আগের ও পরের ছবি পাশাপাশি রাখলেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে প্রকৃতির ভয়াল রূপের চরম দৃষ্টান্ত।

‘স্টিমসন সেন্টার’ (Stimson Center)-এর সহায়তায় মহাকাশ গবেষণা ও মহাজাগতিক ইমেজিং সংস্থা ‘প্ল্যানেট ল্যাবস’ (Planet Labs)-এর মাধ্যমে এই স্যাটেলাইট ছবিগুলি সংগৃহীত। উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সিয়াফরুবেসি থেকে দেবীঘাট পর্যন্ত প্রায় পুরো নদী উপত্যকা জুড়েই ভৌগোলিক পরিস্থিতি বদলে গেছে এক নিমেষে।

প্রযুক্তির সাহায্যে নদীর গতিপথ ও তার আশপাশের ভৌগোলিক কাঠামোর ধ্বংস তুলে ধরতে মূলত চারটি কৌশলগত স্থানের ওপর নজর দেওয়া হয়েছে। উপগ্রহ ছবিগুলিতে যে চারটি প্রধান অঞ্চলের চিত্র বদলে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে সেগুলি হল:
১. দেবীঘাট (Devighat)
২. বেত্রাবতী (Betrawati)
৩. হাকুবেসি (Hakubesi) এবং
৪. সিয়াফরুবেসি (Syaphrubesi)

প্রতিটি অঞ্চলের আগের ও পরের উপগ্রহ ছবি পাশাপাশি রেখে তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, কীভাবে পলক ফেলার আগেই নিমেষে উন্মত্ত নদীর জলপ্রবাহ গিলে নিয়েছে বসতি ও সমতল ভূমিকে। ছবিগুলিতে স্পষ্টত চোখে পড়ে সেই চরম রূপান্তরের চিত্র।

নদীর দু’পাশ জুড়ে যেখানে আগে ছিল সাজানো সবুজ জনপদ, রাস্তাঘাট কিংবা নদীখাত, সেখানে এখন শুধুই ঘোলাটে জল ও পলিমাটির স্তর। বিশাল জমি ও পাড় এক ধাক্কায় ধসে গিয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। দেবীঘাট, বেত্রাবতী, হাকুবেসি এবং সিয়াফরুবেসির যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনবসতি নদীর জলে পুরো আলাদা হয়ে গেছে।

মহাকাশ থেকে পাওয়া এই ছবির প্রমাণগুলি দুর্যোগের মাত্রা বুঝতে প্রশাসনকে বিশেষ সাহায্য করছে। কেবল মাত্র নদীপ্রবাহই নয়, নদী সংলগ্ন সম্পূর্ণ এলাকা এবং সংলগ্ন বনাঞ্চল কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা উপগ্রহ ছবির মাধ্যমে স্পষ্ট।

বর্তমানে নেপালের ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’ (NDRRMA) বা জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও মহাকাশ-ভিত্তিক এই বিশ্লেষণ ও মানচিত্র ব্যবহার করা শুরু করেছে। উপগ্রহের ডেটা কাজে লাগিয়েই উদ্ধারকাজ চালানো এবং সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান নির্ধারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন সেদেশের বিপর্যয় মোকাবিলা কর্মীরা।

বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় বইতে থাকা ভোটেকোশী নদীতে আচমকাই নেমে আসে এই বিধ্বংসী হড়পা বান। কাঠমান্ডুতে আয়োজিত এক বেসরকারি সংস্থার সামিটে নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, 'রসুয়া অঞ্চলের বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষ।' যদিও ১৬৫ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত। নেপালের বিদেশমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০০ ভারতীয় (Indian nationals) এখনও নিখোঁজ। তাঁদের অধিকাংশই কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় (Mansarovar Yatra) গিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবারের বিপর্যয়ের ভয়াবহতা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। নেপাল সরকারের প্রাথমিক হিসাবে কয়েক হাজার পরিবার ঘর হারিয়েছে। বহু মানুষের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। খানাল জানান, বিপর্যয়ের পূর্ণ মাত্রা এখনও নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে কাজ করছে প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্ধারকারী দল। তবে ধ্বংসস্তূপ, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে নেপালের এই দুর্যোগের শিউরে ওঠার মতো অজস্র ছবি ও ভিডিও। যেখানে দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ি নদী ভোটেকোশীর হড়পা বানের সর্বগ্রাসী তোড়ে ঘরবাড়ি, বিস্তীর্ণ লোকালয়, পিচ রাস্তাঘাট এবং মজবুত সেতু খড়কুটোর মতো ভেসে যাচ্ছে। উঁচু পাহাড়ের বুক চুঁইয়ে নেমে আসা কাদা, পাথর আর জলের মিশ্রিত প্রচণ্ড ধস ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে একের পর এক সাজানো গ্রামকে গ্রাম।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User