বিয়ে ভাঙছে রণজয়-শ্যামৌপ্তি! বিচ্ছেদের নেপথ্যের কারণ কী?
টলিপাড়ায় গত দু'মাস ধরে একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু এবং অভিনেত্রী শ্যামৌপ্তি মুদলির দাম্পত্য সম্পর্কে কি সত্যিই ভাঙন ধরেছে? কয়েক মাস আগেও যাঁদের বিয়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছিল, আজ তাঁদের সম্পর্ক নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা।
টলিপাড়ায় গত দু'মাস ধরে একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু এবং অভিনেত্রী শ্যামৌপ্তি মুদলির (Ranojoy Bishnu, Ranojoy Bishnu Marriage, Ranojoy bishnu divorce, shyamoupti mudly) দাম্পত্য সম্পর্কে কি সত্যিই ভাঙন ধরেছে? কয়েক মাস আগেও যাঁদের বিয়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছিল, আজ তাঁদের সম্পর্ক নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে নানা গুঞ্জনের মধ্যেই দ্য ওয়ালের হাতে এসেছে এমন কিছু তথ্য, যা এই সম্পর্কের অন্দরমহল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং দুই পক্ষের কেউই প্রকাশ্যে সেগুলি স্বীকার বা অস্বীকার করেননি।
ইন্ডাস্ট্রির ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই রণজয় ও শ্যামৌপ্তির সম্পর্কে অশান্তি চলছিল। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে বিচ্ছেদের সম্ভাবনাও উঠে এসেছে। মূল মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল অর্থনৈতিক বিষয়, মূলত, বিয়ের সময় পাওয়া অর্থ নিয়েই বলেই জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, বিয়ের পর তাঁদের মধ্যে বেশ কিছু আর্থিক লেনদেন নগদে হয়েছিল। অভিযোগ, সেই লেনদেনের কোনও লিখিত নথি বা প্রমাণ শ্যামৌপ্তির কাছে নেই। পাশাপাশি সম্পত্তি নিয়েও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে ওয়াকিবহাল মহলের দাবি। জানা গিয়েছে, শ্যামৌপ্তির নিজের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যেখানে বর্তমানে তাঁর বাবা-মা থাকেন। তবে একটি গাড়ি তিনি রণজয়ের নামে কিনেছিলেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। এখন সেই গাড়ির মালিকানা ফের নিজের নামে আনার চেষ্টা শুরু করেছেন অভিনেত্রী, বলে সূত্রের বক্তব্য।
সম্পর্কের শুরুটা ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। শ্যামৌপ্তি একটি বড় প্রযোজনার ছবিতে সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই সম্পর্কে অস্বস্তি বাড়তে থাকে বলে ইন্ডাস্ট্রির একাংশের বক্তব্য। তাঁদের মতে, পেশাগত প্রতিযোগিতার প্রভাব ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত জীবনেও পড়তে শুরু করেছিল।
রণজয়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা এবং আত্মবিশ্বাসের অভাব কাজ করত বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনও বলা হচ্ছে, শ্যামৌপ্তির সাফল্য সহজভাবে নিতে পারতেন না তিনি। একসময় নিজের স্ত্রীকেও প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতে শুরু করেছিলেন বলেই দাবি ঘনিষ্ঠ মহলের। অতীতের একটি সম্পর্কেও একই ধরনের সমস্যার অভিযোগ ছিল বলেও কয়েকজনের বক্তব্য।
বন্ধুত্বের বিষয়েও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শ্যামৌপ্তির কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা নিয়ে রণজয়ের আপত্তি ছিল বলে অভিযোগ। এমনকি এক পুরনো বন্ধুর সঙ্গে কথা বলাকে কেন্দ্র করেও একাধিকবার অশান্তির সৃষ্টি হয়েছিল বলে শোনা যাচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ অবশ্য আর্থিক আচরণকে ঘিরে। ওয়াকিবহালদের বক্তব্য, সামান্য খরচ করলেও পরে তার বহুগুণ ফেরত পাওয়ার মানসিকতা ছিল রণজয়ের। এমনও অভিযোগ উঠেছে যে, আর্থিক স্বার্থই এই বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হয়ে উঠেছিল।
দাম্পত্য জীবন নিয়েও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বয়সের পার্থক্য নিয়ে প্রায়ই শ্যামৌপ্তিকে মানসিক চাপে রাখা হত বলে অভিযোগ। পাশাপাশি সম্পর্কে মানসিক দূরত্ব, নিয়মিত অশান্তি, চিৎকার, অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি এক রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারকেও কেন্দ্র করে অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। বিয়ের অধিকাংশ খরচ শ্যামৌপ্তির পরিবার বহন করেছিল বলে ইন্ডাস্ট্রির একাংশের বক্তব্য। বিয়ের পর দীর্ঘদিন শ্বশুরবাড়ির একাধিক সদস্য একসঙ্গে থাকতেন, যা নিয়েও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে খবর।
পরিস্থিতি প্রকাশ্যে আসার আগে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। শ্যামৌপ্তির সঙ্গে মুখোমুখি বসে কথা বলার জন্য বারবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। এই সব ঘটনার পর থেকেই টলিপাড়ায় বিচ্ছেদের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। রণজয় ও শ্যামৌপ্তির প্রেমের শুরু হয়েছিল একটি বাংলা ধারাবাহিকের সেটে। পরে আইনি বিয়ে, তারপর সামাজিক বিয়ে। সবকিছুই যেন রূপকথার মতো এগিয়েছিল। কিন্তু সেই বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পর্কে ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই বিস্মিত।
এই জল্পনার মাঝেই রণজয় বিষ্ণুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন তোলেননি। শ্যামৌপ্তি মুদলির সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এই ব্যাপারে কোনও মন্তব্য নেই।’ এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে টলিপাড়ার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। যদিও আর্টিস্টস ফোরামের একটি অনুষ্ঠানে শেষবার দু'জনকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল।
অন্যদিকে, রণজয় এখন স্টার জলসার 'প্রতিজ্ঞা' ধারাবাহিকে অভিনেত্রী অভিকা মালাকারের সঙ্গে অভিনয় করছেন। পর্দায় তাঁদের 'অভি-ছুটি' জুটি ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়। সেই জনপ্রিয়তার পাশাপাশি অফস্ক্রিনেও তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে স্টুডিওপাড়ায় নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যদিও এই জল্পনার সত্যতা সম্পর্কে কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আসেনি এবং রণজয় বা অভিকা কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে, শ্যামৌপ্তি পাঁচ মাসের বিয়ের প্রায় সব ছবিই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছেন বলে নেটিজেনদের একাংশের নজরে এসেছে। সেই ঘটনাকেও অনেকে বর্তমান জল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন।
তবে তাঁদের সম্পর্কে দূরত্বের প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। সাংসারিক মতবিরোধ, পেশাগত প্রতিযোগিতা কিংবা তৃতীয় কোনও ব্যক্তির উপস্থিতি—সবকিছু নিয়েই ইন্ডাস্ট্রিতে নানা আলোচনা চলছে। কিন্তু এই মুহূর্তে তার অধিকাংশই অভিযোগ, পর্যবেক্ষণ এবং ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে। সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের কেউই এখনও প্রকাশ্যে এই অভিযোগগুলির সত্যতা স্বীকার বা খণ্ডন করেননি। ফলে রণজয় ও শ্যামৌপ্তির সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)