পুরনো ফোন, আসবাব বা গয়না বিক্রি করছেন? কোন জিনিসে আয়কর দিতে হবে, কোনটিতে নয়

বাড়িতে পড়ে থাকা পুরনো মোবাইল, ল্যাপটপ, আসবাবপত্র কিংবা জামাকাপড় বিক্রি করে টাকা পেলেন? সেই টাকার উপর কি আয়কর দিতে হবে? আবার পুরনো সোনার গয়না বিক্রি করলে কি একই নিয়ম প্রযোজ্য?

Aug 21, 2026 - 16:26
0 0
পুরনো ফোন, আসবাব বা গয়না বিক্রি করছেন? কোন জিনিসে আয়কর দিতে হবে, কোনটিতে নয়

 বাড়িতে পড়ে থাকা পুরনো মোবাইল, ল্যাপটপ, আসবাবপত্র কিংবা জামাকাপড় বিক্রি করে টাকা পেলেন? সেই টাকার উপর কি আয়কর দিতে হবে? আবার পুরনো সোনার গয়না বিক্রি করলে কি একই নিয়ম প্রযোজ্য?

উত্তর হল—সব ব্যক্তিগত জিনিস বিক্রি করলে আয়কর দিতে হয় না। আয়কর আইনে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রীকে পারসোনাল এফেক্টস (Personal Effects) হিসেবে ধরা হয়। এই ধরনের জিনিস বিক্রি করে লাভ হলেও সাধারণত সেই লাভের উপর মূলধনী লাভের কর দিতে হয় না।

তবে সব ব্যক্তিগত সম্পত্তি এই ছাড়ের আওতায় পড়ে না। গয়না, শিল্পকর্ম, ছবি, ভাস্কর্য এবং প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহের মতো কিছু সম্পদ ব্যক্তিগত ব্যবহারের হলেও বিক্রি করে লাভ হলে কর দিতে হতে পারে।

কোন জিনিস বিক্রি করলে সাধারণত কর দিতে হয় না?

আয়কর আইনের পারসোনাল এফেক্টস সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী, ব্যক্তিগত বা পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য রাখা কিছু চলতি সম্পদ বিক্রি করলে তার উপর হওয়া লাভ সাধারণত মূলধনী লাভ হিসেবে করযোগ্য নয়।

এর মধ্যে রয়েছে—জামাকাপড় ও অন্যান্য পোশাক, বাড়ির আসবাবপত্র, বাসনপত্র ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপের মতো দৈনন্দিন ব্যবহারের ইলেকট্রনিক্স, গাড়ি বা স্কুটারের মতো ব্যক্তিগত ব্যবহারের কিছু সম্পদ।

অর্থাৎ, কয়েক বছর আগে ৮০ হাজার টাকায় কেনা একটি মোবাইল ফোন ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করলেন—এই বিক্রির উপর সাধারণভাবে মূলধনী লাভের কর দিতে হবে না। কারণ এটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী হিসেবে ‘Personal Effects’-এর মধ্যে পড়ে।
কিন্তু গয়না বিক্রি করলে কর দিতে হতে পারে এখানেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য রাখা হলেও গয়না ‘Personal Effects’-এর করমুক্ত তালিকায় নেই। ফলে পুরনো সোনার বা অন্য মূল্যবান ধাতুর গয়না বিক্রি করে লাভ হলে সেই লাভের উপর মূলধনী লাভের কর প্রযোজ্য হতে পারে।

আয়কর আইনের ক্ষেত্রে ‘জুয়েলারি’ বলতে শুধু সোনার গয়না বোঝায় না। রুপো, প্ল্যাটিনাম বা অন্য মূল্যবান ধাতু কিংবা সেগুলির সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি অলঙ্কারও এর মধ্যে পড়ে। মূল্যবান এবং অর্ধ-মূল্যবান পাথরও এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।

ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য রাখা হলেও নিম্নলিখিত জিনিস বিক্রি করে লাভ হলে করের আওতায় আসতে পারে—গয়না, প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহ, আঁকা ছবি, পেইন্টিং, ভাস্কর্য, অন্যান্য শিল্পকর্ম।  অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তি নিজের বাড়িতে বছরের পর বছর ধরে একটি দামি ছবি বা ভাস্কর্য রেখে ব্যবহার করলেও, পরে সেটি বেশি দামে বিক্রি করে লাভ হলে সেই লাভ করযোগ্য হতে পারে।

আসবাবের গায়ে দামি পাথর থাকলে? এ ক্ষেত্রেও সাবধান হওয়া দরকার। কোনও আসবাব, বাসন বা অন্য ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী যদি মূল্যবান ধাতু বা মূল্যবান/অর্ধ-মূল্যবান পাথর দিয়ে সাজানো থাকে, তাহলে সেটিও সাধারণ ‘Personal Effects’-এর করমুক্ত সুবিধা নাও পেতে পারে। একইভাবে পোশাকের সঙ্গে যদি মূল্যবান ধাতু বা পাথর ব্যবহার করা থাকে, সেটিও করের আওতায় আসতে পারে।

এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। গয়না বিক্রি করলে বিক্রি থেকে পাওয়া পুরো টাকার উপর কর বসে না। সাধারণত করের হিসাব হয় মূলধনী লাভের উপর। ধরা যাক, কোনও ব্যক্তি ২ লক্ষ টাকায় একটি সোনার গয়না কিনেছিলেন। পরে সেটি ৪ লক্ষ টাকায় বিক্রি করলেন বা নতুন গয়না কেনার সময় ৪ লক্ষ টাকা মূল্য হিসেবে গ্রহণ করা হল। সরল উদাহরণে, ক্রয়মূল্য ২ লক্ষ এবং বিক্রয়মূল্য ৪ লক্ষ টাকা হলে ২ লক্ষ টাকার পার্থক্যটি মূলধনী লাভ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদিও প্রকৃত করের হিসাব করতে আয়কর আইনের প্রযোজ্য নিয়ম, খরচ এবং সম্পত্তির ধরন বিবেচনা করতে হবে।

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গয়নার ক্ষেত্রে কী হবে? বাবা-মা বা অন্য কোনও আত্মীয়ের কাছ থেকে গয়না উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া হলে করের হিসাব কিছুটা আলাদা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মালিকের ক্রয়মূল্য এবং ধরে রাখার সময়কাল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিবেচনায় আসতে পারে। ফলে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গয়না বিক্রির আগে পুরনো ক্রয় সংক্রান্ত নথি থাকলে তা সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম রয়েছে। ‘Personal Effects’ হিসেবে বিবেচিত কোনও জিনিস বিক্রি করে ক্ষতি হলে সেই ক্ষতি অন্য মূলধনী লাভ বা আয়ের সঙ্গে সেট অফ করা যায় না। সেই ক্ষতি পরবর্তী বছরেও বহন করা যায় না।

অর্থাৎ, ব্যক্তিগত ব্যবহারের কোনও জিনিস বিক্রি করে লাভ হলে করের প্রশ্ন উঠতে পারে না, আবার ক্ষতি হলেও সেই ক্ষতি দিয়ে অন্য করযোগ্য মূলধনী লাভ কমানোর সুযোগ নেই।

বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে পুরনো জিনিস বিক্রি করার আগে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র রেখে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে গয়না, মূল্যবান সামগ্রী বা অন্য কোনও করযোগ্য সম্পদ হলে—কেনার বিল, রসিদ, বিক্রির নথি এবং ব্যাঙ্কের মাধ্যমে লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করা উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ‘পুরনো জিনিস’ মানেই করমুক্ত নয়। জিনিসটি আয়কর আইনে ‘Personal Effects’-এর সংজ্ঞায় পড়ছে কি না, সেটিই আসল। মোবাইল, জামাকাপড় বা সাধারণ আসবাবের ক্ষেত্রে নিয়ম এক রকম, কিন্তু গয়না, শিল্পকর্ম বা মূল্যবান সংগ্রহ বিক্রির ক্ষেত্রে করের নিয়ম সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে।
Disclaimer: করের হিসাব ব্যক্তির পরিস্থিতি, সম্পদের ধরন, ক্রয়-বিক্রয়ের তারিখ ও প্রযোজ্য আয়কর বিধানের উপর নির্ভর করতে পারে। বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User