বেশি ঘাম মানেই কি দ্রুত মেদ ঝরছে? ওয়েটলস ও ডায়েট নিয়ে ৩টি জনপ্রিয় ‘ভুল’ চিনিয়ে দিলেন বিশেষজ্ঞ
বেশি ঘামলেই কি বেশি চর্বি কমে? রাত ৮টার পর খেলে কি ওজন বাড়ে? গ্লুটেন কি সবার জন্য ক্ষতিকর? সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই ৩টি বড় স্বাস্থ্য ও ফিটনেস সংক্রান্ত মিথ বৈজ্ঞানিকভাবে ভেঙে দিলেন ডায়েটিশিয়ান।
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের দুনিয়ায় সঠিক তথ্যের চেয়ে ভুল তথ্য বা ‘মিথ’ অনেক বেশি দ্রুত ছড়ায়। বছরের পর বছর ধরে আমরা পরিবার, বন্ধু-বান্ধব বা সোশ্যাল মিডিয়ার ইনফ্লুয়েন্সারদের কাছ থেকে এমন কিছু স্বাস্থ্য পরামর্শ বা টিপস শুনে আসছি, যা শুনতে খুব যুক্তিযুক্ত মনে হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে তার কোনও ভিত্তি নেই। এর মধ্যে কিছু পরামর্শ হয়তো ক্ষতিকর নয়, কিন্তু কিছু টিপস মানুষকে এমন এক ডায়েট বা লাইফস্টাইলের দিকে ঠেলে দেয় যা তার শরীরের জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়।
সম্প্রতি ডায়েটিশিয়ান নমামি আগরওয়াল তাঁর একটি ইন্সটাগ্রাম পোস্টে এমনই ৩টি অত্যন্ত জনপ্রিয় অথচ সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর স্বাস্থ্য পরামর্শের পেছনের আসল সত্যটি তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, “সবচেয়ে জনপ্রিয় স্বাস্থ্য পরামর্শগুলোর কিছু কিছু আসলে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তিকর।”
মিথ ১: যত বেশি ঘামবেন, তত বেশি চর্বি বা ফ্যাট গলবে
জিম বা ওয়ার্কআউটের সময় আমরা প্রায়ই শুনি—‘বডি থেকে যত ঘাম ঝরবে, মেদ তত দ্রুত গলবে’। অনেকে তো ঘাম বাড়ানোর জন্য এসির নীচে ওয়ার্কআউট করতে চান না বা উইন্ডব্রেকার স্যুট পরে ব্যায়াম করেন।
আসল সত্য: পুষ্টিবিদ নমামি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ঘাম হওয়া মানে আপনার শরীর নিজেকে ঠান্ডা করছে, চর্বি গলানো নয়।” যখন আমরা কঠোর পরিশ্রম করি, তখন শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। সেই তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মস্তিষ্ক ঘর্মগ্রন্থিগুলোকে সক্রিয় করে তোলে।
ব্যায়ামের ঠিক পরপরই ওজনে যে সামান্য হ্রাস দেখা যায়, তা আসলে সাময়িক ‘ওয়াটার ওয়েট’ (Water Weight) বা জলের ওজন। জল বা তরল খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই এই ওজন আবার আগের জায়গায় ফিরে আসে। শরীরের ফ্যাট বা মেদ ঝরার প্রক্রিয়াটি ঘটে ক্যালোরি ঘাটতি (Calorie Deficit) এবং শক্তির অভ্যন্তরীণ খরচের মাধ্যমে, যার সাথে ঘাম হওয়ার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
মিথ ২: গ্লুটেন (Gluten) সবার শরীরের জন্যই ক্ষতিকর
আজকাল ‘গ্লুটেন-ফ্রি ডায়েট’ (Gluten-free Diet) একটি ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া মডেলরা সবাই আটা, গম, বার্লি ইত্যাদিতে থাকা গ্লুটেন নামক প্রোটিনটিকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
আসল সত্য: নমামি আগরওয়ালের মতে, গ্লুটেন সবার জন্য খারাপ—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। গ্লুটেন কেবল তাঁদের জন্যই ক্ষতিকর যাঁদের ‘সিলিয়াক রোগ’ (Coeliac Disease) আছে বা যাঁরা তীব্র ‘গ্লুটেন সেনসিটিভিটি’-তে ভুগছেন। সাধারণ মানুষের জন্য গমের মতো গোটা শস্য (Whole Grains) অত্যন্ত উপকারী, কারণ এগুলো শরীরে ফাইবারের জোগান দেয় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য বা গাট হেলথ (Gut Health) ভালো রাখতে সাহায্য করে। বিনা কারণে গ্লুটেন বাদ দিলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে।
মিথ ৩: রাত ৮টার পর খেলেই ওজন বাড়ে
ওজন কমানোর চক্করে অনেকেই রাত ৮টা বাজার আগেই রাতের খাবার বা ডিনার সেরে ফেলেন এবং ভাবেন এর পরে কিছু খেলেই তা সরাসরি চর্বি হিসেবে জমা হবে।
আসল সত্য: পুষ্টিবিদ এই মিথটিকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, “রাত ৮টার পর আপনার মেটাবলিজম (Metabolism) বা বিপাকক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় না।”
ওজন বাড়া বা কমা মূলত নির্ভর করে আপনি সারাদিনে মোট কতটা ক্যালোরি গ্রহণ করছেন (Total Calorie Intake) তার ওপর, ঘড়ির কাঁটার ওপর নয়। তবে রাতের খাবারের ক্ষেত্রে শরীরের ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ (Circadian Rhythm) বা অভ্যন্তরীণ ঘড়ি, খাবারের গুণমান (Food Quality) এবং ঘুমানোর সময়ের ব্যবধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাতে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত বা ভারী খাবার খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে, কিন্তু নিয়ম মেনে হালকা খাবার খেলে ওজন বাড়ে না।
এক নজরে: ৩টি চেনা মিথ বনাম বিজ্ঞানের আসল সত্য

আসলে, ডায়েট অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি বিষয় এবং প্রত্যেকের শরীরের কার্যপদ্ধতি আলাদা। স্বাস্থ্যকর খাবার এবং ডায়েটের ক্ষেত্রে ‘ওয়ান-সাইজ-ফিটস-অল’ (সবার জন্য একই নিয়ম) টাইপের সস্তা পরামর্শ কখনও মেনে চলা উচিত নয়।
ডিসক্লেমার: এই প্রতিবেদনটি পুষ্টিবিদ নমামি আগরওয়ালের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং সাধারণ পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সচেতনতার উদ্দেশে রচিত। আপনার শরীরের গঠন ও প্রয়োজন অনুযায়ী ডায়েট চার্ট তৈরি করতে সর্বদা একজন সার্টিফাইড ডায়েটিশিয়ান বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।
Disclaimer: The biochemical and metabolic insights refuting common lifestyle anomalies—specifically clarifying that diaphoresis (sweating) is strictly an autonomic thermoregulatory mechanism and not an indicator of adipose tissue oxidation, that gluten-induced enteropathy is clinically restricted to individuals with diagnosed coeliac disease, and that nocturnal basal metabolic rate (BMR) functions continuously regardless of arbitrary temporal constraints—are provided solely for public health literacy. Dietary frameworks must be clinically individualized based on physiological parameters rather than generalized fitness trends.
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)