সিঙ্গুরে কেমিক্যাল হাব করা যেতে পারে, শুভেন্দুকে ‘পরামর্শ’ দিয়ে চিঠি শমীক ভট্টাচার্যের

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-কে লেখা এক চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, এটি পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব সুযোগ। অন্য রাজ্যগুলি আবেদন করার আগেই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্র সরকারের কাছে রাজ্যের দাবি জোরালোভাবে পেশ করা উচিত।

Jul 30, 2026 - 12:59
0 0
সিঙ্গুরে কেমিক্যাল হাব করা যেতে পারে, শুভেন্দুকে ‘পরামর্শ’ দিয়ে চিঠি শমীক ভট্টাচার্যের

কেন্দ্র সরকারের নতুন ৩,০৩০ কোটি টাকার 'ভব্য রসায়ন' (BHAVYA Rasayan) প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে বাংলায় এক বিশাল কেমিক্যাল পার্ক গড়ে তোলার আর্জি জানালেন বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তা কোথায় করা যেতে পারে, তাও বাতলে দিতে চাইলেন শমীক। তাঁর কথায়, জমি নিয়ে বিতর্ক না হলে তা সিঙ্গুরেও করা যেতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-কে লেখা এক চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, এটি পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব সুযোগ। অন্য রাজ্যগুলি আবেদন করার আগেই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্র সরকারের কাছে রাজ্যের দাবি জোরালোভাবে পেশ করা উচিত।

গত ২৪ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা দেশজুড়ে প্রতিযোগিতামূলক 'চ্যালেঞ্জ রুট'-এর মাধ্যমে তিনটি আধুনিক কেমিক্যাল পার্ক গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রকল্পে নির্বাচিত প্রতিটি পার্কের জন্য কেন্দ্র সর্বোচ্চ ১,০০০ কোটি টাকা অনুদান দেবে।

এখানে জানিয়ে রাখা দরকার, শুধু কেমিক্যাল হাব গড়ার জন্যই নয়, সেমি কন্ডাক্টর শিল্পে বড় বিনিয়োগ টানতেও উৎসাহ দিচ্ছে কেন্দ্রের সরকার। এ ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি কিছুদিন আগে খোলাখুলিই জানিয়েছেন, বাংলায় সেমি কন্ডাক্টর শিল্পে বিনিয়োগের জন্য টাটাদের প্রস্তাব দেবেন তিনি।

কেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ‘ভব্য রসায়ন’ প্রকল্প?

শমীক ভট্টাচার্য তাঁর চিঠিতে স্পষ্ট করেছেন, রাজ্য সরকার যদি এই প্রকল্পে সাফল্য পায়, তবে কেবল সরকারি অনুদানই নয়, বরং ভবিষ্যতে হাজার হাজার কোটি টাকার দেশি ও বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগ বাংলায় আসবে।

এই প্রকল্পের প্রধান সুবিধাসমূহ মোটামুটি এরকম—কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিয়ে অন্তত ১,৫০০ কোটি টাকার পরিকাঠামো গড়ে উঠবে। কেমিক্যাল, নির্মাণ, লজিস্টিক্স এবং ক্ষুদ্র-মাঝারি (MSME) শিল্পে প্রচুর নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বস্ত্র, ওষুধ (Pharma), ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল এবং কৃষি শিল্প প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাভবান হবে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কমন এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (CETP) তৈরির সুযোগ মিলবে।

সিঙ্গুর থেকে হলদিয়া: ৪টি সম্ভাব্য জায়গার প্রস্তাব

চিঠিতে সম্ভাব্য কেমিক্যাল পার্ক গড়ার জন্য রাজ্যের ৪টি কৌশলগত জায়গার নাম প্রস্তাব করেছেন সাংসদ— সিঙ্গুর, হলদিয়া, রঘুনাথপুর এবং দুর্গাপুর। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রাজ্য সরকার চাইলে পরিকাঠামো অনুযায়ী অন্য কোনও উপযোগী বিতর্কমুক্ত জমি বেছে নিতে পারে। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী রাজ্যকে অন্তত ২,০০০ একর নিরবচ্ছিন্ন জমি চিহ্নিত করতে হবে এবং ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক অংশীদারিত্ব দিতে হবে।

রাজ্যকে দ্রুত এগিয়ে রাখতে শমীক ভট্টাচার্য ৪টি মূল পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শিল্প দফতর ও WBIDC-কে নিয়ে দ্রুত আন্তঃবিভাগীয় টাস্ক ফোর্স গড়ে আবেদন প্রস্তুত করা। ২,০০০ একর বিতর্কমুক্ত জমির মালিকানা ও প্রস্তুতি সংক্রান্ত নথি গুছিয়ে রাখা। আগামী রাজ্য বাজেটে প্রয়োজনীয় ৫০০ কোটি টাকার অংশীদারিত্বের বন্দোবস্ত রাখা এবং কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও পেট্রোরসায়ন মন্ত্রকের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রাখা।

সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে কেন্দ্রীয় স্তরে সমন্বয় সাধনের জন্য তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। চিঠিটির অনুলিপি রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং শিল্প সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User