পুলিশ এখনই পদক্ষেপ করতে পারবে না, মহুয়া মৈত্রের গ্রেফতারি পরোয়ানায় স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের
সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata High Court) বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৩১ অগস্ট বা পরবর্তী নির্দেশ না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে মহুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশি অ্যাকশন স্থগিত থাকবে।
নিম্ন আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা (Arrest Warrant) সত্ত্বেও কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের (Mahua Moitra) বিরুদ্ধে আপাতত কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ (Police)। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata High Court) বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৩১ অগস্ট বা পরবর্তী নির্দেশ না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে মহুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশি অ্যাকশন স্থগিত থাকবে।
অভিযোগের বহর
এ দিন আদালতে রাজ্যের সরকারি কৌঁসুলি কল্লোল মণ্ডল জানান, কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতায় (BNSS) একাধিক মারাত্মক অভিযোগ আনা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে— মহিলার শ্লীলতাহানি বা মর্যাদায় আঘাত হানার উদ্দেশ্যে শব্দ ও অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ছড়ানো, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত আচরণ, অপরাধমূলক ভয় দেখানো এবং বিদ্বেষমূলক ভাষণ (Hate Speech)।
সরকারি কৌঁসুলি জানান, এই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আদালত একাধিক বার মহুয়াকে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করায় তাঁর উদ্দেশে সমন জারি করা হয়। সমন সত্ত্বেও আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ১৮ অগস্ট (বুধবার) নিম্ন আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
এক্তিয়ার নিয়ে সওয়াল ও বিচারপতির পর্যবেক্ষণ
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি দেবাংশু বসাক মহুয়া মৈত্রের আইনজীবীর উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘‘‘প্রি-কগ্নিজেন্স’ (মামলা গ্রহণের পূর্ববর্তী) স্টেজেই আপনারা আদালতে যাননি কেন?’’ জবাবে মহুয়ার আইনজীবী দেবাশিস রায় সওয়াল করেন, সংশ্লিষ্ট তৃতীয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের এই বিচার করার আইনি এক্তিয়ারই নেই। যেহেতু মহুয়া মৈত্র এক জন নির্বাচিত সাংসদ, তাই এই বিচার প্রক্রিয়া কেবল বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতেই পরিচালিত হতে পারে।
বিচারপতি দেবাংশু বসাক তখন মন্তব্য করেন, এটি জামিনযোগ্য অপরাধের শামিল এবং সাংসদের আদালতে যাওয়া উচিত ছিল।
পুলিশি প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ
জবাবে আইনজীবী দেবাশিস রায় জানান, তাঁর মক্কেল বিষয়টি এড়িয়ে যাননি। পাশাপাশি তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দাবি করেন, মহুয়াদেবীর বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে কোনও এফআইআর বা লিখিত পুলিশি অভিযোগই ছিল না। উল্টে গত ১৬ জুন মহুয়ার তরফ থেকে অপরপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার পর, সেই আইনি পদক্ষেপের পাল্টা হিসেবেই তাঁর বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি মামলা সাজানো হয়েছে। পুলিশের এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়াকেই তাঁরা হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আপাতত গ্রেফতারি পরোয়ানার কার্যকারিতার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে সাংসদকে স্বস্তি দিল। আগামী ২৭ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)