মানকুণ্ডু মানসিক হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি

দীর্ঘদিন ভগ্ন দশা থাকার পর সরকারি সাহায্যে পুরনো ভবন সংস্কার ও নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়। ৬০ শয্যার তিনতলা ভবন তৈরি হয়। ২০১১ সালে ভদ্রেশ্বর পুরসভা পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।

Aug 07, 2026 - 12:05
0 0
মানকুণ্ডু মানসিক হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি

মানকুণ্ডু মানসিক হাসপাতালের নাম বদলে হয়েছিল আনন্দ আশ্রম। সেই আনন্দ আশ্রমে ভুরি ভুরি বেনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হল।

হাওড়া ব্যান্ডেল মেন লাইনে পশ্চিম পারে মানকুণ্ডু মানসিক হাসপাতাল। ১৯৩৯ সালে প্রায় ২২ বিঘা জমির উপর এই হাসপাতাল তৈরি করেছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক হরনাথ বসু। মানসিক রোগীদের চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতাল চালু হয়েছিল। পরে একটা সময় এই হাসপাতাল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। চালু ছিল শুধু আউটডোর পরিষেবা। দীর্ঘদিন ভগ্ন দশা থাকার পর সরকারি সাহায্যে পুরনো ভবন সংস্কার ও নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়। ৬০ শয্যার তিনতলা ভবন তৈরি হয়। ২০১১ সালে ভদ্রেশ্বর পুরসভা পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।

কিন্তু সম্প্রতি স্বাধীনতার আগে তৈরি এই হাসপাতাল নিয়ে বহু অভিযোগ সামনে এসেছে। বিধানসভা নির্বাচনের পরপরই ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান সহ তৃণমূল কাউন্সিলররা পদত্যাগ করেন। পুরবোর্ড ভেঙে যায়। ফলে মানসিক হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন অনিয়মিত হয়ে পড়ে। তারা গত তিন মাস বেতন পাননি বলে দাবি। চন্দননগর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ ভদ্রেশ্বর পুরসভার পুরপ্রশাসক তথা চন্দনগর মহকুমা শাসক আশুতোষ কুমার মানসিক হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।

অভিযোগ মানসিক হাসপাতালের জায়গায় তৈরি হয়েছে শতাধিক দোকানঘর। সেই দোকান ঘর টাকা নিয়ে বিক্রি করা হলেও এখন হ্যান্ডওভার হয়নি। ৮০ হাজার থেকে দু লাখ টাকা দিয়েও দোকান ঘর পাননি এরকম অনেকেই রয়েছেন।
হাসপাতালের ভিতরে থাকা পুকুর, গাছ, সাইকেল স্ট্যান্ড নিয়েও পরিকাঠামোগত দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সুশীল কুণ্ডু বলেন, "ভদ্রেশ্বর পুরসভা টাকা নিয়েছে কিন্তু দোকান ঘর দেয়নি। আর বাইরের লোককে দোকান ঘর বিক্রি করেছে। যারা তৃণমূলের ঝান্ডা ধরেছে তারাই পেয়েছে। এইসব জায়গা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিক হাসপাতালের উন্নতি করুক।"

বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ বলেন, "দেশের দ্বিতীয় প্রাচীন মানসিক হাসপাতাল অথচ এখানে পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থা নেই।চন্দননগর বিধানসভা এলাকা ও ভদ্রেশ্বর পুরসভায় অনেক প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়েছে। সেগুলো একে একে আমরা খুঁজে বার করছি। পুরসভার প্রশাসক সেগুলো দেখছেন। প্রথমে এখানে যারা কর্মীরা রয়েছেন তাদের বেতনের ব্যাপারটা দেখা হচ্ছে। অনেকে রয়েছেন যারা পুরসভায় চাকরি করেন আবার মানসিক হাসপাতালেও চাকরি করেন। সে সব খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। আগের সরকার কীভাবে মানুষকে শোষণ করেছে তার উদাহরণ হচ্ছে এই হাসপাতাল।"

তিনি জানান, যেহেতু পুরসভার যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা পদত্যাগ করেছেন তাই হাসপাতালের প্রশাসন চালানোর জন্য তাঁরা ব্যবস্থা নিয়েছেন। ভদ্রেশ্বরের অঙ্কুর হাসপাতাল যে ভাবে চলছে ঠিক সেভাবেই এটা চলবে। কর্মী সংখ্যা কম রয়েছে এখানে, তাই নিয়োগের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

চন্দননগরের মহকুমাশাসক বলেন, "যেহেতু এই হাসপাতালে অনেক রোগী রয়েছে তাই তাদের যাতে চিকিৎসায় ব্যাঘাত না হয় সেটা দেখা আমাদের দায়িত্ব। হাসপাতালটা যাতে ভালোভাবে চলে তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি যেসব বিষয়গুলো সামনে এসেছে সেগুলো দেখা হচ্ছে।" তিনি জানান, কিছু অবৈধ নির্মাণ-সহ অন্যান্য বিষয়ে অভিযোগ এসেছে সেগুলো নিয়ে তাঁরা একটা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি তৈরি করছেন। কমিটি খতিয়ে দেখবে যে ঠিক কী হয়েছে। কোথায় কোথায় নিয়ম মানা হয়নি। রোগীদের ওষুধ খাবার জল এগুলো নিয়ে কোনওভাবেই কম্প্রোমাইজ করা হবে না।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User